শিরোনাম

রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের

ময়মনসিংহ সংবাদদাতা
রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। ছবি:সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। নাহিদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় নির্বিকার ভূমিকায় ছিলেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ময়মনসিংহ নগরের জিমনেসিয়াম মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে তিনি এই দাবি জানান ও রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। মাহফিলে বিভাগের চার জেলার এনসিপির নেতারা অংশ নেন। ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক।

বক্তব্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলনে ‘আমরা বলেছিলাম এই সংসদে আমরা কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরকে চাই না, ফ্যাসিবাদমুক্ত, ফ্যাসিস্টের দোসরমুক্ত জাতীয় সংসদ আমরা দেখতে চাই। কিন্তু গতকাল আমরা খুব আন্তরিকতার সঙ্গে শুরু করলেও দেখা গেল ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হলো। এটি করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে যে সংসদ সে সংসদের সঙ্গে একধরনের প্রতারণা করা হলো। মাননীয় স্পিকারকে আমরা বলেছিলাম রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের বিষয়ে আমাদের বক্তব্য রয়েছে, সেই বক্তব্য যেন দিতে দেওয়া হয়। কিন্তু তা না দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দিতে দিয়েছেন। এ কারণে আমরা প্রতিবাদ করে ওয়াকআউট করে চলে এসেছি।’

তিনি ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আপনারা গতকাল বাংলাদেশের প্রথম সংসদ অধিবেশন দেখেছেন। আমরা সংসদকে সম্মান জানিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অনেক অভিযোগ ও সমালোচনা থাকা সত্ত্বেও সংসদে গিয়েছিলাম। কারণ, এত কারচুপির পরও জনগণ আমাদের কয়েকজন সদস্যকে নির্বাচিত করেছে, ১১ দলের সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত করেছে। সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন, উচ্চকক্ষের ধারণা বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা সংসদে গিয়েছিলাম।’

বক্তব্যে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, সাইফুল্লাহর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট বাহিনী তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগ আসলে এমন একটি দল, যারা গুপ্ত হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে রাজনীতিতে সব সময় টিকে থাকতে চেয়েছিল। তাদের বাংলাদেশের জনগণ ৫ আগস্ট পরাজিত ও প্রতিহত করেছিল।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘বৃহত্তর ময়মনসিংহে আপনারা আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করুন। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী, তাদের পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিন, গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করুন। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। আমরা কিছুদিন দেখব পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট এমপি কী ব্যবস্থা নেন। যদি তারা ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমাদের যা করণীয় তা করব, আমরা ঘরে বসে থাকব না।’

ইফতার মাহফিল সঞ্চালনা করেন এনসিপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিকিন আলম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মোজাহিদ, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মো. মাজহার ফকির, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, জাতীয় যুবশক্তির সদস্যসচিব জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

/বিবি/