মাত্র ৬০০ কোটি টাকার জন্য হাতছাড়া হয় ভোলার গ্যাস

মাত্র ৬০০ কোটি টাকার জন্য হাতছাড়া হয় ভোলার গ্যাস
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বীপজেলা ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে এনে ব্যবহারের জন্য পাইপলাইন নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা, সিদ্ধান্তহীনতা ও এলএনজি আমদানি লবির তদবির ও দেন-দরবারে তা হাতছাড়া হয়। বর্তমানে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮-৯ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। দেড় দশকের ব্যবধানে বিদেশি পরামর্শক, প্রকল্পের মালামাল ও প্রযুক্তির পেছনে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে ক্রমান্বয়ে এলএনজি আমদানি বেড়েছে। পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তো এবং ভোলায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা শুরু হতো।
ভোলার গ্যাস নিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের টালবাহানা ছিল। তা গড়িয়েছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও। তারাও ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বরং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রুট পরিবর্তন করে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা বড় অর্থায়ন, বিদেশি সংস্থার ঋণের শর্ত এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে হাত দেয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ভোলার গ্যাস ব্যবহার নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিদ্ধান্তহীনতার পেছনে এলএনজি ব্যবসার স্বার্থ কাজ করেছে। ২০১৮ সালে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিতে পাইপলাইন নির্মাণের খসড়া যখন তৈরি হয়, তখনই দেশে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বছরই দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এলএনজিকে বড় সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর বদলে এলএনজি আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর নীতির কারণে একদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গ্যাস খাতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় বেড়েছে।
জ্বালানি বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ভোলার গ্যাসকে কাজে লাগাতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গুচ্ছ পরিকল্পনায় সার কারখানা, বিদ্যুৎ প্লান্ট, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ইলিশ সংরক্ষণ কেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ একটি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে উন্নয়নের রূপরেখায় যুক্ত করতে চায় সরকার।
দ্বীপ জেলা ভোলায় গ্যাস আবিষ্কার হয় নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে সেখানে তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। এসব গ্যাস ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ প্রায় দেড় টিসিএফের মতো।
বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে উৎপাদনে থাকা কূপগুলো থেকে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও বর্তমানে বাপেক্স ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে। ভোলায় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সেখানে নতুন করে আরো ১০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা একটি কোম্পানি পাঁচটি কূপ এবং বাপেক্স নিজে পাঁচটি কূপ খনন করবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, খোলাবাজারে এলএনজির বাড়তি দাম এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি আমদানির চেয়ে সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী সমাধান হলো ভোলার গ্যাস উত্তোলন এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে দুই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন, এরপর গ্যাসের মজুদ বৃদ্ধি পেলে ভোলা-বরিশাল-গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানো। তবে এ মুহূর্তে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোলার গ্যাস খুলনায় আনতে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। জানা গেছে, ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার ২৪ ইঞ্চি গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। আর বরিশাল-খুলনা ১০৯ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের জন্য রুট সার্ভে, পরিবেশগত মূল্যায়ন ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে।

দ্বীপজেলা ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে এনে ব্যবহারের জন্য পাইপলাইন নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা, সিদ্ধান্তহীনতা ও এলএনজি আমদানি লবির তদবির ও দেন-দরবারে তা হাতছাড়া হয়। বর্তমানে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮-৯ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। দেড় দশকের ব্যবধানে বিদেশি পরামর্শক, প্রকল্পের মালামাল ও প্রযুক্তির পেছনে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে ক্রমান্বয়ে এলএনজি আমদানি বেড়েছে। পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তো এবং ভোলায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা শুরু হতো।
ভোলার গ্যাস নিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের টালবাহানা ছিল। তা গড়িয়েছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও। তারাও ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বরং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রুট পরিবর্তন করে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা বড় অর্থায়ন, বিদেশি সংস্থার ঋণের শর্ত এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে হাত দেয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ভোলার গ্যাস ব্যবহার নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিদ্ধান্তহীনতার পেছনে এলএনজি ব্যবসার স্বার্থ কাজ করেছে। ২০১৮ সালে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিতে পাইপলাইন নির্মাণের খসড়া যখন তৈরি হয়, তখনই দেশে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বছরই দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এলএনজিকে বড় সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর বদলে এলএনজি আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর নীতির কারণে একদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গ্যাস খাতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় বেড়েছে।
জ্বালানি বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ভোলার গ্যাসকে কাজে লাগাতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গুচ্ছ পরিকল্পনায় সার কারখানা, বিদ্যুৎ প্লান্ট, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ইলিশ সংরক্ষণ কেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ একটি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে উন্নয়নের রূপরেখায় যুক্ত করতে চায় সরকার।
দ্বীপ জেলা ভোলায় গ্যাস আবিষ্কার হয় নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে সেখানে তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। এসব গ্যাস ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ প্রায় দেড় টিসিএফের মতো।
বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে উৎপাদনে থাকা কূপগুলো থেকে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও বর্তমানে বাপেক্স ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে। ভোলায় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সেখানে নতুন করে আরো ১০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা একটি কোম্পানি পাঁচটি কূপ এবং বাপেক্স নিজে পাঁচটি কূপ খনন করবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, খোলাবাজারে এলএনজির বাড়তি দাম এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি আমদানির চেয়ে সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী সমাধান হলো ভোলার গ্যাস উত্তোলন এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে দুই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন, এরপর গ্যাসের মজুদ বৃদ্ধি পেলে ভোলা-বরিশাল-গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানো। তবে এ মুহূর্তে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোলার গ্যাস খুলনায় আনতে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। জানা গেছে, ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার ২৪ ইঞ্চি গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। আর বরিশাল-খুলনা ১০৯ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের জন্য রুট সার্ভে, পরিবেশগত মূল্যায়ন ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে।

মাত্র ৬০০ কোটি টাকার জন্য হাতছাড়া হয় ভোলার গ্যাস
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বীপজেলা ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে এনে ব্যবহারের জন্য পাইপলাইন নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬০০ কোটি টাকা। কিন্তু অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা, সিদ্ধান্তহীনতা ও এলএনজি আমদানি লবির তদবির ও দেন-দরবারে তা হাতছাড়া হয়। বর্তমানে সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হলে সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮-৯ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। দেড় দশকের ব্যবধানে বিদেশি পরামর্শক, প্রকল্পের মালামাল ও প্রযুক্তির পেছনে কয়েক গুণ বেশি ব্যয় করতে হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে ক্রমান্বয়ে এলএনজি আমদানি বেড়েছে। পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তো এবং ভোলায় নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো তৎপরতা শুরু হতো।
ভোলার গ্যাস নিয়ে পতিত আওয়ামী সরকারের টালবাহানা ছিল। তা গড়িয়েছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও। তারাও ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বরং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রুট পরিবর্তন করে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন করার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষ পর্যন্ত তারা বড় অর্থায়ন, বিদেশি সংস্থার ঋণের শর্ত এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে হাত দেয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ভোলার গ্যাস ব্যবহার নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিদ্ধান্তহীনতার পেছনে এলএনজি ব্যবসার স্বার্থ কাজ করেছে। ২০১৮ সালে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিতে পাইপলাইন নির্মাণের খসড়া যখন তৈরি হয়, তখনই দেশে এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই বছরই দেশে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। স্থানীয় গ্যাসের সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় এলএনজিকে বড় সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় গ্যাসের ব্যবহার বাড়ানোর বদলে এলএনজি আমদানিনির্ভরতা বাড়ানোর নীতির কারণে একদিকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে গ্যাস খাতে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায় বেড়েছে।
জ্বালানি বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ভোলার গ্যাসকে কাজে লাগাতে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। গুচ্ছ পরিকল্পনায় সার কারখানা, বিদ্যুৎ প্লান্ট, কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়, ইলিশ সংরক্ষণ কেন্দ্র, গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ একটি বাস্তবসম্মত অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে ভোলাসহ পুরো দক্ষিণাঞ্চলকে উন্নয়নের রূপরেখায় যুক্ত করতে চায় সরকার।
দ্বীপ জেলা ভোলায় গ্যাস আবিষ্কার হয় নব্বইয়ের দশকে। বর্তমানে সেখানে তিনটি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। এসব গ্যাস ক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদের পরিমাণ ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ প্রায় দেড় টিসিএফের মতো।
বাপেক্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে উৎপাদনে থাকা কূপগুলো থেকে দৈনিক ১২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। যদিও বর্তমানে বাপেক্স ৭৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে। ভোলায় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সেখানে নতুন করে আরো ১০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চীনা একটি কোম্পানি পাঁচটি কূপ এবং বাপেক্স নিজে পাঁচটি কূপ খনন করবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, খোলাবাজারে এলএনজির বাড়তি দাম এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে এলএনজি আমদানির চেয়ে সবচেয়ে ব্যয়সাশ্রয়ী সমাধান হলো ভোলার গ্যাস উত্তোলন এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসা।
পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, ভোলার গ্যাস ব্যবহারে দুই ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি ভোলা-বরিশাল-খুলনা রুটে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন, এরপর গ্যাসের মজুদ বৃদ্ধি পেলে ভোলা-বরিশাল-গোপালগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে কানেক্টিভিটি বাড়ানো। তবে এ মুহূর্তে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোলার গ্যাস খুলনায় আনতে ২০৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। জানা গেছে, ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯৬ কিলোমিটার ২৪ ইঞ্চি গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। আর বরিশাল-খুলনা ১০৯ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণের জন্য রুট সার্ভে, পরিবেশগত মূল্যায়ন ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ চলছে।

কমছে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন, এলএনজিতেও মিলছে না স্বস্তি






