ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় ধাক্কা

ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় ধাক্কা
সিজেডএন ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন কূটনৈতিক সংঘাত দেখা দিয়েছে। ব্রিটেনের সঙ্গে আরও ১১টি দেশের এ কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে তেল আবিব ও লন্ডনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা
যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই অভূতপূর্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। পাল্টাপদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কনস্যুলেটটি রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কূটনৈতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় ত্রাণ ও স্থিতিশীলতা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ‘আন্তর্জাতিক গাজা সাপোর্ট সেন্টার’ থেকেও সরাতে বাধ্য করা হয়েছে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের। ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডাসহ ১২টি দেশের এ যৌথ নিষেধাজ্ঞাকে ইসরায়েলি প্রশাসন মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখছে।

নিষেধাজ্ঞার পরিধি ও আইসিজের রায়
ইসরায়েলের মোট রপ্তানির তুলনায় বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম। ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, দখলদারত্বের বিরুদ্ধে লন্ডনের অবস্থানের বাস্তব প্রতিফলন এখন থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও থাকবে।
নতুন এ কাঠামোর অধীনে কেবল বসতিতে উৎপাদিত পণ্যই নয়, বরং সেখানকার নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থায়নে যুক্ত কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি দখলদারত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে- এমন অস্ত্র বিক্রিতেও বিধিনিষেধ দিয়েছে ব্রিটেন। পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিলিব্যান্ড বলেন, সেখানে ‘বসতিস্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ’ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এর ফলে ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’ ঘটছে। পুরো বিষয়ের প্রতি ইসরায়েলি সরকার চোখ ফিরিয়ে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক চাপ
সামনে ইসরায়েলে নির্বাচন থাকায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারসহ শাসকগোষ্ঠীর তীব্র প্রতিক্রিয়ার পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে। ইসরায়েলিদের একাংশ উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে দেশের জন্য বিব্রতকর মনে করলেও ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা বসতিকে অবৈধ মানতে তারা রাজি নন।
তবে গত বছর দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট যেভাবে সতর্ক করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দেশকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করে দিচ্ছেন, সেই আন্তর্জাতিক চাপের বাস্তবতা এখন আরও বেশি দৃশ্যমান। সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গন থেকে বর্জনের ডাক কিংবা আন্তর্জাতিক পরোয়ানার পর এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলি সাধারণ মানুষের মনেও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক সাড়া
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরলেও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারকে ইহুদি-বিদ্বেষের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং এ পদক্ষেপকে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য বলে দাবি করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ‘আমরা মনে করি, গাজা বিষয়ে আমাদের অগ্রগতি, ২০-দফা পরিকল্পনা এবং শান্তি বোর্ডের ওপর এর প্রভাব পড়বে, যেগুলোর প্রতি আমরা অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্পষ্টতই, যুক্তরাজ্য যা করেছে, আমরা তা করতে যাচ্ছি না।’ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন যুক্তরাজ্যকে মুসলিম সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে একটি অহংকারী প্রকল্প চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হচ্ছে। ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেনসহ ১২টি দেশ দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সমর্থনে যৌথ বিবৃতি দিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে নিজস্ব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ১২টি দেশের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করে লন্ডনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ড. হুসাম জোমলট একে ব্রিটেনের ‘সাহসী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন, কেবল এ নিষেধাজ্ঞাই ইসরায়েলের প্রায় ছয় দশকের দখলদারিত্ব রাতারাতি বন্ধ করে দেবে না।
এ সংকট নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রভাব খাটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন বসতি স্থাপন বন্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্যারান্টি আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইসরায়েলকে চাপে ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির মতো নীতি নির্ধারকরা সরাসরি পশ্চিম তীরকে ইহুদিদের জন্য ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি মনে করেন। ফলে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের নেওয়া এ উদ্যোগ ইসরায়েলের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গেও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিস, আল জাজিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন কূটনৈতিক সংঘাত দেখা দিয়েছে। ব্রিটেনের সঙ্গে আরও ১১টি দেশের এ কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে তেল আবিব ও লন্ডনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা
যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই অভূতপূর্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। পাল্টাপদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কনস্যুলেটটি রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কূটনৈতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় ত্রাণ ও স্থিতিশীলতা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ‘আন্তর্জাতিক গাজা সাপোর্ট সেন্টার’ থেকেও সরাতে বাধ্য করা হয়েছে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের। ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডাসহ ১২টি দেশের এ যৌথ নিষেধাজ্ঞাকে ইসরায়েলি প্রশাসন মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখছে।

নিষেধাজ্ঞার পরিধি ও আইসিজের রায়
ইসরায়েলের মোট রপ্তানির তুলনায় বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম। ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, দখলদারত্বের বিরুদ্ধে লন্ডনের অবস্থানের বাস্তব প্রতিফলন এখন থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও থাকবে।
নতুন এ কাঠামোর অধীনে কেবল বসতিতে উৎপাদিত পণ্যই নয়, বরং সেখানকার নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থায়নে যুক্ত কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি দখলদারত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে- এমন অস্ত্র বিক্রিতেও বিধিনিষেধ দিয়েছে ব্রিটেন। পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিলিব্যান্ড বলেন, সেখানে ‘বসতিস্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ’ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এর ফলে ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’ ঘটছে। পুরো বিষয়ের প্রতি ইসরায়েলি সরকার চোখ ফিরিয়ে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক চাপ
সামনে ইসরায়েলে নির্বাচন থাকায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারসহ শাসকগোষ্ঠীর তীব্র প্রতিক্রিয়ার পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে। ইসরায়েলিদের একাংশ উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে দেশের জন্য বিব্রতকর মনে করলেও ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা বসতিকে অবৈধ মানতে তারা রাজি নন।
তবে গত বছর দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট যেভাবে সতর্ক করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দেশকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করে দিচ্ছেন, সেই আন্তর্জাতিক চাপের বাস্তবতা এখন আরও বেশি দৃশ্যমান। সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গন থেকে বর্জনের ডাক কিংবা আন্তর্জাতিক পরোয়ানার পর এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলি সাধারণ মানুষের মনেও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক সাড়া
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরলেও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারকে ইহুদি-বিদ্বেষের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং এ পদক্ষেপকে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য বলে দাবি করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ‘আমরা মনে করি, গাজা বিষয়ে আমাদের অগ্রগতি, ২০-দফা পরিকল্পনা এবং শান্তি বোর্ডের ওপর এর প্রভাব পড়বে, যেগুলোর প্রতি আমরা অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্পষ্টতই, যুক্তরাজ্য যা করেছে, আমরা তা করতে যাচ্ছি না।’ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন যুক্তরাজ্যকে মুসলিম সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে একটি অহংকারী প্রকল্প চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হচ্ছে। ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেনসহ ১২টি দেশ দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সমর্থনে যৌথ বিবৃতি দিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে নিজস্ব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ১২টি দেশের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করে লন্ডনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ড. হুসাম জোমলট একে ব্রিটেনের ‘সাহসী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন, কেবল এ নিষেধাজ্ঞাই ইসরায়েলের প্রায় ছয় দশকের দখলদারিত্ব রাতারাতি বন্ধ করে দেবে না।
এ সংকট নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রভাব খাটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন বসতি স্থাপন বন্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্যারান্টি আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইসরায়েলকে চাপে ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির মতো নীতি নির্ধারকরা সরাসরি পশ্চিম তীরকে ইহুদিদের জন্য ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি মনে করেন। ফলে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের নেওয়া এ উদ্যোগ ইসরায়েলের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গেও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিস, আল জাজিরা

ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা: দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় ধাক্কা
সিজেডএন ডেস্ক

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন কূটনৈতিক সংঘাত দেখা দিয়েছে। ব্রিটেনের সঙ্গে আরও ১১টি দেশের এ কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে তেল আবিব ও লন্ডনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ইসরায়েলের পাল্টা ব্যবস্থা
যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই অভূতপূর্ব ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। পাল্টাপদক্ষেপ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কনস্যুলেটটি রামাল্লায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান কূটনৈতিক মাধ্যম হিসেবে কাজ করত। একই সঙ্গে গাজা উপত্যকায় ত্রাণ ও স্থিতিশীলতা সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ‘আন্তর্জাতিক গাজা সাপোর্ট সেন্টার’ থেকেও সরাতে বাধ্য করা হয়েছে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের। ফ্রান্স, স্পেন ও কানাডাসহ ১২টি দেশের এ যৌথ নিষেধাজ্ঞাকে ইসরায়েলি প্রশাসন মারাত্মক সংকট হিসেবে দেখছে।

নিষেধাজ্ঞার পরিধি ও আইসিজের রায়
ইসরায়েলের মোট রপ্তানির তুলনায় বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণ খুব বেশি না হলেও এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য অপরিসীম। ২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, দখলদারত্বের বিরুদ্ধে লন্ডনের অবস্থানের বাস্তব প্রতিফলন এখন থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্কেও থাকবে।
নতুন এ কাঠামোর অধীনে কেবল বসতিতে উৎপাদিত পণ্যই নয়, বরং সেখানকার নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থায়নে যুক্ত কোম্পানিগুলোকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি দখলদারত্ব বজায় রাখতে সহায়তা করে- এমন অস্ত্র বিক্রিতেও বিধিনিষেধ দিয়েছে ব্রিটেন। পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মিলিব্যান্ড বলেন, সেখানে ‘বসতিস্থাপনকারীদের সন্ত্রাসবাদ’ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং এর ফলে ফিলিস্তিনিদের ‘জাতিগত নিধন’ ঘটছে। পুরো বিষয়ের প্রতি ইসরায়েলি সরকার চোখ ফিরিয়ে রেখেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক চাপ
সামনে ইসরায়েলে নির্বাচন থাকায় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সারসহ শাসকগোষ্ঠীর তীব্র প্রতিক্রিয়ার পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করছে। ইসরায়েলিদের একাংশ উগ্র বসতিস্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডকে দেশের জন্য বিব্রতকর মনে করলেও ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে দখল করা ভূখণ্ডে গড়ে ওঠা বসতিকে অবৈধ মানতে তারা রাজি নন।
তবে গত বছর দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট যেভাবে সতর্ক করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দেশকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করে দিচ্ছেন, সেই আন্তর্জাতিক চাপের বাস্তবতা এখন আরও বেশি দৃশ্যমান। সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গন থেকে বর্জনের ডাক কিংবা আন্তর্জাতিক পরোয়ানার পর এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইসরায়েলি সাধারণ মানুষের মনেও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক সাড়া
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরলেও ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি এর কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্য সরকারকে ইহুদি-বিদ্বেষের জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং এ পদক্ষেপকে ইহুদি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য বলে দাবি করেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ‘আমরা মনে করি, গাজা বিষয়ে আমাদের অগ্রগতি, ২০-দফা পরিকল্পনা এবং শান্তি বোর্ডের ওপর এর প্রভাব পড়বে, যেগুলোর প্রতি আমরা অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্পষ্টতই, যুক্তরাজ্য যা করেছে, আমরা তা করতে যাচ্ছি না।’ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন যুক্তরাজ্যকে মুসলিম সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে একটি অহংকারী প্রকল্প চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাজ্যের এ সিদ্ধান্ত প্রশংসিত হচ্ছে। ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, স্পেন, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল ও সুইডেনসহ ১২টি দেশ দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের সমর্থনে যৌথ বিবৃতি দিয়ে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সঙ্গে বাণিজ্যে নিজস্ব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ফিলিস্তিনের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে ১২টি দেশের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিন। যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্তকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়’ হিসেবে উল্লেখ করে লন্ডনে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ড. হুসাম জোমলট একে ব্রিটেনের ‘সাহসী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটিও মনে করিয়ে দেন, কেবল এ নিষেধাজ্ঞাই ইসরায়েলের প্রায় ছয় দশকের দখলদারিত্ব রাতারাতি বন্ধ করে দেবে না।
এ সংকট নিরসনে সবচেয়ে বড় প্রভাব খাটাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৯১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশের প্রশাসন বসতি স্থাপন বন্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্যারান্টি আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ইসরায়েলকে চাপে ফেলেছিল। কিন্তু বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা। ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির মতো নীতি নির্ধারকরা সরাসরি পশ্চিম তীরকে ইহুদিদের জন্য ঈশ্বরের প্রতিশ্রুত ভূমি মনে করেন। ফলে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের নেওয়া এ উদ্যোগ ইসরায়েলের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানের সঙ্গেও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত তৈরি করেছে।
সূত্র: বিবিস, আল জাজিরা









