শিরোনাম

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত: ঈদ উপলক্ষে হামলা বন্ধ ঘোষণা

সিটিজেন ডেস্ক
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত: ঈদ উপলক্ষে হামলা বন্ধ ঘোষণা
আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকরা মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানি হামলায় নিহতদের কফিন বহন করছেন। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র রমজান মাসের শেষ পর্যায়ে এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সাময়িক বিরতির ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান।

ঘোষণাটি আসে এমন এক সময়, যখন কাবুলে একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলায় নিহতদের স্মরণে আফগানদের গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এই প্রেক্ষাপটে বিরতির ঘোষণা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা সাময়িক প্রশমনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুরু করে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি এবং ঈদুল ফিতরের তাৎপর্য বিবেচনায় ‘ভ্রাতৃপ্রতিম মুসলিম দেশ’ সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, এই সময়ের মধ্যে পাকিস্তানের ভেতরে যদি সীমান্ত পেরিয়ে কোনো হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা সন্ত্রাসী তৎপরতা ঘটে, তাহলে অভিযান আবারও জোরালোভাবে শুরু করা হবে।

অন্যদিকে, কাবুল থেকেও এসেছে একই ধরনের সাড়া। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ নিশ্চিত করেছেন, তারাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝেই এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক ‘পারস্পরিক বিরতি’ তৈরি হয়েছে।

তবে এই বিরতির পেছনে রয়েছে ভয়াবহ এক মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপট। গত সোমবার কাবুলের একটি বড় মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই হামলায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং আরও অন্তত ২৬৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার সেই নিহতদের গণজানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি করে।

পাকিস্তান এ ঘটনায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেনি। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল ‘সুনির্দিষ্ট সামরিক ঘাঁটি ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে অবস্থান নেওয়া কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী নিয়মিত পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে এবং এসব গোষ্ঠীকে কাবুলের তালেবান সরকার প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদিও এই অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে আফগান কর্তৃপক্ষ।

দুই দেশের সম্পর্ক একসময় সহযোগিতামূলক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা দ্রুত অবনতির দিকে গেছে। বিশেষ করে গত বছর থেকে পাকিস্তান সরাসরি আফগান ভূখণ্ডে হামলা চালানো শুরু করলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এর আগে তারা মূলত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তান তালেবানের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করত।

মধ্যস্থতার মাধ্যমে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল চীনসহ কয়েকটি দেশ। কিন্তু গত মাসে আবারও সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে ঈদকে ঘিরে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে অন্তত কয়েক দিনের জন্য হলেও এটি দুই দেশের মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা হয়ে এসেছে।

/এমআর/