৫ ঘণ্টার বেশি বিমানে আটকে ১৮২ যাত্রী, দুর্ব্যবহারের অভিযোগ

৫ ঘণ্টার বেশি বিমানে আটকে ১৮২ যাত্রী, দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
সিজেডএন ডেস্ক

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোগামী ফিটস এয়ারের একটি ফ্লাইটে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ১৮২ জন যাত্রী। কারিগরি ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করলেও এই পুরো সময় যাত্রীদের বদ্ধ উড়োজাহাজের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খাবার কিংবা সহায়তাও দেওয়া হয়নি।
গত ১১ জুলাই ফিটস এয়ারের (ফ্লাইট নম্বর ৮ডি ০৯১২) উড়োজাহাজটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে কলম্বোর উদ্দেশে ছাড়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। এতে যাত্রীদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি বা কর্মীদের দুর্ব্যবহারের বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। এদিকে ফিটস এয়ারের এক মুখপাত্রও যাত্রীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলম্বের জন্য নিজেদের দায় এড়িয়ে যান।
বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের অবশ্যই নামিয়ে আনতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিলম্ব দীর্ঘ হলে সাধারণত যাত্রীদের টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সাধারণত তিন ঘণ্টার বেশি এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চার ঘণ্টার বেশি যাত্রীদের টারমাকে আটকে রাখা হয় না।
যাত্রীদের অভিযোগ
ফ্লাইটটির যাত্রী ছিলেন নারী ভ্রমণ সংগঠন ‘গো গার্লস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া রিফাত। কলম্বো পৌঁছানোর পর তিনি জানান, চেক-ইন থেকে শুরু করে বিমানে ওঠা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ছিল বিশৃঙ্খল। তার ভাষ্য, এয়ারলাইনসের কর্মীদের আচরণও ছিল অপেশাদার।
সোনিয়ার দাবি, বিমানে ওঠার পরই জানানো হয় কারিগরি ত্রুটির কথা। কিন্তু দ্রুত সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা না থাকলেও যাত্রীদের কাউকেই নামতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বদ্ধ পরিবেশে থাকার কারণে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একাধিকবার অসুস্থতার কথা জানানো হলেও বিমান থেকে নামার অনুমতি পাননি। শেষ পর্যন্ত দরজার কাছে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে সাতটার আগে যাত্রীদের কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন।
সোনিয়ার ভাষ্য, যেসব যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করতে চেয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার এক সহযাত্রী অফলোডের আবেদন করলে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। আরেকজনের মুখের দিকে ব্যাগ ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলম্বো পৌঁছানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসার নথিও তিনি দেখিয়েছেন। এ ঘটনার পর তাদের সংগঠন ভবিষ্যতে ফিটস এয়ারের মাধ্যমে কোনো ট্যুর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী মেহরীন রহমান জানান, এটি ছিল তার জীবনের প্রথম একক বিদেশ ভ্রমণ। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় সেই অভিজ্ঞতা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি কলম্বো না গিয়েই বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মেহরীনের অভিযোগ, এত দীর্ঘ সময় বিমানে আটকে থাকলেও কোনো খাবার বা রিফ্রেশমেন্ট দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তারও ঘাটতি ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ফিটস এয়ারের ব্যাখ্যা
যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রথমে শাহজালাল বিমানবন্দরের হটলাইনে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফিটস এয়ার ও এভিয়েশন সিকিউরিটির কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এভিয়েশন সিকিউরিটির ডিউটি অফিসার জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ফিটস এয়ারের দেওয়া একাধিক নম্বরে প্রথমে যোগাযোগ সম্ভব না হলেও পরে আরেকটি নম্বরে একজন নিজেকে এয়ারলাইনসটির মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নিজের নাম ‘রানা’ বললেও পুরো পরিচয় বা পদবি জানাননি।
রানা দাবি করেন, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় মাত্র ৪৫ মিনিট বিলম্বিত হয়েছিল। তার ভাষ্য, ওই সময় শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে সংস্কারকাজ চলছিল। পরে রানওয়ে চালু হলেও বৈরী আবহাওয়া ও এভিয়েশন সতর্কতার কারণে উড্ডয়ন সম্ভব হয়নি। এছাড়া রানওয়ের আলোকসজ্জার কাজ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে যাত্রীদের তোলা ছবি ও সময়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। অর্থাৎ যাত্রীরা পাঁচ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটেরও বেশি সময় বিমানের ভেতরে ছিলেন।
রানা আরও বলেন, যাত্রীদের অফলোড করা এবং লাগেজ নামানোর ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা ছিল। পরে তার বিস্তারিত পরিচয় জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যা বলছে
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ই-মেইলে জানান, ফিটস এয়ারের ৮ডি ৯১১/৯১২ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরিতে রাত ২টায় ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর রাত ২টা ১৫ মিনিটে কলম্বোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় প্রকৌশলীরা বিমানের পরীক্ষা করে হাইড্রোলিক ফ্লুইডের মাত্রা কম পাওয়া যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ত্রুটি দূর না হওয়া পর্যন্ত বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।
তিনি জানান, রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই অবস্থান করেন। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাদের সেখানে থাকতে হয়েছে। যাত্রীদের জন্য সকাল ৬টার দিকে হালকা নাশতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে যাত্রীদের সঙ্গে এয়ারলাইনসের কর্মীদের দুর্ব্যবহার বা অপেশাদার আচরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানান নির্বাহী পরিচালক।

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোগামী ফিটস এয়ারের একটি ফ্লাইটে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ১৮২ জন যাত্রী। কারিগরি ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করলেও এই পুরো সময় যাত্রীদের বদ্ধ উড়োজাহাজের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খাবার কিংবা সহায়তাও দেওয়া হয়নি।
গত ১১ জুলাই ফিটস এয়ারের (ফ্লাইট নম্বর ৮ডি ০৯১২) উড়োজাহাজটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে কলম্বোর উদ্দেশে ছাড়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। এতে যাত্রীদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি বা কর্মীদের দুর্ব্যবহারের বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। এদিকে ফিটস এয়ারের এক মুখপাত্রও যাত্রীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলম্বের জন্য নিজেদের দায় এড়িয়ে যান।
বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের অবশ্যই নামিয়ে আনতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিলম্ব দীর্ঘ হলে সাধারণত যাত্রীদের টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সাধারণত তিন ঘণ্টার বেশি এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চার ঘণ্টার বেশি যাত্রীদের টারমাকে আটকে রাখা হয় না।
যাত্রীদের অভিযোগ
ফ্লাইটটির যাত্রী ছিলেন নারী ভ্রমণ সংগঠন ‘গো গার্লস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া রিফাত। কলম্বো পৌঁছানোর পর তিনি জানান, চেক-ইন থেকে শুরু করে বিমানে ওঠা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ছিল বিশৃঙ্খল। তার ভাষ্য, এয়ারলাইনসের কর্মীদের আচরণও ছিল অপেশাদার।
সোনিয়ার দাবি, বিমানে ওঠার পরই জানানো হয় কারিগরি ত্রুটির কথা। কিন্তু দ্রুত সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা না থাকলেও যাত্রীদের কাউকেই নামতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বদ্ধ পরিবেশে থাকার কারণে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একাধিকবার অসুস্থতার কথা জানানো হলেও বিমান থেকে নামার অনুমতি পাননি। শেষ পর্যন্ত দরজার কাছে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে সাতটার আগে যাত্রীদের কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন।
সোনিয়ার ভাষ্য, যেসব যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করতে চেয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার এক সহযাত্রী অফলোডের আবেদন করলে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। আরেকজনের মুখের দিকে ব্যাগ ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলম্বো পৌঁছানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসার নথিও তিনি দেখিয়েছেন। এ ঘটনার পর তাদের সংগঠন ভবিষ্যতে ফিটস এয়ারের মাধ্যমে কোনো ট্যুর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী মেহরীন রহমান জানান, এটি ছিল তার জীবনের প্রথম একক বিদেশ ভ্রমণ। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় সেই অভিজ্ঞতা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি কলম্বো না গিয়েই বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মেহরীনের অভিযোগ, এত দীর্ঘ সময় বিমানে আটকে থাকলেও কোনো খাবার বা রিফ্রেশমেন্ট দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তারও ঘাটতি ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ফিটস এয়ারের ব্যাখ্যা
যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রথমে শাহজালাল বিমানবন্দরের হটলাইনে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফিটস এয়ার ও এভিয়েশন সিকিউরিটির কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এভিয়েশন সিকিউরিটির ডিউটি অফিসার জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ফিটস এয়ারের দেওয়া একাধিক নম্বরে প্রথমে যোগাযোগ সম্ভব না হলেও পরে আরেকটি নম্বরে একজন নিজেকে এয়ারলাইনসটির মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নিজের নাম ‘রানা’ বললেও পুরো পরিচয় বা পদবি জানাননি।
রানা দাবি করেন, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় মাত্র ৪৫ মিনিট বিলম্বিত হয়েছিল। তার ভাষ্য, ওই সময় শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে সংস্কারকাজ চলছিল। পরে রানওয়ে চালু হলেও বৈরী আবহাওয়া ও এভিয়েশন সতর্কতার কারণে উড্ডয়ন সম্ভব হয়নি। এছাড়া রানওয়ের আলোকসজ্জার কাজ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে যাত্রীদের তোলা ছবি ও সময়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। অর্থাৎ যাত্রীরা পাঁচ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটেরও বেশি সময় বিমানের ভেতরে ছিলেন।
রানা আরও বলেন, যাত্রীদের অফলোড করা এবং লাগেজ নামানোর ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা ছিল। পরে তার বিস্তারিত পরিচয় জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যা বলছে
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ই-মেইলে জানান, ফিটস এয়ারের ৮ডি ৯১১/৯১২ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরিতে রাত ২টায় ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর রাত ২টা ১৫ মিনিটে কলম্বোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় প্রকৌশলীরা বিমানের পরীক্ষা করে হাইড্রোলিক ফ্লুইডের মাত্রা কম পাওয়া যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ত্রুটি দূর না হওয়া পর্যন্ত বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।
তিনি জানান, রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই অবস্থান করেন। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাদের সেখানে থাকতে হয়েছে। যাত্রীদের জন্য সকাল ৬টার দিকে হালকা নাশতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে যাত্রীদের সঙ্গে এয়ারলাইনসের কর্মীদের দুর্ব্যবহার বা অপেশাদার আচরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানান নির্বাহী পরিচালক।

৫ ঘণ্টার বেশি বিমানে আটকে ১৮২ যাত্রী, দুর্ব্যবহারের অভিযোগ
সিজেডএন ডেস্ক

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোগামী ফিটস এয়ারের একটি ফ্লাইটে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ১৮২ জন যাত্রী। কারিগরি ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি উড্ডয়ন করলেও এই পুরো সময় যাত্রীদের বদ্ধ উড়োজাহাজের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় খাবার কিংবা সহায়তাও দেওয়া হয়নি।
গত ১১ জুলাই ফিটস এয়ারের (ফ্লাইট নম্বর ৮ডি ০৯১২) উড়োজাহাজটি রাত ২টা ১৫ মিনিটে কলম্বোর উদ্দেশে ছাড়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। এতে যাত্রীদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করেছেন।
অন্যদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের ভোগান্তি বা কর্মীদের দুর্ব্যবহারের বিষয়ে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ আসেনি। এদিকে ফিটস এয়ারের এক মুখপাত্রও যাত্রীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বিলম্বের জন্য নিজেদের দায় এড়িয়ে যান।
বিমান চলাচল সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, উড়োজাহাজে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে যাত্রীদের অবশ্যই নামিয়ে আনতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিলম্ব দীর্ঘ হলে সাধারণত যাত্রীদের টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সাধারণত তিন ঘণ্টার বেশি এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে চার ঘণ্টার বেশি যাত্রীদের টারমাকে আটকে রাখা হয় না।
যাত্রীদের অভিযোগ
ফ্লাইটটির যাত্রী ছিলেন নারী ভ্রমণ সংগঠন ‘গো গার্লস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সোনিয়া রিফাত। কলম্বো পৌঁছানোর পর তিনি জানান, চেক-ইন থেকে শুরু করে বিমানে ওঠা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াই ছিল বিশৃঙ্খল। তার ভাষ্য, এয়ারলাইনসের কর্মীদের আচরণও ছিল অপেশাদার।
সোনিয়ার দাবি, বিমানে ওঠার পরই জানানো হয় কারিগরি ত্রুটির কথা। কিন্তু দ্রুত সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনা না থাকলেও যাত্রীদের কাউকেই নামতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বদ্ধ পরিবেশে থাকার কারণে তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। একাধিকবার অসুস্থতার কথা জানানো হলেও বিমান থেকে নামার অনুমতি পাননি। শেষ পর্যন্ত দরজার কাছে গিয়ে কিছুটা স্বস্তি নেওয়ার চেষ্টা করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সকাল সাড়ে সাতটার আগে যাত্রীদের কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকায় শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েন।
সোনিয়ার ভাষ্য, যেসব যাত্রী ভ্রমণ বাতিল করতে চেয়েছিলেন, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। তার এক সহযাত্রী অফলোডের আবেদন করলে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। আরেকজনের মুখের দিকে ব্যাগ ছুড়ে মারার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কলম্বো পৌঁছানোর পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসার নথিও তিনি দেখিয়েছেন। এ ঘটনার পর তাদের সংগঠন ভবিষ্যতে ফিটস এয়ারের মাধ্যমে কোনো ট্যুর পরিচালনা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই ফ্লাইটের আরেক যাত্রী মেহরীন রহমান জানান, এটি ছিল তার জীবনের প্রথম একক বিদেশ ভ্রমণ। কিন্তু বিমান কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় সেই অভিজ্ঞতা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত তিনি কলম্বো না গিয়েই বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মেহরীনের অভিযোগ, এত দীর্ঘ সময় বিমানে আটকে থাকলেও কোনো খাবার বা রিফ্রেশমেন্ট দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তারও ঘাটতি ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ফিটস এয়ারের ব্যাখ্যা
যাত্রীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রথমে শাহজালাল বিমানবন্দরের হটলাইনে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ফিটস এয়ার ও এভিয়েশন সিকিউরিটির কয়েকটি নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। এভিয়েশন সিকিউরিটির ডিউটি অফিসার জানান, বিষয়টি তাদের জানা নেই এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ফিটস এয়ারের দেওয়া একাধিক নম্বরে প্রথমে যোগাযোগ সম্ভব না হলেও পরে আরেকটি নম্বরে একজন নিজেকে এয়ারলাইনসটির মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি নিজের নাম ‘রানা’ বললেও পুরো পরিচয় বা পদবি জানাননি।
রানা দাবি করেন, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের তুলনায় মাত্র ৪৫ মিনিট বিলম্বিত হয়েছিল। তার ভাষ্য, ওই সময় শাহজালাল বিমানবন্দরের রানওয়েতে সংস্কারকাজ চলছিল। পরে রানওয়ে চালু হলেও বৈরী আবহাওয়া ও এভিয়েশন সতর্কতার কারণে উড্ডয়ন সম্ভব হয়নি। এছাড়া রানওয়ের আলোকসজ্জার কাজ এবং ভারী বৃষ্টির কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে যাত্রীদের তোলা ছবি ও সময়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ফ্লাইটটি সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উড্ডয়ন করে। অর্থাৎ যাত্রীরা পাঁচ ঘণ্টা ৩৫ মিনিটেরও বেশি সময় বিমানের ভেতরে ছিলেন।
রানা আরও বলেন, যাত্রীদের অফলোড করা এবং লাগেজ নামানোর ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা ছিল। পরে তার বিস্তারিত পরিচয় জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যা বলছে
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ই-মেইলে জানান, ফিটস এয়ারের ৮ডি ৯১১/৯১২ ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট দেরিতে রাত ২টায় ঢাকায় পৌঁছায়। এরপর রাত ২টা ১৫ মিনিটে কলম্বোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতির সময় প্রকৌশলীরা বিমানের পরীক্ষা করে হাইড্রোলিক ফ্লুইডের মাত্রা কম পাওয়া যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ত্রুটি দূর না হওয়া পর্যন্ত বিমানটিকে উড্ডয়নের অনুপযুক্ত ঘোষণা করা হয়।
তিনি জানান, রাত ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত যাত্রীরা বিমানের ভেতরেই অবস্থান করেন। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ ঘণ্টা তাদের সেখানে থাকতে হয়েছে। যাত্রীদের জন্য সকাল ৬টার দিকে হালকা নাশতার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে যাত্রীদের সঙ্গে এয়ারলাইনসের কর্মীদের দুর্ব্যবহার বা অপেশাদার আচরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানান নির্বাহী পরিচালক।




