শিরোনাম

রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই দুদকের অনুসন্ধান: আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই দুদকের অনুসন্ধান: আসিফ মাহমুদ
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করার লক্ষ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। আমি মনে করছি এটা শুধুমাত্র মিডিয়া ট্রায়াল করার লক্ষ্যে করা হয়েছে।’

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে তার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক দুর্নীতির অভিযোগ খণ্ডন নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা এবং এ বিষয়ে প্রচারিত দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্যের বাস্তবতা তথ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে তুলে ধরেন তিনি। 

অভিযোগের বাস্তবতা তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ
অভিযোগের বাস্তবতা তুলে ধরেন আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদ জানান, ‘দুদকের মুখপাত্র যে প্রেস ব্রিফিং করেছেন, সেখানে তিনি বলেছেন প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন। তারপর আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তিনি বলেছেন, প্রাথমিক শব্দটা বাদ দেওয়ার জন্য। এর মধ্যে সব মিডিয়ায় নিউজ হয়ে গেছে, আমার মানহানি হয়ে গেছে। এরপর আমি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেই। আমি বলেছিলাম আইনি প্রক্রিয়ায় যাবো। ইতোমধ্যে আমাদের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, এই অনুসন্ধান আসলে অনুসন্ধান না। এটা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি। গ্রুপের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করা হয়েছিল, ভয় দেখিয়ে রাখা হয়েছিল, তারা আবারও সেটার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যদি এই স্পেসিফিক ইস্যুতে অনুসন্ধান করতে হয়, তাহলে অনুসন্ধান করতে হবে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে। আমার বিরুদ্ধে না। কারণ আমি একদম ডকুমেন্ট দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি। এই স্পেসিফিক ঘটনাটা ঘটেছে বিএনপি সরকারের সময়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় আগে আমি পদত্যাগ করেছি।

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আমি ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ পদত্যাগপত্র দিয়েছি এবং ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ সেটা গৃহীত হয়েছে।

দুদকের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আমরা সংস্কারের আশা করেছিলাম। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুদকের একটা সংস্কারও হয়েছিল। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের যে অধ্যাদেশ হয়েছিল, সেটাকে বিএনপি সরকার বাতিল করে দিলো। এরপর দলীয় কায়দায় দুদক গঠন করা হলো। আবারও এটা রাজনৈতিক কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে।

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘তারা খুবই স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে হয়রানি করার লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধানটা শুরু করেছে। এর যথেষ্ট রিজন এখানে ছিল না। তারা যদি তারিখগুলো দেখতো যে, কোন তারিখে পদোন্নতি হয়েছে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করার কোনো সুযোগ নেই।

এই অনুসন্ধানকে মিডিয়া ট্রায়ালের’ অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

/জেএইচ/