শিরোনাম

‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন দলের আত্মপ্রকাশ
জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে

‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সংগঠনটির উদ্যোক্তারা বলছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেরণাকে ধারণ করে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ করা হয়।

উদ্যোক্তা আমিনুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী এবং জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান।

অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ২১ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান মোহাম্মদ উল্লাহ মধু। মুখপাত্র নির্বাচিত হয়েছেন ইকবাল হোসেন (সাম্য শাহ)।

এনসিপিকে নিয়ে নুরের সমালোচনা

অনুষ্ঠানে নুরুল হক নুর বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দেশের রাজনীতিতে ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেসব ছাত্রনেতাকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ বিদেশি শক্তির স্বার্থে কাজ করছেন।

সম্প্রতি এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নুর বলেন, সেখানেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। দেশের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

‘জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূরণ হয়নি’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দেশে চার কোটির বেশি শিক্ষিত বেকার রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কল্যাণমুখী রাজনীতি বাস্তবায়ন কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের জন্য প্রত্যাশিত কিছুই করা যায়নি। গ্যাস, নিত্যপণ্যের বাজারসহ বিভিন্ন খাতে সংকট চলছে। বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে মান্না বলেন, দলটি এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলেছিল। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তিনি প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের বিধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাহমুদুর রহমান মান্না আরও বলেন, একাত্তরের আকাঙ্ক্ষা যেমন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, তেমনি ১৯৯০–পরবর্তী সময়েও মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি প্রভাব দেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিষয়ে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা ছিল। তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাঁর ভাষ্য, আন্দোলনের সামনের সারির পরিবর্তে তুলনামূলক কম পরিচিত কয়েকজন ছাত্রনেতাকে সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় জুলাইয়ের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ফ্যাসিবাদের কয়েকজন সহযোগীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নুরুল হক নুর বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে সামনে রাজনৈতিক সংকট দেখছেন। এ সংকট মোকাবিলায় শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।


‘রাজনীতি টি-টোয়েন্টি খেলা নয়’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, এনসিপির নেতারা রাজনীতিকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো দ্রুত ফল পাওয়ার বিষয় হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রামের বিষয়, যেখানে ধৈর্য অপরিহার্য।

তিনি বলেন, গালাগালিকে রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশে পরিণত করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনসিপির তরুণ নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল।

সাইফুল হকের ভাষ্য, এনসিপি একটি পুরো প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করেছে। রাজনীতি ‘এলাম, দেখলাম, জয় করলাম’ ধরনের বিষয় নয়। তিনি বলেন, এনসিপির কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘অপরাজনীতি’ হিসেবে মনে করেন।

বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির জন্য রাজনৈতিক মাঠ ছেড়ে দিয়ে টেকসই রাজনীতি করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে বিএনপিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

/এমআর/