শিরোনাম

সংসদ থেকে ওয়াকআউটের কারণ সম্পর্কে যা বললেন জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদ থেকে ওয়াকআউটের কারণ সম্পর্কে যা বললেন জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা কেনো ওয়াকআউট করলেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর তার কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

সংসদ থেকে ওয়াকআউটের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘ রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সমস্ত খুনের সহযোগী ছিলেন। তাঁর আমলে যে খুনগুলো হয়েছে, একটা খুনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করেননি।’

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা জানেন চব্বিশ সালের আগস্ট মাসের পাঁচ তারিখ প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেই ভাষণে তিনি বলেছিলেন তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা মঞ্জুর করেছেন। পরবর্তী পর্যায়ে আপনারা দেখেছেন, দুইটা মিডিয়ার সাথে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি তা অস্বীকার করেছেন। নতুন গল্প সামনে নিয়ে এসেছেন। তিনি জাতির সামনে মিথ্যাবাদী হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছেন। দেশের প্রেসিডেন্ট মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার পরে প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালন করার আর কোনো নৈতিক অধিকার থাকে না।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘তিনি (রাষ্ট্রপতি) নিজের হাতে অর্ডিন্যান্স সাইন করেছেন। এই জুলাই অভ্যুত্থানের পরে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ নির্বাচন হবে, নির্বাচনের পরে যারা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা দুইটা ক্যাপাসিটিতে নির্বাচিত হবেন। তাঁরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন এবং তাঁরা একই সাথে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবেন। একই দিনে উভয় শপথ একই ব্যক্তি পড়াবেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সেই শপথ দুটো আমরা নিলেও সরকারি দল নেয়নি। তাঁর প্রথম দায়িত্ব ছিল, গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের ভিতরে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা। তিনি সেই অধিবেশন ডাকেননি। গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৭০ ভাগ মানুষ। তিনি ৭০ ভাগ জনগণকে, দেশবাসীকে অপমান করেছেন।’

এসব কারণে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে চায়নি উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এই সংসদ জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর, খুনের সহযোগীরা যাতে সংসদে বক্তব্য রাখতে না পারে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সেই অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারি দলকেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম, মাননীয় স্পিকার মহোদয়কেও অনুরোধ জানিয়েছিলাম, তাঁকে (রাষ্ট্রপতি) যেন ভাষণ দিতে দেওয়া না হয়। তাঁরা আমাদের কথা গ্রাহ্য করেননি, আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। আগামীতে এই সংসদে কোনো অন্যায়কে আমরা বরদাশত করব না এবং মেনে নিব না।’

তবে বৃহস্পতিবার অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করলেও সামনের অধিবেশনগুলোতে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন শফিকুর রহমান।

সংসদ থেকে ওয়াকআউট করার বিষয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের শুরু থেকে বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অংশ নিয়েছে ও বক্তব্য দিয়েছে। ফ্যাসিস্টের দোসর রাষ্ট্রপতি যখন বক্তব্য দিতে এসেছেন, তখন স্পিকারকে বারবার বলা হয়েছে, এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বক্তব্য দেবেন। সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।’ এই বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে বক্তব্যের সুযোগ না দেওয়ার প্রতিবাদে তারা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বলে জানান তিনি।

/বিবি/