যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইরানের হুঁশিয়ারি– কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দক্ষিণ কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইরানের হুঁশিয়ারি– কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দক্ষিণ কোরিয়া
সিজেডএন ডেস্ক

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে ইরানের হুমকি এবং দেশের ভেতরের বিরোধিতা– সব মিলিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সামরিকভাবে যুক্ত হলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সিউল বিবেচনা করছে– এমন খবরের পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরান এই সতর্কবার্তা দেয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে ইরান ‘আগ্রাসনকারীর প্রতি সরাসরি সমর্থন’ হিসেবে দেখবে। এর পরিণতি কারও জন্য ভালো হবে না।
বাঘাই বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের ৬৪ বছরের বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান এই সম্পর্ককে মূল্য দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং ‘নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ’ থেকে নিজেদের রক্ষার সময় দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের এই বক্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদিন জানায়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর কয়েক মাস ধরে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগস্টে বলেছিলেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘একটু সাহায্য’ করতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, সিউল সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, ‘না, ধন্যবাদ’।
এরপর দুই দেশের সামরিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) কমিয়ে দেন। ১১ দিনের বেশি সময়ের মহড়াটি এবার ৫ দিনে নামিয়ে আনা হয়। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য প্রতি বছর এই মহড়া হয়।

ট্রাম্প বলছেন, মহড়াগুলো ব্যয়বহুল এবং এগুলো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা দেয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন পার্লামেন্টে বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে কোনো সতর্কতা দেয়নি।
সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় আরেকটি সামরিক মহড়াও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
হরমুজে কী পরিকল্পনা নিয়েছে সিউল
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ৫ সেপ্টেম্বর জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন পথ খুঁজছে সিউল। এর মধ্যে সামরিক সহায়তার বিষয়ও রয়েছে।
সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে সমুদ্র টহল বিমান, রসদ সরবরাহকারী নৌযান এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণের সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সিউল। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি যেন ব্যাহত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোনো মিত্রতা
কোরিয়া যুদ্ধের পর দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতিতে ব্যাপক সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একটি চুক্তির আওতায় যুদ্ধের পর থেকেই কোরিয়া উপদ্বীপে প্রায় ২৯ হাজার মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় সিউল ওয়াশিংটনের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল।
এর বিনিময়ে অতীতে ইরাক যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সমর্থন দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ন্যাটোর সদস্য না হলেও ওয়াশিংটন সিউলকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন। সিউল পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে সমঝোতার পথ বেছে নেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জর্জিয়ায় হুন্দাইয়ের একটি কারখানায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের (আইসিই) অভিযানে শত শত দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট লিও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আবার আলোচনা শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অর্থনৈতিক স্বার্থও বড়
বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আসে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর করে। ফলে চলমান সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতিও বেড়েছে। কোরীয় মুদ্রা ‘ওন’-এর মান গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
তাই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা সিউলের জন্য বড় অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়। আবার এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, বিদেশে সেনা পাঠানোর আগে সরকারের পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকেই সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি আসতে পারে। ফলে ইরানের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ– সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সিউলকে।
সূত্র: আল-জাজিরা

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে ইরানের হুমকি এবং দেশের ভেতরের বিরোধিতা– সব মিলিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সামরিকভাবে যুক্ত হলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সিউল বিবেচনা করছে– এমন খবরের পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরান এই সতর্কবার্তা দেয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে ইরান ‘আগ্রাসনকারীর প্রতি সরাসরি সমর্থন’ হিসেবে দেখবে। এর পরিণতি কারও জন্য ভালো হবে না।
বাঘাই বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের ৬৪ বছরের বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান এই সম্পর্ককে মূল্য দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং ‘নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ’ থেকে নিজেদের রক্ষার সময় দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের এই বক্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদিন জানায়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর কয়েক মাস ধরে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগস্টে বলেছিলেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘একটু সাহায্য’ করতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, সিউল সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, ‘না, ধন্যবাদ’।
এরপর দুই দেশের সামরিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) কমিয়ে দেন। ১১ দিনের বেশি সময়ের মহড়াটি এবার ৫ দিনে নামিয়ে আনা হয়। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য প্রতি বছর এই মহড়া হয়।

ট্রাম্প বলছেন, মহড়াগুলো ব্যয়বহুল এবং এগুলো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা দেয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন পার্লামেন্টে বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে কোনো সতর্কতা দেয়নি।
সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় আরেকটি সামরিক মহড়াও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
হরমুজে কী পরিকল্পনা নিয়েছে সিউল
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ৫ সেপ্টেম্বর জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন পথ খুঁজছে সিউল। এর মধ্যে সামরিক সহায়তার বিষয়ও রয়েছে।
সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে সমুদ্র টহল বিমান, রসদ সরবরাহকারী নৌযান এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণের সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সিউল। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি যেন ব্যাহত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোনো মিত্রতা
কোরিয়া যুদ্ধের পর দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতিতে ব্যাপক সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একটি চুক্তির আওতায় যুদ্ধের পর থেকেই কোরিয়া উপদ্বীপে প্রায় ২৯ হাজার মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় সিউল ওয়াশিংটনের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল।
এর বিনিময়ে অতীতে ইরাক যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সমর্থন দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ন্যাটোর সদস্য না হলেও ওয়াশিংটন সিউলকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন। সিউল পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে সমঝোতার পথ বেছে নেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জর্জিয়ায় হুন্দাইয়ের একটি কারখানায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের (আইসিই) অভিযানে শত শত দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট লিও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আবার আলোচনা শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অর্থনৈতিক স্বার্থও বড়
বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আসে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর করে। ফলে চলমান সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতিও বেড়েছে। কোরীয় মুদ্রা ‘ওন’-এর মান গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
তাই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা সিউলের জন্য বড় অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়। আবার এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, বিদেশে সেনা পাঠানোর আগে সরকারের পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকেই সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি আসতে পারে। ফলে ইরানের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ– সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সিউলকে।
সূত্র: আল-জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, ইরানের হুঁশিয়ারি– কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে দক্ষিণ কোরিয়া
সিজেডএন ডেস্ক

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, অন্যদিকে ইরানের হুমকি এবং দেশের ভেতরের বিরোধিতা– সব মিলিয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া সামরিকভাবে যুক্ত হলে ‘মারাত্মক পরিণতি’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি সিউল বিবেচনা করছে– এমন খবরের পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ইরান এই সতর্কবার্তা দেয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও হরমুজ প্রণালিতে কোনো দেশের সামরিক উপস্থিতি বা সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকে ইরান ‘আগ্রাসনকারীর প্রতি সরাসরি সমর্থন’ হিসেবে দেখবে। এর পরিণতি কারও জন্য ভালো হবে না।
বাঘাই বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ইরানের ৬৪ বছরের বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। তেহরান এই সম্পর্ককে মূল্য দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন এবং ‘নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ’ থেকে নিজেদের রক্ষার সময় দক্ষিণ কোরিয়া ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দক্ষিণ কোরিয়া ইরানের এই বক্তব্যের সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি। তবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেদিন জানায়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর কয়েক মাস ধরে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগস্টে বলেছিলেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ‘একটু সাহায্য’ করতে বলেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি, সিউল সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেছিল, ‘না, ধন্যবাদ’।
এরপর দুই দেশের সামরিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দেয়। ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ (ইউএফএস) কমিয়ে দেন। ১১ দিনের বেশি সময়ের মহড়াটি এবার ৫ দিনে নামিয়ে আনা হয়। উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতির জন্য প্রতি বছর এই মহড়া হয়।

ট্রাম্প বলছেন, মহড়াগুলো ব্যয়বহুল এবং এগুলো উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি ‘শত্রুতাপূর্ণ’ বার্তা দেয়। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন পার্লামেন্টে বলেন, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে কোনো সতর্কতা দেয়নি।
সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় আরেকটি সামরিক মহড়াও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
হরমুজে কী পরিকল্পনা নিয়েছে সিউল
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা ৫ সেপ্টেম্বর জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন পথ খুঁজছে সিউল। এর মধ্যে সামরিক সহায়তার বিষয়ও রয়েছে।
সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে সমুদ্র টহল বিমান, রসদ সরবরাহকারী নৌযান এবং মাইন শনাক্ত ও অপসারণের সরঞ্জাম পাঠানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টিও বিবেচনা করছে সিউল। তবে এ ক্ষেত্রে দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি যেন ব্যাহত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুরোনো মিত্রতা
কোরিয়া যুদ্ধের পর দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক ও সামরিক অগ্রগতিতে ব্যাপক সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। একটি চুক্তির আওতায় যুদ্ধের পর থেকেই কোরিয়া উপদ্বীপে প্রায় ২৯ হাজার মার্কিন সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় সিউল ওয়াশিংটনের সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল।
এর বিনিময়ে অতীতে ইরাক যুদ্ধসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে সমর্থন দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। ন্যাটোর সদস্য না হলেও ওয়াশিংটন সিউলকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটন। সিউল পাল্টা ব্যবস্থা না নিয়ে সমঝোতার পথ বেছে নেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জর্জিয়ায় হুন্দাইয়ের একটি কারখানায় মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক বিভাগের (আইসিই) অভিযানে শত শত দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হন। এ ঘটনায় দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করেন। চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট লিও যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে আবার আলোচনা শুরুর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
অর্থনৈতিক স্বার্থও বড়
বর্তমানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আসে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভর করে। ফলে চলমান সংঘাতে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতিও বেড়েছে। কোরীয় মুদ্রা ‘ওন’-এর মান গত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।
তাই হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখা সিউলের জন্য বড় অর্থনৈতিক স্বার্থের বিষয়। আবার এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান ও আইন অনুযায়ী, বিদেশে সেনা পাঠানোর আগে সরকারের পার্লামেন্টের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। ক্ষমতাসীন দলের ভেতর থেকেই সম্ভাব্য সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি আসতে পারে। ফলে ইরানের হুমকি, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, দেশের অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ– সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত নিতে হবে সিউলকে।
সূত্র: আল-জাজিরা

মার্কিন নির্ভরতা কমাতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া







