পর্ব-০২
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনলাইন জুয়ার মচ্ছব, বাড়ছে অপরাধ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনলাইন জুয়ার মচ্ছব, বাড়ছে অপরাধ
আয়নাল হোসেন

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো এখন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অবৈধ সিম ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা শিশু-কিশোরদের ঠেলে দিচ্ছে অনলাইন জুয়ার অন্ধকারে। অনলাইন জুয়ার আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানব পাচার ও মাদক ব্যবসার মতো ভয়ংকর অপরাধের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। এতে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোররা সুন্দর শৈশব হারানোর পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে।
শৈশব ধ্বংস করে দিচ্ছে অনলাইন জুয়া ও স্মার্টফোন
উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি বাড়ছে । একটি ছোট দোকানে সাত-আটজন কিশোরকে জটলা পাকিয়ে মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব ফোনের মাধ্যমেই তারা অনলাইন জুয়া খেলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক(এফডিএমএন) বিষয়ক ডিআইজি প্রলয় চিসিম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের হাতে মোবাইল ফোন থাকার কোনো আইনি সুযোগ নেই। অসাধু উপায়ে সিম সংগ্রহ করে তারা অনলাইন জুয়ার ব্যবসা চালাচ্ছে। এই আসক্তি থেকেই বাড়ছে হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধ।’
অপহরণ এখন ‘নৈমিত্তিক’ ঘটনা
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তথ্যমতে, গত এক বছরে অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ২৫টি এবং ডিসেম্বরে ২১টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ১৫টি অপহরণের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অপহরণের পর শুরুতে ৪-৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও পরে তা ১০-২০ হাজার টাকায় রফা হয়। মূলত টেকনাফ অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়গুলোকে অপরাধীরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
অপরাধের নেপথ্যে ৫ সশস্ত্র গোষ্ঠী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারে যে পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে । এগুলোর মধ্যে বেশি প্রভাবশালী হচ্ছে আতাউল্লাহ আবু জুনুনী ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে গড়ে তোলা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। আমজাদ, নূর মোহাম্মদ ও রিয়াজুলদের নেতৃত্বে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। তৃতীয় অবস্থানে আছে নবী হোসেন গ্রুপ। চতুর্থ স্থানে আছে মুন্না গ্রুপ। এই গ্রুপের প্রধান মুন্না বর্তমানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। পঞ্চম অবস্থানে আছে মাওলানা আব্দুর রহমান ও হুজাইফার নেতৃত্বাধীন ইসলামি মাহাজ গ্রুপ।
অপরাধের পরিসংখ্যান
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসার লাভের ভাগবাটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীরগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করেছে এপিবিএন। এই বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরিগুলোতে ২০২৩ সালে ৭৩টি. ২০২৪ সালে ৫৯টি ও ২০২৬ (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতেই অপহরণের ঘটনা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হওয়া মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাহাড় ও সমুদ্র মাদকের রুট
আশ্রয়শিবিরগুলোর ভেতরে এপিবিএনের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। তবে বাইরে দুর্গম পাহাড় ও সমুদ্র পথে মাদকের বড় বড় চালান আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, আশ্রয়শিবিরের চৌহদ্দির বাইরে জেলা পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি টহল জোরদার করলেও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা অবৈধ মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা না গেলে এসব অপরাধ বন্ধ কর অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো এখন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অবৈধ সিম ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা শিশু-কিশোরদের ঠেলে দিচ্ছে অনলাইন জুয়ার অন্ধকারে। অনলাইন জুয়ার আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানব পাচার ও মাদক ব্যবসার মতো ভয়ংকর অপরাধের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। এতে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোররা সুন্দর শৈশব হারানোর পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে।
শৈশব ধ্বংস করে দিচ্ছে অনলাইন জুয়া ও স্মার্টফোন
উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি বাড়ছে । একটি ছোট দোকানে সাত-আটজন কিশোরকে জটলা পাকিয়ে মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব ফোনের মাধ্যমেই তারা অনলাইন জুয়া খেলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক(এফডিএমএন) বিষয়ক ডিআইজি প্রলয় চিসিম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের হাতে মোবাইল ফোন থাকার কোনো আইনি সুযোগ নেই। অসাধু উপায়ে সিম সংগ্রহ করে তারা অনলাইন জুয়ার ব্যবসা চালাচ্ছে। এই আসক্তি থেকেই বাড়ছে হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধ।’
অপহরণ এখন ‘নৈমিত্তিক’ ঘটনা
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তথ্যমতে, গত এক বছরে অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ২৫টি এবং ডিসেম্বরে ২১টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ১৫টি অপহরণের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অপহরণের পর শুরুতে ৪-৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও পরে তা ১০-২০ হাজার টাকায় রফা হয়। মূলত টেকনাফ অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়গুলোকে অপরাধীরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
অপরাধের নেপথ্যে ৫ সশস্ত্র গোষ্ঠী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারে যে পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে । এগুলোর মধ্যে বেশি প্রভাবশালী হচ্ছে আতাউল্লাহ আবু জুনুনী ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে গড়ে তোলা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। আমজাদ, নূর মোহাম্মদ ও রিয়াজুলদের নেতৃত্বে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। তৃতীয় অবস্থানে আছে নবী হোসেন গ্রুপ। চতুর্থ স্থানে আছে মুন্না গ্রুপ। এই গ্রুপের প্রধান মুন্না বর্তমানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। পঞ্চম অবস্থানে আছে মাওলানা আব্দুর রহমান ও হুজাইফার নেতৃত্বাধীন ইসলামি মাহাজ গ্রুপ।
অপরাধের পরিসংখ্যান
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসার লাভের ভাগবাটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীরগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করেছে এপিবিএন। এই বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরিগুলোতে ২০২৩ সালে ৭৩টি. ২০২৪ সালে ৫৯টি ও ২০২৬ (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতেই অপহরণের ঘটনা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হওয়া মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাহাড় ও সমুদ্র মাদকের রুট
আশ্রয়শিবিরগুলোর ভেতরে এপিবিএনের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। তবে বাইরে দুর্গম পাহাড় ও সমুদ্র পথে মাদকের বড় বড় চালান আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, আশ্রয়শিবিরের চৌহদ্দির বাইরে জেলা পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি টহল জোরদার করলেও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা অবৈধ মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা না গেলে এসব অপরাধ বন্ধ কর অসম্ভব হয়ে পড়বে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনলাইন জুয়ার মচ্ছব, বাড়ছে অপরাধ
আয়নাল হোসেন

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলো এখন প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অবৈধ সিম ও স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা শিশু-কিশোরদের ঠেলে দিচ্ছে অনলাইন জুয়ার অন্ধকারে। অনলাইন জুয়ার আসক্তিকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, মানব পাচার ও মাদক ব্যবসার মতো ভয়ংকর অপরাধের নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে পরিস্থিতি। এতে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোররা সুন্দর শৈশব হারানোর পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে।
শৈশব ধ্বংস করে দিচ্ছে অনলাইন জুয়া ও স্মার্টফোন
উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি বাড়ছে । একটি ছোট দোকানে সাত-আটজন কিশোরকে জটলা পাকিয়ে মোবাইল ফোনে বুঁদ হয়ে থাকতে দেখা যায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব ফোনের মাধ্যমেই তারা অনলাইন জুয়া খেলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক(এফডিএমএন) বিষয়ক ডিআইজি প্রলয় চিসিম বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের হাতে মোবাইল ফোন থাকার কোনো আইনি সুযোগ নেই। অসাধু উপায়ে সিম সংগ্রহ করে তারা অনলাইন জুয়ার ব্যবসা চালাচ্ছে। এই আসক্তি থেকেই বাড়ছে হত্যা, অপহরণসহ নানা অপরাধ।’
অপহরণ এখন ‘নৈমিত্তিক’ ঘটনা
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তথ্যমতে, গত এক বছরে অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে ২৫টি এবং ডিসেম্বরে ২১টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও ১৫টি অপহরণের ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অপহরণের পর শুরুতে ৪-৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হলেও পরে তা ১০-২০ হাজার টাকায় রফা হয়। মূলত টেকনাফ অঞ্চলের দুর্গম পাহাড়গুলোকে অপরাধীরা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
অপরাধের নেপথ্যে ৫ সশস্ত্র গোষ্ঠী
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারে যে পাঁচটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে । এগুলোর মধ্যে বেশি প্রভাবশালী হচ্ছে আতাউল্লাহ আবু জুনুনী ও তার সহযোগীদের নেতৃত্বে গড়ে তোলা আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। আমজাদ, নূর মোহাম্মদ ও রিয়াজুলদের নেতৃত্বে এই গোষ্ঠীর সদস্যরা বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। তৃতীয় অবস্থানে আছে নবী হোসেন গ্রুপ। চতুর্থ স্থানে আছে মুন্না গ্রুপ। এই গ্রুপের প্রধান মুন্না বর্তমানে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে। পঞ্চম অবস্থানে আছে মাওলানা আব্দুর রহমান ও হুজাইফার নেতৃত্বাধীন ইসলামি মাহাজ গ্রুপ।
অপরাধের পরিসংখ্যান
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরগুলোতে হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক ব্যবসার লাভের ভাগবাটোয়ারা, আধিপত্য বিস্তার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীরগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্বকে চিহ্নিত করেছে এপিবিএন। এই বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরিগুলোতে ২০২৩ সালে ৭৩টি. ২০২৪ সালে ৫৯টি ও ২০২৬ (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারিতেই অপহরণের ঘটনা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে হওয়া মামলায় ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পাহাড় ও সমুদ্র মাদকের রুট
আশ্রয়শিবিরগুলোর ভেতরে এপিবিএনের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। তবে বাইরে দুর্গম পাহাড় ও সমুদ্র পথে মাদকের বড় বড় চালান আসছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, আশ্রয়শিবিরের চৌহদ্দির বাইরে জেলা পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি টহল জোরদার করলেও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা অবৈধ মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড জব্দ করা না গেলে এসব অপরাধ বন্ধ কর অসম্ভব হয়ে পড়বে।




