শিরোনাম

জামায়াতের আপত্তি সত্ত্বেও সংসদে জামুকা সংশোধন বিল পাস

সিটিজেন ডেস্ক
জামায়াতের আপত্তি সত্ত্বেও সংসদে  জামুকা সংশোধন বিল পাস
সংসদ অধিবেশন চলছে। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে আনা এ বিলের বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তবে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিলটির ওপর তাদের কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে জানায়। সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বিলের ওপর তার আপত্তির কথা বিস্তারিত তুলে ধরলেও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধী দলের নেতা কোনো আপত্তি করেননি উল্লেখ করে আপত্তির বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে কোনো ভোট দেননি এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীও এর কোনো জবাব দেননি।

এর আগে সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে এ বিলের ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত জানিয়ে জামায়াতের সদস্যরা উল্লেখ করেন, কোনো পরিবর্তন ছাড়া অধ্যাদেশটি পাস হলে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামের মতো বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলো পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবেই থেকে যাবে, যা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। তাদের দাবি, রাজনৈতিক দলকে সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করা মূলত ফ্যাসিবাদী রাজনীতির সমর্থন।

সংসদে বিলটির ওপর আপত্তি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, একাত্তরের চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল তা আল্লাহ ভালো জানেন। তিনি অভিযোগ করেন, এ আইনে রাজনৈতিক দলের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি মূলত বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিকৃত রূপরেখারই অংশ, যা অন্তর্বর্তী সরকারও সামান্য পরিবর্তন করে বহাল রেখেছে। স্বাধীনতার পর শাসকেরা জনগণের রায়কে সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়ে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে আসে এবং সব রাজনৈতিক দল তাদের অধিকার ফিরে পায়। জাতিকে আর বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সম্মানজনক রাষ্ট্র গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

নতুন এ আইনে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্যসহ বেশ কিছু বিষয়ের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় যারা হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর, আলশামস, তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম এবং দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, তারাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, বিএলএফ, পুলিশ, ইপিআর, নৌ কমান্ডো, আনসারসহ অন্যান্য স্বীকৃত বাহিনীর সদস্যরাও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।

সংসদ অধিবেশনের শেষ পর্যায়ে স্পিকার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিল সম্পর্কে এনসিপির কোনো আপত্তি নেই বলে সংসদকে জানান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

/এমএকে/