শিরোনাম

কৃষি প্রকৌশল অধিদপ্তর গঠন সময়ের দাবি: আইইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষি প্রকৌশল অধিদপ্তর গঠন সময়ের দাবি: আইইবি
সেমিনারে কথা বলছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

কৃষির টেকসই উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ‘কৃষি প্রকৌশল অধিদপ্তর’ গঠন এখন সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো নতুন এই অধিদপ্তর গড়ে উঠলে, কৃষির উন্নয়ন নিয়ে নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতা দূর হবে বলে মনে করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর রমনায় ‘বাংলাদেশে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও সেচ: সুযোগ ও সীমাবদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করে আইইবির কৃষিকৌশল বিভাগ।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও বাংলাদেশ এখনো প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও সুশাসনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। বিশেষ করে কৃষি খাতে সমন্বয়হীনতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশের কৃষিবিদগণ দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কৃষির উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনারে অংশ নেওয়া কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘বর্তমানে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনেক কার্যক্রম অন্য মন্ত্রণালয় বা সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয়ের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। কৃষি প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ন্যায় কৃষি প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর গঠন এখন সময়ের দাবি।’

বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশেও কৃষির টেকসই উন্নয়নের জন্য যান্ত্রিকীকরণ ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণ করতে হবে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে প্রতিবছর বন্যার কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হন। তাই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই পানিকে সম্পদে রূপান্তর করতে হবে। বন্যার পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি পানি থেকে শক্তি উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে তা দেশের জ্বালানি ও কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এছাড়া বর্তমান সময়ে কারিগরি সেক্টরে দক্ষ কারিগরি জনবল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’

তারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমাদের কৃষিবিদগণ নিরলস গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। বর্তমান সময়ে কৃষির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। তাই কৃষিতে পানি ও সেচ ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। ফসল উৎপাদনে পানির অপচয় রোধ করে সঠিক ও দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সেমিনারে উত্থাপিত সুপারিশসমূহ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি খাত আরও আধুনিক, দক্ষ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খাতে পরিণত হবে।

আইইবির কৃষি কৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রকৌশলী গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কৃষি শক্তি ও যন্ত্রপাতি বিভাগের অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশিক-ই-রব্বানী।

কৃষি কৌশল বিভাগের সম্পাদক প্রকৌশলী মো. বেলাল সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাহ্‌রিন ইসলাম তুহিন, সদস্য সচিব প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন বিপ্লব, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুর রহিম, আইইবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তফা খান প্রমুখ।

/এফআর/