আবার কুইক রেন্টালের পথে সরকার

আবার কুইক রেন্টালের পথে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলার গ্যাস দিয়ে বেসরকারি খাতে ৩-৪ বছর মেয়াদি ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবের মধ্যেই বহুল বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল’-এর মতো এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি আগের মতো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য সরকারের নির্দেশে সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করেছে পিডিবি। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৪ অক্টোবর। এই কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত দরে মার্কিন ডলারে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। ফলে ডলারের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে। শুরুতে কেন্দ্রটির মেয়াদ ৩ বছর রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে পরে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়তে পারে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সিম্পল সাইকেল হওয়ায় এর জ্বালানি ক্ষমতা কম। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক বেশি গ্যাস লাগবে। অন্যদিকে, পিডিবির প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেল, যার ক্ষমতা অনেক বেশি।
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ভোলায় পিডিবির ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করতে ৩-৪ বছর সময় লাগবে। এই সময় পর্যন্ত অব্যবহৃত গ্যাস কাজে লাগাতে স্বল্পমেয়াদি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্কিড-মাউন্টেড মডুলারভিত্তিক হবে। এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন/ জেনারেটর ও এর সহায়ক যন্ত্রপাতি কারখানায় আগে থেকে একত্র ও পরীক্ষা করে বড় বড় ‘স্কিড’ বা মডিউল আকারে সাইটে পাঠানো হয়। সাইটে শুধু ফাউন্ডেশন তৈরি, মডিউল বসানো ও আন্তঃসংযোগের কাজ করতে হয়। এ কারণেই এটি প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে অনেক দ্রুত বসানো যায়।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্র প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন করতে ৬-৭ মাস সময় লাগবে। এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে সময় দেওয়া হবে আরও অন্তত ৬ মাস। সবকিছু ঠিক থাকলে এখান থেকে বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় বছর।
দেশে এখন পর্যন্ত এত স্বল্পমেয়াদি আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) কেন্দ্র নেই। যেগুলো আছে সেগুলোর মেয়াদ সাধারণত ১৫ বছর বা তারও বেশি। স্বল্পমেয়াদি এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হিসেবেই পরিচিত।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে বেসরকারি খাতে একের পর এক রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক), কুইক রেন্টাল (দ্রুত ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রের মেয়াদ শুরুতে ৩ ও ৫ বছর থাকলেও পরে দফায় দফায় বাড়ানো হয়। প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিশেষ ক্ষমতা আইনে অনুমোদন পাওয়া এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্রাতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ কেনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী গুনতে হয়েছে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ।
ভোলার গ্যাস অব্যবহৃত
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় ২০০৯ সালে। ২০১৮ সালে আবিষ্কার হয় দ্বিতীয় গ্যাসক্ষেত্র ভোলা নর্থ। ২০২৩ সালে আবিষ্কার হয় ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র। এ দুটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি।
শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে দিনে ১৫ কোটি ঘনফুট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস। দ্বীপ জেলাটিতে প্রায় ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাসের মজুদ থাকার আভাস মিলেছে। কিন্তু মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাইপলাইনের অভাবে সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা যায়নি। বর্তমানে ভোলায় ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটি ক্যাপটিভ (শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎ), শিল্পকারখানা ও আড়াই হাজার বাসায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ভোলা একটি দ্বীপ এলাকা। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সময় কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে।
তবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌক্তিকতা কী, সেটা বোঝার বিষয়। এখানে বিনিয়োগকারী ৩ বছরের মধ্যে তার বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মুনাফা করবেন। এতে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের মালিক বাড়তি ব্যয় ধরেই সাধারণত দর নির্ধারণ করে থাকেন। আবার সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোরও নজির রয়েছে অতীতে।
পিডিবির আইপিপি সেল-২-এর কর্মকর্তারা বলছেন, ভোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চুক্তি হবে আইপিপি মডেলে। এখান থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ নেওয়া হবে ঠিক ততটুকুরই দাম দেওয়া হবে। উৎপাদন না করলে অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া লাগবে না। আবার নির্ধারিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলে কেন্দ্রের মালিককে জরিমানা গুনতে হবে।
পিডিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এটি আগের মতো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করা হবে। আমরা কারও কাছে জিম্মি হবো না। সবকিছু হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ভোলার গ্যাস দিয়ে বেসরকারি খাতে ৩-৪ বছর মেয়াদি ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবের মধ্যেই বহুল বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল’-এর মতো এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি আগের মতো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য সরকারের নির্দেশে সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করেছে পিডিবি। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৪ অক্টোবর। এই কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত দরে মার্কিন ডলারে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। ফলে ডলারের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে। শুরুতে কেন্দ্রটির মেয়াদ ৩ বছর রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে পরে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়তে পারে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সিম্পল সাইকেল হওয়ায় এর জ্বালানি ক্ষমতা কম। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক বেশি গ্যাস লাগবে। অন্যদিকে, পিডিবির প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেল, যার ক্ষমতা অনেক বেশি।
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ভোলায় পিডিবির ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করতে ৩-৪ বছর সময় লাগবে। এই সময় পর্যন্ত অব্যবহৃত গ্যাস কাজে লাগাতে স্বল্পমেয়াদি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্কিড-মাউন্টেড মডুলারভিত্তিক হবে। এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন/ জেনারেটর ও এর সহায়ক যন্ত্রপাতি কারখানায় আগে থেকে একত্র ও পরীক্ষা করে বড় বড় ‘স্কিড’ বা মডিউল আকারে সাইটে পাঠানো হয়। সাইটে শুধু ফাউন্ডেশন তৈরি, মডিউল বসানো ও আন্তঃসংযোগের কাজ করতে হয়। এ কারণেই এটি প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে অনেক দ্রুত বসানো যায়।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্র প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন করতে ৬-৭ মাস সময় লাগবে। এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে সময় দেওয়া হবে আরও অন্তত ৬ মাস। সবকিছু ঠিক থাকলে এখান থেকে বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় বছর।
দেশে এখন পর্যন্ত এত স্বল্পমেয়াদি আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) কেন্দ্র নেই। যেগুলো আছে সেগুলোর মেয়াদ সাধারণত ১৫ বছর বা তারও বেশি। স্বল্পমেয়াদি এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হিসেবেই পরিচিত।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে বেসরকারি খাতে একের পর এক রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক), কুইক রেন্টাল (দ্রুত ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রের মেয়াদ শুরুতে ৩ ও ৫ বছর থাকলেও পরে দফায় দফায় বাড়ানো হয়। প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিশেষ ক্ষমতা আইনে অনুমোদন পাওয়া এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্রাতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ কেনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী গুনতে হয়েছে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ।
ভোলার গ্যাস অব্যবহৃত
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় ২০০৯ সালে। ২০১৮ সালে আবিষ্কার হয় দ্বিতীয় গ্যাসক্ষেত্র ভোলা নর্থ। ২০২৩ সালে আবিষ্কার হয় ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র। এ দুটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি।
শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে দিনে ১৫ কোটি ঘনফুট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস। দ্বীপ জেলাটিতে প্রায় ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাসের মজুদ থাকার আভাস মিলেছে। কিন্তু মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাইপলাইনের অভাবে সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা যায়নি। বর্তমানে ভোলায় ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটি ক্যাপটিভ (শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎ), শিল্পকারখানা ও আড়াই হাজার বাসায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ভোলা একটি দ্বীপ এলাকা। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সময় কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে।
তবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌক্তিকতা কী, সেটা বোঝার বিষয়। এখানে বিনিয়োগকারী ৩ বছরের মধ্যে তার বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মুনাফা করবেন। এতে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের মালিক বাড়তি ব্যয় ধরেই সাধারণত দর নির্ধারণ করে থাকেন। আবার সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোরও নজির রয়েছে অতীতে।
পিডিবির আইপিপি সেল-২-এর কর্মকর্তারা বলছেন, ভোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চুক্তি হবে আইপিপি মডেলে। এখান থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ নেওয়া হবে ঠিক ততটুকুরই দাম দেওয়া হবে। উৎপাদন না করলে অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া লাগবে না। আবার নির্ধারিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলে কেন্দ্রের মালিককে জরিমানা গুনতে হবে।
পিডিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এটি আগের মতো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করা হবে। আমরা কারও কাছে জিম্মি হবো না। সবকিছু হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আবার কুইক রেন্টালের পথে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভোলার গ্যাস দিয়ে বেসরকারি খাতে ৩-৪ বছর মেয়াদি ১০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবের মধ্যেই বহুল বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল’-এর মতো এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি আগের মতো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য সরকারের নির্দেশে সম্প্রতি দরপত্র আহ্বান করেছে পিডিবি। দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ৪ অক্টোবর। এই কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত দরে মার্কিন ডলারে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। ফলে ডলারের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে। শুরুতে কেন্দ্রটির মেয়াদ ৩ বছর রাখা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে পরে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়তে পারে।
জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সিম্পল সাইকেল হওয়ায় এর জ্বালানি ক্ষমতা কম। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক বেশি গ্যাস লাগবে। অন্যদিকে, পিডিবির প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কম্বাইন্ড সাইকেল, যার ক্ষমতা অনেক বেশি।
পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ভোলায় পিডিবির ২২৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করতে ৩-৪ বছর সময় লাগবে। এই সময় পর্যন্ত অব্যবহৃত গ্যাস কাজে লাগাতে স্বল্পমেয়াদি একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্কিড-মাউন্টেড মডুলারভিত্তিক হবে। এই প্রযুক্তিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন/ জেনারেটর ও এর সহায়ক যন্ত্রপাতি কারখানায় আগে থেকে একত্র ও পরীক্ষা করে বড় বড় ‘স্কিড’ বা মডিউল আকারে সাইটে পাঠানো হয়। সাইটে শুধু ফাউন্ডেশন তৈরি, মডিউল বসানো ও আন্তঃসংযোগের কাজ করতে হয়। এ কারণেই এটি প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে অনেক দ্রুত বসানো যায়।
পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, দরপত্র প্রক্রিয়া ও মূল্যায়ন করতে ৬-৭ মাস সময় লাগবে। এরপর বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে সময় দেওয়া হবে আরও অন্তত ৬ মাস। সবকিছু ঠিক থাকলে এখান থেকে বিদ্যুৎ পেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় বছর।
দেশে এখন পর্যন্ত এত স্বল্পমেয়াদি আইপিপি (ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) কেন্দ্র নেই। যেগুলো আছে সেগুলোর মেয়াদ সাধারণত ১৫ বছর বা তারও বেশি। স্বল্পমেয়াদি এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হিসেবেই পরিচিত।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে বেসরকারি খাতে একের পর এক রেন্টাল (ভাড়াভিত্তিক), কুইক রেন্টাল (দ্রুত ভাড়াভিত্তিক) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন দেয়। কেন্দ্রের মেয়াদ শুরুতে ৩ ও ৫ বছর থাকলেও পরে দফায় দফায় বাড়ানো হয়। প্রতিযোগিতা ছাড়াই বিশেষ ক্ষমতা আইনে অনুমোদন পাওয়া এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্রাতিরিক্ত দামে বিদ্যুৎ কেনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী গুনতে হয়েছে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জ।
ভোলার গ্যাস অব্যবহৃত
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১৯৯৫ সালে শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। গ্যাস উৎপাদন শুরু হয় ২০০৯ সালে। ২০১৮ সালে আবিষ্কার হয় দ্বিতীয় গ্যাসক্ষেত্র ভোলা নর্থ। ২০২৩ সালে আবিষ্কার হয় ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র। এ দুটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখনো উৎপাদন শুরু হয়নি।
শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে দিনে ১৫ কোটি ঘনফুট উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও ব্যবহৃত হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস। দ্বীপ জেলাটিতে প্রায় ২ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাসের মজুদ থাকার আভাস মিলেছে। কিন্তু মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পাইপলাইনের অভাবে সেই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনা যায়নি। বর্তমানে ভোলায় ৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, দুটি ক্যাপটিভ (শিল্পে উৎপাদিত নিজস্ব বিদ্যুৎ), শিল্পকারখানা ও আড়াই হাজার বাসায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন
পিডিবির চেয়ারম্যান বলেন, ভোলা একটি দ্বীপ এলাকা। যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত না হওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সময় কিছুটা বেশি ধরা হয়েছে।
তবে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ম তামিম বলেন, এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌক্তিকতা কী, সেটা বোঝার বিষয়। এখানে বিনিয়োগকারী ৩ বছরের মধ্যে তার বিনিয়োগ তুলে নেওয়ার পাশাপাশি মুনাফা করবেন। এতে বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি হবে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রের মালিক বাড়তি ব্যয় ধরেই সাধারণত দর নির্ধারণ করে থাকেন। আবার সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোরও নজির রয়েছে অতীতে।
পিডিবির আইপিপি সেল-২-এর কর্মকর্তারা বলছেন, ভোলার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির চুক্তি হবে আইপিপি মডেলে। এখান থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ নেওয়া হবে ঠিক ততটুকুরই দাম দেওয়া হবে। উৎপাদন না করলে অতিরিক্ত ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া লাগবে না। আবার নির্ধারিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন না করলে কেন্দ্রের মালিককে জরিমানা গুনতে হবে।
পিডিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এটি আগের মতো রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট হবে না। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করা হবে। আমরা কারও কাছে জিম্মি হবো না। সবকিছু হবে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, ব্যাপক লোডশেডিং






