শিরোনাম

চুক্তিতে বড় কৌশলগত জয় ইরানের: বিশ্লেষক

সিটিজেন ডেস্ক
চুক্তিতে বড় কৌশলগত জয় ইরানের: বিশ্লেষক
পতাকা হাতে রাস্তায় ইরানিরা। ছবি: ব্লুমবার্গ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন খসড়া সমঝোতায় ইরান অভাবনীয় কৌশলগত সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক শীর্ষ বিশ্লেষক। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও ইরান-ইসরায়েল সংঘাত প্রশমনে আনা এই কাঠামোতে মূলত তেহরানের দীর্ঘদিনের দাবিগুলোই পূরণ হতে যাচ্ছে, যা তাদের জন্য এক বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি এ দাবি করেন। প্রস্তাবিত চুক্তি বিশ্লেষণ করে তিনি জানান, বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী তেহরান কার্যত তাদের মূল শর্তগুলোর বড় একটি অংশই অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।

এ খসড়া প্রস্তাবের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তার মতে, প্রণালি খুলে দেওয়ার শর্তটি মূলত ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ারই একটি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। ইজাদি মনে করেন, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় তেহরান কোনোভাবেই নিজে থেকে কৌশলগত এই প্রণালি খুলে দেবে না। তাই ট্রাম্পের এ প্রস্তাব ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিলেরই পথ প্রশস্ত করেছে।

এর পাশাপাশি ইজাদি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, পূর্বে ট্রাম্প ইরানের তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন, সাম্প্রতিক এ সমঝোতায় তার কোনো উল্লেখ নেই। এটি ওয়াশিংটনের আলোচনা-কৌশলে একটি বড় পরিবর্তনের প্রমাণ। একইসঙ্গে, বহির্বিশ্বে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব অর্থের একটি অংশ ফেরত পাওয়া এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মতো বিষয়গুলোও এ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইজাদির মতে, ইরান কখনোই যুদ্ধ বা নিজস্ব বন্দর ও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ চায়নি। তাই সার্বিক দিক বিবেচনায় বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরি তেহরানের অনুকূলেই রয়েছে।

তবে এ ইরানি বিশ্লেষকের দাবির সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মহলের একাংশের সুস্পষ্ট ভিন্নমত রয়েছে। তাদের মতে, চুক্তির চূড়ান্ত রূপ বা বাস্তবায়ন এখনও অনেকটাই অনিশ্চিত। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান বা সিদ্ধান্তে আকস্মিক কোনো পরিবর্তন এলে মধ্যপ্রাচ্যের এ জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ যেকোনো মুহূর্তে দ্রুত বদলে যেতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমএকে/