বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ: জাতীয় শ্রমিক শক্তি

বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ: জাতীয় শ্রমিক শক্তি
সিটিজেন ডেস্ক

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ ও জনস্বার্থবিরোধী। অবিলম্বে শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়ন ও শ্রমজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির উদ্যোগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির এবং সদস্যসচিব আজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচক ছিলেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক এবং শ্রম সংষ্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান এবং এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
সেমিনারের শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান আহমদ বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। যা দেশের বিপুল শ্রমশক্তির উন্নয়ন ও কল্যাণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিদেশগামী শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাসে কার্যকর কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা বরাদ্দ নেই।
এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল উল্লেখ করেন 'শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও বাজেটে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।'
শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ হলেও জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো অর্থবহ পরামর্শ বা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। বাজেটে শ্রমিক শ্রেণির বাস্তব চাহিদা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাই এই বাজেটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে যে, দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন, শিক্ষার সুযোগ, পেনশন ব্যবস্থা এবং বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাজেটে কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বলেও বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
আলোচনার শ্রমিক নেতারা একজোট হয়ে বর্তমান বাজেটের মূল্যায়ন ও পরবর্তী বাজেটের আগে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ করে তাদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে বাজেটে শ্রমিকের জন্যে কি কি থাকবে তা নির্ধারণ করতে সরকারকে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাজেটকে হাওয়াই মিঠাইয়ের সাথে তুলনা করে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের বাজেট প্রণয়নের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সেই কুখ্যাত আবুল বারাকাতের মৌলবাদের অর্থনীতির তত্ত্ব বিএনপির ওপর ভর করেছে।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির প্রস্তাবনা ও দাবি
সেমিনার থেকে জাতীয় শ্রমিক শক্তি জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে নিম্নোক্ত দাবি উপস্থাপন করে—শ্রমিকদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য জাতীয় তহবিল গঠন এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পেনশন, স্বাস্থ্যবিমা এবং বেকারত্বকালীন সহায়তা চালু; শ্রমিক কল্যাণ তহবিলকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীন কার্যক্রম এবং বিদ্যমান শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা ও পৃথক বরাদ্দ রাখতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমান বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাই জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই বাজেটকে শ্রমিকবান্ধব নয় এবং গণবিরোধী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল শক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের স্বার্থ, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শ্রমিক-কৃষক-জনগণের অংশগ্রহণে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ ও জনস্বার্থবিরোধী। অবিলম্বে শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়ন ও শ্রমজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির উদ্যোগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির এবং সদস্যসচিব আজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচক ছিলেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক এবং শ্রম সংষ্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান এবং এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
সেমিনারের শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান আহমদ বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। যা দেশের বিপুল শ্রমশক্তির উন্নয়ন ও কল্যাণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিদেশগামী শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাসে কার্যকর কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা বরাদ্দ নেই।
এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল উল্লেখ করেন 'শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও বাজেটে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।'
শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ হলেও জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো অর্থবহ পরামর্শ বা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। বাজেটে শ্রমিক শ্রেণির বাস্তব চাহিদা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাই এই বাজেটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে যে, দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন, শিক্ষার সুযোগ, পেনশন ব্যবস্থা এবং বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাজেটে কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বলেও বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
আলোচনার শ্রমিক নেতারা একজোট হয়ে বর্তমান বাজেটের মূল্যায়ন ও পরবর্তী বাজেটের আগে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ করে তাদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে বাজেটে শ্রমিকের জন্যে কি কি থাকবে তা নির্ধারণ করতে সরকারকে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাজেটকে হাওয়াই মিঠাইয়ের সাথে তুলনা করে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের বাজেট প্রণয়নের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সেই কুখ্যাত আবুল বারাকাতের মৌলবাদের অর্থনীতির তত্ত্ব বিএনপির ওপর ভর করেছে।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির প্রস্তাবনা ও দাবি
সেমিনার থেকে জাতীয় শ্রমিক শক্তি জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে নিম্নোক্ত দাবি উপস্থাপন করে—শ্রমিকদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য জাতীয় তহবিল গঠন এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পেনশন, স্বাস্থ্যবিমা এবং বেকারত্বকালীন সহায়তা চালু; শ্রমিক কল্যাণ তহবিলকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীন কার্যক্রম এবং বিদ্যমান শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা ও পৃথক বরাদ্দ রাখতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমান বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাই জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই বাজেটকে শ্রমিকবান্ধব নয় এবং গণবিরোধী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল শক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের স্বার্থ, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শ্রমিক-কৃষক-জনগণের অংশগ্রহণে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ: জাতীয় শ্রমিক শক্তি
সিটিজেন ডেস্ক

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট শ্রমজীবী মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ ও জনস্বার্থবিরোধী। অবিলম্বে শ্রমিকবান্ধব বাজেট প্রণয়ন ও শ্রমজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির উদ্যোগে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির এবং সদস্যসচিব আজ মোর্শেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে আলোচক ছিলেন বিলসের নির্বাহী পরিচালক এবং শ্রম সংষ্কার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ লেবার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আখতার চৌধুরী, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক বাদল খান এবং এনসিপির যুগ্ম মূখ্য সংগঠক আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল।
সেমিনারের শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সুলতান আহমদ বলেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরের তুলনায় কমানো হয়েছে। যা দেশের বিপুল শ্রমশক্তির উন্নয়ন ও কল্যাণের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
শাকিল আখতার চৌধুরী বলেন, বাজেটে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক নিরাপত্তা ও বিদেশগামী শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাসে কার্যকর কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা বরাদ্দ নেই।
এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল উল্লেখ করেন 'শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও বাজেটে তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।'
শ্রমিক শক্তির সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ বলেন, রাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি শ্রমজীবী মানুষ হলেও জাতীয় বাজেট প্রণয়নের সময় শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো অর্থবহ পরামর্শ বা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়নি। বাজেটে শ্রমিক শ্রেণির বাস্তব চাহিদা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাই এই বাজেটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আলোচনায় বিশেষভাবে উঠে আসে যে, দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আবাসন, শিক্ষার সুযোগ, পেনশন ব্যবস্থা এবং বেকারত্বকালীন সহায়তার মতো মৌলিক বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা এবং কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারে বাজেটে কোনও সুস্পষ্ট রূপরেখা নেই বলেও বক্তারা মত প্রকাশ করেন।
আলোচনার শ্রমিক নেতারা একজোট হয়ে বর্তমান বাজেটের মূল্যায়ন ও পরবর্তী বাজেটের আগে শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ করে তাদের প্রস্তাবনার ভিত্তিতে বাজেটে শ্রমিকের জন্যে কি কি থাকবে তা নির্ধারণ করতে সরকারকে বাধ্য করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাজেটকে হাওয়াই মিঠাইয়ের সাথে তুলনা করে অর্থমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের বাজেট প্রণয়নের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সেই কুখ্যাত আবুল বারাকাতের মৌলবাদের অর্থনীতির তত্ত্ব বিএনপির ওপর ভর করেছে।
জাতীয় শ্রমিক শক্তির প্রস্তাবনা ও দাবি
সেমিনার থেকে জাতীয় শ্রমিক শক্তি জাতীয় বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণে নিম্নোক্ত দাবি উপস্থাপন করে—শ্রমিকদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য জাতীয় তহবিল গঠন এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, নিম্নআয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য রাষ্ট্রীয় রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, শিল্পাঞ্চল ও শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকায় আধুনিক ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে, শিল্পাঞ্চলভিত্তিক শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া শ্রমজীবী মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পেনশন, স্বাস্থ্যবিমা এবং বেকারত্বকালীন সহায়তা চালু; শ্রমিক কল্যাণ তহবিলকে কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা, মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা, ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীন কার্যক্রম এবং বিদ্যমান শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ সুবিধা ও পৃথক বরাদ্দ রাখতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির বলেন, জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি রাষ্ট্রের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন। কিন্তু বর্তমান বাজেটে শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় প্রতিফলন দেখা যায়নি। তাই জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই বাজেটকে শ্রমিকবান্ধব নয় এবং গণবিরোধী হিসেবে প্রত্যাখ্যান করছে।
তিনি আরও বলেন, দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল শক্তি শ্রমজীবী মানুষ। তাদের স্বার্থ, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই শ্রমিক-কৃষক-জনগণের অংশগ্রহণে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শ্রমিকবান্ধব অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন করতে হবে।




