শিরোনাম

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর তোড়জোড়

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর তোড়জোড়
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিমানবন্দরের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সেবা আধুনিকীকরণ ও দ্রুত জনবল-সংকটের সমস্যা সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছেন বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম।

আফরোজা খানমের সভাপতিত্বে গত ৯ আগষ্ট সচিবালয়ে তৃতীয় টার্মিনারের কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রস্তুতি বিষয়ক সভা হয়। ওই সভায় আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচনায় আসে। এতে টার্মিনালটি চালুর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।

তৃতীয় টার্মিনাল কার্যক্রম চালুর প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ১৬টি ব্যাগেজ স্ক্যানার ও ছয়টি প্যালেট কার্গো স্ক্যানার স্থাপন করা। কিন্তু এখনো এসব স্ক্যানার কেনা হয়নি। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত দরপত্র আহ্বান করা হলেও কারিগরি সাব-কমিটির মূল্যায়ন প্রতিবেদন এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল চালুর টাইমলাইন দেওয়া আছে। কিছু কারিগরি কাজ বাকি রয়েছে। তবে কারিগরি বিষয়ে বড় ধরনের কোনো জটিলতা না থাকলে নির্ধারিত সময়েই সেটি চালু করা হবে। স্ক্যানারগুলো দ্রুত কেনার জন্য এনবিআরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’

স্ক্যানারগুলো কেনার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য মন্ত্রী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দ্রুত দরপত্র মূল্যায়নের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এগুলো কিনতে দেরি হওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়েছেন। সাত কর্মদিবসের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন শেষ করে যোগ্য ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মান বাড়াতে ইমিগ্রেশন বিভাগেও বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইমিগ্রেশন পুলিশের বিশেষ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাপ সামাল দিতে বিদ্যমান জনবলের সঙ্গে অতিরিক্ত জনবল সংযুক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে আরও সুরক্ষিত ও দ্রুত সম্পন্ন করতে ‘মাল্টিমোডাল অ্যাপ্রোচ’ বা বহুমুখী পদ্ধতি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম চালু করা হবে। ফলে যাত্রীদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং পরিচয় শনাক্তকরণ আরও নিখুঁত ও দ্রুত করা সম্ভব হবে।

সভায় তৃতীয় টার্মিনাল চালুর দুই মাস আগেই প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন এবং সরঞ্জাম স্থাপন নিশ্চিতের বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দিয়ে আফরোজা খানম বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রতিটি ধাপ যেন সঠিক মানদণ্ডে ও সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন করা হয়।

আগামী ডিসেম্বরে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে যাত্রী সেবার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস বিভাগের সমন্বয়কেই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

/বিবি/