শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে ইরানিদের সংশয়

সিটিজেন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার নিয়ে ইরানিদের সংশয়
মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ নিহতদের স্মরণে গণজাগরণে শোকাহতরা। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, এই সংলাপের মূল উদ্দেশ্য হলো ‘ইরানি জাতির বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অবৈধ যুদ্ধের অবসান ঘটানো।’

এক সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, এই সংঘাত শুধু ইরানের জনগণ ও তাদের সভ্যতার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর অপরাধ নয়। বরং এটি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি তৈরি করেছে। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন রাখেন—যুক্তরাষ্ট্র আদৌ আয়োজক দেশ পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রতি সম্মান দেখাবে কি না।

এদিকে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরানের অভ্যন্তরে জনমত নিয়ে যে চিত্র উঠে আসছে, তাতে স্পষ্ট হচ্ছে দ্বৈত অনুভূতি। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের একটি ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে ব্যাপক সংশয় বিরাজ করছে।

বিশেষ করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আশঙ্কা প্রবল যে, এই যুদ্ধবিরতি আদৌ টিকে থাকবে কি না। অতীত অভিজ্ঞতার কারণে তারা এ ধরনের সমঝোতার কার্যকারিতা নিয়ে পুরোপুরি আস্থাশীল হতে পারছেন না।

তবে এর পাশাপাশি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশাও রয়েছে—যদি এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সফল হয়, তাহলে দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার হতে পারে। এমনটি হলে ইরানের অর্থনীতির জন্য তা বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে, কারণ বছরের পর বছর ধরে দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অবনতির দিকেই গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগের সফলতা শুধু রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যই নয়, বরং ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমআর/