শিরোনাম

চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি, বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ-সবজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
চালের বাজারে ঊর্ধ্বগতি, বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ-সবজি
ছবি: সিটিজেন জার্নাল

রাজধানীর খুচরা বাজারে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে পোলাউ ও আটাশ চালের দাম কোরবানির ঈদের পর থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একইসঙ্গে মাছ ও বেশ কিছু সবজির দামও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল ও আড়ত পর্যায়ে চালের দাম বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে। অন্যদিকে, সরবরাহ কমে যাওয়ায় মাছ ও কিছু মৌসুমি সবজির দামও বেড়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর মিরপুর-৬ কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি পোলাউ চাল ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা রোজার ঈদের সময় ছিল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। আটাশ চালের ২৫ কেজির বস্তা দেড় মাস আগে ১ হাজার ২৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৩৫০ টাকায়।

খুচরা বিক্রেতা রুবিনা রাইসের এজেন্সির কর্মচারী জুবায়ের আহমেদ বলেন, রোজার ঈদের সময় পোলাউ চাল ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন একই চাল ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া মুজাম্মেল ব্র্যান্ডের পোলাউ চালের ৫০ কেজির বস্তা এখন ৮ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি করছি। কোরবানির ঈদের আগে যা ছিল ৭ হাজার ৩০০ থেকে ৭ হাজার ৪০০ টাকা।

তিনি বলেন, আটাশ চালের ৫০ কেজির বস্তা আগে ২ হাজার ৪৬০ টাকায় বিক্রি করতাম। এখন একই চাল ২ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গুটি স্বর্ণা, পাইজাম ও মিনিকেট চালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এমনকি কিছু কিছু চালের দাম কমেছে। মুজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেট চালের দাম খুচরা পর্যায়ে ৮৮-৯০ টাকা থেকে কমে ৮৩-৮৫ টাকায় বিক্রি করছি। এছাড়া কয়েক সপ্তাহ আগেও ভালো মানের নাজিরশাইল চালের সংকট দেখা দিয়েছিল। বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। মানভেদে নাজিরশাইল চাল প্রতি কেজি ৮০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি করছি।

চালের পাশাপাশি বাজারে মাছের দামও বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি বড় আকারের চাষের চিংড়ি ১ হাজার টাকা, নদীর চিংড়ি ১ হাজার ২০০ টাকা, নদীর বড় কাতলা ৬৫০ টাকা, পাবদা ৫০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, বাটা মাছ ২২০ টাকা এবং সিলভার কার্প ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ
বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ

এছাড়া সপ্তাহখানেক আগে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে তেলাপিয়া মাছের দাম ১৬০-১৭০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় পৌঁছেছে। পাবদা মাছ গত সপ্তাহে ৪৫০ টাকা থাকলেও আজ ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ৮০-১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৭০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, টমেটো ২০০ টাকা, পটল ১০০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৪০ টাকা এবং কুমড়া ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত সপ্তাহে পটল ৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, টমেটো ১৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ টাকা এবং কুমড়া ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটো, পটল, করলা, কাঁচামরিচ ও কাঁকরোলের দাম প্রতি কেজি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, শুক্রবারে ক্রেতার চাপ বেশি থাকায় অনেক সবজির দাম অন্যান্য দিনের তুলনায় কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে।

নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

মো. বারেক নামের এক ক্রেতা বলেন, সবকিছুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। আগে যেসব সবজি এক কেজি করে কিনতাম, এখন দাম বেশি হওয়ায় অর্ধেক পরিমাণ কিনতে হচ্ছে। পরিবারের বাজেট সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

এদিকে, গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়, সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায়। ডজনপ্রতি ডিমের দাম রয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে মুরগির দাম
গত সপ্তাহের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে মুরগির দাম

বিক্রেতারা জানান, এবারের বাজেটে ব্রয়লার মুরগি, সোনালি মুরগি, ডিম ও মাছের ওপর সরাসরি কোনো নতুন কর বা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। ফলে এসব পণ্যের দাম ঈদের আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। অন্যান্য বছর বাজেট ঘোষণার পর এসব পণ্যের দাম বাড়লেও এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

/এসবি/