
সিটিজেন ডেস্ক


লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক অবস্থান ও উত্তরাঞ্চলীয় শহরগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক গণমাধ্যম শাখা এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দিনের শুরুতেই তারা উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা এবং মিসগাভ আম এলাকায় রকেট হামলা চালায়। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সীমান্তসংলগ্ন সামরিক স্থাপনা ও বসতিপূর্ণ অঞ্চল।
এর আগে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে গতকাল পশ্চিম বেকা উপত্যকার আকাশে একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের দিকেও রকেট নিক্ষেপের দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হিজবুল্লাহ বলছে, ইসরায়েলের ধারাবাহিক পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়াতেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

প্রথম দফার বৈঠক কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও আলোচনা পুরোপুরি থেমে যায়নি। ইসলামাবাদের সংশ্লিষ্ট দল ও বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা মাঠপর্যায়ে অবস্থান বজায় রেখে পরস্পরের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই ধারাবাহিক যোগাযোগের ফলেই, পাকিস্তান সরকারের সহায়তায় এখন উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার পরিবেশ পুরোপুরি অনুকূল না হলেও অগ্রগতির কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন যে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অপর পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং তার সঙ্গে যোগাযোগও করেছে।
এই পরিস্থিতি আবার যেকোনো মূহুর্তে যুদ্ধে মোড় নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের তেল বিক্রি থেকে অর্জিত রাজস্ব, এবং তেহরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান শান্ত ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছে, যাতে চলমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মূল কারণ হিসেবে হিজবুল্লাহকে দায়ী করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে বড় কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সমস্যার মূল উৎস এই সংগঠনটি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে নির্ধারিত বৈঠকের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে সার জানান, ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আগ্রহী।
তার ভাষায়, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বড় কোনো বিরোধ নেই, সমস্যাটা হলো হিজবুল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ, তা একইসঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এই প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহকে তিনি উভয় পক্ষের জন্যই একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত মার্চের শুরু থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালের পর এই প্রথমবারের মতো দুই দেশের মধ্যে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকবেন মার্কো রুবিও। এতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরাও অংশ নেবেন।

ইসরায়েলের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা আনসার বরাতে জানা গেছে, ভেরোনায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেলোনি বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
তিনি ইঙ্গিত দেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইতালি ও ইসরায়েলের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং গবেষণামূলক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা খাতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছিল।

যুক্তরাষ্ট্র যদি চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ বা বৃদ্ধি করে, তবে তার উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে চীন—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে বেইজিং।
চীনের দাবি, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধে চীন ইরানকে সামরিক সহায়তা দিয়েছে। তবে এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এ ধরনের প্রতিবেদনের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।
চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি এসব ভিত্তিহীন অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বেইজিংও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। অর্থনৈতিক চাপের জবাব অর্থনৈতিকভাবেই দেওয়া হবে—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে তাদের বক্তব্যে।
এদিকে সামরিক পণ্য রপ্তানির বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, তারা সবসময়ই দায়িত্বশীল ও সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করে থাকে। এ ক্ষেত্রে চীনের নিজস্ব আইন-কানুনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতাও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় বলে দাবি করেছে বেইজিং।