শিরোনাম

এক বছরে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
এক বছরে ৪০৩ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
গ্রাফিক্স: সিটিজেন জার্নাল

২০২৫ সালে সারা দেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের মোট ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, ১১৮। ২০২৪ সালে আত্মহত্যা করেছিলেন ৩১০ জন এবং ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫১৩।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয় তথ্য।

আঁচল ফাউন্ডেশনের গবেষকেরা মনে করেন, আত্মহত্যার সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হতাশা এবং অভিমান। এছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপোড়েন এবং আবেগীয় সংকট, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান ও আত্মপরিচয় সংকট আত্মহত্যায় প্ররোচিত করছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হতাশা; মোট ঘটনার ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এ কারণে। প্রেমঘটিত সমস্যার কারণে আত্মহত্যা করেছে ২৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং মানসিক অস্থিরতার কারণে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে হতাশার হার আরও বেশি, ৪৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। এ ছাড়া প্রেমঘটিত কারণে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, অভিমান থেকে ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং পারিবারিক টানাপোড়েনের কারণে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য বলছে, আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জন বা ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী এবং ১৫৪ জন বা ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার হার পুরুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। স্কুলে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ; কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি; যেখানে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। মাদ্রাসায় ২৪ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে আত্মহত্যার কারণভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হতাশাজনিত ঘটনায় নারী ৬২ জন (৫৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ) এবং পুরুষ ৫০ জন (৪৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ)। অভিমান থেকে আত্মহত্যার ক্ষেত্রে নারী ৫৮ জন (৬১ দশমিক ৭০ শতাংশ) এবং পুরুষ ৩৬ জন (৩৮ দশমিক ২৯ শতাংশ)। একাডেমিক চাপে ৭২ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে, যাদের বেশির ভাগই স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের; এ ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীর হার সর্বাধিক- ৭০ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এ ছাড়া প্রেমঘটিত কারণে ৫৩ জন (১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ), পারিবারিক টানাপোড়েনে ৩২ জন (৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ), মানসিক অস্থিতিশীলতায় ২৫ জন (৬ দশমিক ২০ শতাংশ) এবং যৌন নির্যাতনের কারণে ১৪ জন (৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ) আত্মহত্যা করেছে। আঁচল ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, সাইবার বুলিংয়ের কারণেও এক নারী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, যা ডিজিটাল নিরাপত্তা ও অনলাইন সহিংসতার উদ্বেগজনক দিকটি সামনে এনেছে।

বিভাগভিত্তিক চিত্র

সমীক্ষার বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন বা ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন তথা ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন বা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন তথা ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

বয়সভিত্তিক পর্যালোচনা

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষনে দেখা যায়, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার ৬৬ দশমিক ৫০ শতাংশ, যা মোট আত্মহননকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।

/টিই/