শিরোনাম

উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষিপণ্যের আমদানি কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষিপণ্যের আমদানি কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে– এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে কৃষকের কাছে উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

এর আগে, এদিন সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে যোগ দেন। এ সময় তিনি লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করেন।

বৈঠকে কৃষিখাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এজন্য গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে।

এ সময় বৈঠকে কৃষিখাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ভোজ্য তেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে এসেছে বৈঠকে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।

বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খালখনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে বলেন।

/এফআর/