শিরোনাম

আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া

আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক মহড়া
হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ছবি: আনাদোলু এজেন্সি

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান বৈঠকের মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষ শাখা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই মহড়া শুরু হয়েছে।

টেলিভিশন চ্যানেল জানিয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক ও নিরাপত্তাজনিত হুমকির মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই মহড়া আয়োজন করা হয়েছে। কতদিন চলবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। পাশাপাশি মহড়া চলাকালীন হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও বন্ধ থাকবে।

ইরানের হরমুজ প্রণালী বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হিসেবে বিবেচিত। এই জলপথ দিয়ে প্রতিবছর পরিবাহিত তেলের পরিমাণের প্রায় এক চতুর্থাংশ এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়।

আইআরজিসির প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর এই মহড়ার সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা যাচাই করাই এই মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।

পূর্ব পারস্য উপসাগরের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত আবু মুসা দ্বীপ এবং তার চারপাশের জলসীমায় আয়োজন করা হয়েছে এই মহড়ার। সম্প্রতি এই দ্বীপটিকে সামরিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ করেছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। আইআরজিসির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেছেন, দ্বীপটিতে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার হয়েছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সর্বোচ্চ ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েলের সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রও জড়িত হয়। ওই সময় মার্কিন সেনাবাহিনী তেহরানের বিরুদ্ধে “অপারেশন মিডনাইট হ্যামার” পরিচালনা করেছিল।

পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি থাকলেও, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনও পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হয়নি।

গত ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকার বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করতে শুরু করলে, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত গত বছরের জানুয়ারির মধ্যভাগে বিক্ষোভ শান্ত হয় এবং ট্রাম্প আর কোনো অভিযান চালানোর নির্দেশ দেননি।

এরপরও যুক্তরাষ্ট্র আরব সাগরের মধ্যপ্রাচ্য অংশে বিশাল বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক রণতরী মোতায়েন করে। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিচ্ছে।

এদিকে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠক শুরু হয়। বর্তমানে সেই বৈঠকের দ্বিতীয় ধাপ চলছে।

সূত্র : এএফপি

/জেএইচ/