শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: যা জানা জরুরি

সিটিজেন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা: যা জানা জরুরি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ তেহরানের ৭১ জন শীর্ষ কর্মকর্তা ও টেকনিক্যাল টিম। ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রতিনিধিদলটি বিমান থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামছে এবং বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা তাদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই আলোচনাকে ‘চূড়ান্ত পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আলোচনার ধরন

এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা প্রথমে পরোক্ষভাবে শুরু হয়ে পরে সরাসরি বৈঠকে রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনকে একজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, এই উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ আলোচনা পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ উভয়ভাবেই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক সূত্রটির মতে, উভয় পক্ষ পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার এজেন্ডা নির্ধারণ করা হতে পারে। এরপর দিনের শেষে তারা মুখোমুখি আলোচনায় বসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একইসঙ্গে ইরানে আটক মার্কিন নাগরিকদের বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্রাম্পের অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো তেহরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ট্রাম্প সতর্ক করে দেন, যদি কোনো শান্তিচুক্তি না হয়, তবে তিনি মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু করবেন। এবার আরও তীব্র হবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ইরানের অবস্থান

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরানের সদিচ্ছা থাকলেও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের আস্থা নেই। তিনি বলেন, আমেরিকানদের সঙ্গে ইরানের আলোচনার অভিজ্ঞতা সব সময়ই ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি এবার একটি বাস্তবসম্মত চুক্তির জন্য সত্যিই প্রস্তুত থাকে, তবে ইরানও তাতে সাড়া দিতে পারে।

হরমুজ ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের শুরুতেই জ্বালানি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে দেয় ইরান। এখন জাহাজ পারাপারের জন্য টোল আদায় করবে বলে জানিয়েছে দেশটি। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালি শীঘ্রই পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।’

লেবানন ইস্যু

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় জানিয়েছে, লেবানন ও ইসরায়েলের কূটনীতিকরা শুক্রবার ফোনে কথা বলেছেন এবং চলমান ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে বৈঠকের পরিকল্পনা করছেন। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, ‘ইসরায়েল হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়।’

হিজবুল্লাহর বিবৃতি

শুক্রবার নাবাতিয়েতে ১৩ জন লেবানিজ নিরাপত্তা কর্মী নিহত হওয়ার পর, ইরান-সমর্থিত এই আধাসামরিক গোষ্ঠীটি লেবানন সরকারকে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি আলোচনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বাগদাদে হামলা

বুধবার ইরাকের একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোন গোষ্ঠী এ হামলার জন্য দায়ী, তা উল্লেখ করেননি। কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘সব কর্মী নিরাপদ আছেন এবং সবার খোঁজ পাওয়া গেছে।’

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমনকি বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থার জন্যও এই আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্র: সিএনএন

/জেএইচ/