শিরোনাম

অস্বাভাবিক হারে বিভিন্ন এলাকায় ভোটার স্থানান্তর, প্রশ্ন বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্বাভাবিক হারে বিভিন্ন এলাকায় ভোটার স্থানান্তর, প্রশ্ন বিএনপির
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনেবিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: সংগৃহীত

ভোটার স্থানান্তরের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভোটার স্থানান্তর হয়েছে। বিশেষ করে কিছু এলাকায় হঠাৎ করে অনেক নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যা স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছে বিএনপি।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন নজরুল ইসলাম খান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কয়েকটি অভিযোগ ও উদ্বেগের বিষয় নিয়ে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে।

বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান জানান, ভোটার স্থানান্তরের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো আসনে দুই থেকে তিন হাজারের বেশি ভোটার স্থানান্তর হয়নি। তবে ইসির এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিএনপি।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি নিশ্চিতভাবে জানে যে বাস্তবে ভোটার স্থানান্তরের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে যারা তথ্য সরবরাহ করেছেন, তারা সঠিক তথ্য দেননি। এ কারণে বিএনপি আসনভিত্তিক ভোটার স্থানান্তরের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে।

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিভিন্ন এলাকায় আচরণবিধি ভঙ্গ হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কেউ কেউ ধর্মীয় আবেগ ও বিশ্বাসকে ব্যবহার করে কোনো দলের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন, কিন্তু এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সদস্যদের নির্বাচনের কাজে যুক্ত করার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, ছাত্রদের নির্বাচনের মতো জটিল ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা ঠিক হবে না বলে তারা মত দিয়েছেন। এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন আশ্বস্ত করেছে।

কিছু এলাকায় ‘শান্তি–শৃঙ্খলা রক্ষার’ নামে শান্তি কমিটি গঠনের উদ্যোগের কথাও বৈঠকে উঠে আসে। এ প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান জানান, ‘শান্তি কমিটি’ শব্দটি বিএনপির কাছে খুবই অপ্রিয়। যদিও তারা শান্তিবাদী মানুষ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো উদ্যোগের বিষয়ে তাদের জানা নেই।

নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, এবারের নির্বাচনে দেশি ৮১টি সংস্থার ৫৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান তেমন পরিচিত নয় বলে বিএনপি মনে করছে।

তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, তবে অনুমোদনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন গভীরভাবে যাচাই–বাছাই করেছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পর্যালোচনার আশ্বাস দিয়েছে।

/এসএ/