শিরোনাম

আমার আইডল নেইমার, কিন্তু সর্বকালের সেরা মেসি: ইয়ামাল

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
আমার আইডল নেইমার, কিন্তু সর্বকালের সেরা মেসি: ইয়ামাল
লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামাল এবং নেইমার। কোলাজ: সিজেডএন গ্রাফিক্স

স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল ইতিমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে সেইসব কিংবদন্তিদের সঙ্গে খেলছেন, যাদের খেলা দেখে তিনি বড় হয়েছেন। ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া এই খেলোয়াড় শুধু তার পারফরম্যান্সের জন্যই নয় বরং ফুটবলের সর্বশ্রেষ্ঠ তারকাদের প্রতি তার মুগ্ধতার জন্যও ক্রমাগত মনোযোগ আকর্ষণ করে চলেছেন। এবার সর্বকালের সেরা (জিওএটি) খেলোয়াড়ের নাম জানালেন তরুণ এই খেলোয়াড়।

সৌদি আরবের বিপক্ষে স্পেনের গ্রুপ ‘এইচ’ ম্যাচের আগে ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকে নিয়ে মুখ খুলেছেন। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মেসির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে বিজয়ী হয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচে মেসি বিশ্বকাপে তার ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন এবং জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন।

মেসির পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়ায় আটবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর প্রশংসা করতে দ্বিধা করেননি ইয়ামাল। ইয়ামাল বলেন, ‘মেসির হ্যাটট্রিক? তার খেলা প্রতিটি ম্যাচই প্রমাণ করে যে সে ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। যদি কারও এখনও সন্দেহ থাকে, তবে তার কারণ হলো তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সন্দেহ খুঁজছে।’

আর্জেন্টাইন তারকার প্রশংসা করার পাশাপাশি ইয়ামাল সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি একজন ব্রাজিলিয়ান তারকাকে আদর্শ মানেন। সেই তারকা হলেো নেইমার জুনিয়র।

তার ভাষায়, ‘আমার আদর্শ নেইমার, কিন্তু মেসি সর্বকালের সেরা।’

এই স্প্যানিশ তারকা নেইমার জুনিয়রকে তার ব্যক্তিগত অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং মেসিকে সর্বকালের সেরা হিসেবে গণ্য করেন। তারা তিনজনই বার্সেলোনার হয়ে খেলেছেন। তবে ইয়ামাল এবং মেসি ক্লাবটির লা মাসিয়া একাডেমিতেও সময় কাটিয়েছেন।

এই কিশোর বিস্ময় বর্তমানে বার্সেলোনার হয়ে ১০ নম্বর জার্সি পরেন, যে জার্সি নম্বরটি একসময় মেসিও পরতেন। ২০০৭ সালে তাদের দুজনের একটি ফটোশুট পুনরায় ভাইরাল হয়েছে। মেসির বিশ্বকাপ অভিষেকের এক বছর পর ইউনিসেফ ও বার্সেলোনার একটি দাতব্য প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই আর্জেন্টাইন তারকা একটি শিশুকে কোলে নিয়ে ফটোশুট করেছিলেন। দেখা গেল শিশুটি আর কেউ নন, স্বয়ং ইয়ামাল।

যদিও দুজনের মধ্যে কিছুটা মিল রয়েছে। দুজনেরই বাঁ-পায়ে শট নেওয়ার ক্ষমতা প্রায় একই রকম। তবুও নেইমারের প্রতি এই স্প্যানিশ খেলোয়াড়ের মুগ্ধতার কারণও বেশ যৌক্তিক। বল পায়ে ইয়ামালের সহজাত দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্রাজিলিয়ান এই খেলোয়াড়ের খেলার ধরনের মিল রয়েছে।

মেসি ও নেইমার হয়তো তাদের শেষ বিশ্বকাপে খেলছেন। সেখানে ইয়ামাল ফুটবলের অন্যতম উজ্জ্বল তরুণ তারকা হিসেবে অভিষেক করছেন। স্পেনের ২০২৪ উয়েফা ইউরো জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং টুর্নামেন্টে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন। এবারও তার সামনে সেই সুযোগ রয়েছে।

যদিও কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচের বেশিরভাগ সময় তিনি সাইডলাইন থেকে দেখেছেন। ইয়ামাল দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামলেও মাত্র দুটি শট নিতে পেরেছিলেন। এতে তেমন কোনো পার্থক্য গড়তে পারেননি।

এদিকে ইয়ামালের আইডল নেইমারের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন। কারণ কাফ মাসলের ইনজুরির কারণে নেইমার প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি। হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয় ম্যাচেও তিনি একাদশে নেই।

আসন্ন ম্যাচগুলোতে ইয়ামালকে এখনও অনেক কিছু প্রমাণ করতে হবে। টুর্নামেন্ট জেতার অন্যতম দাবিদারদের মধ্যে স্পেনও রয়েছে। ১৮ বছর বয়সে সবচেয়ে বড় মঞ্চে জয়লাভ করাটা নিঃসন্দেহে এমন একটি অর্জন, যা ইয়ামাল তার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ও আদর্শের চেয়ে অনেক আগেই করতে পারবেন।

সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস

/জেএইচ/