ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্লোটিলা কর্মীদের নির্যাতন-ধর্ষণের অভিযোগ

ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্লোটিলা কর্মীদের নির্যাতন-ধর্ষণের অভিযোগ
সিটিজেন ডেস্ক

গত ৩ বছরের অধিক সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। এই অবরোধ ভেঙে উপত্যকাটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহরে যাত্রা করে আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীরা। তবে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর অমানবিক আচরণ করে। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় শুরু হয়। এবার আটক অবস্থায় আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের অমানবিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২২ মে) মুক্তি পাওয়া একাধিক কর্মী এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দি থাকাকালীন তারা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অন্তত ১৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অধিকারকর্মীরা, যার মধ্যে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও রয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, গাজায় যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩০ জন কর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে একটি ইসরায়েলি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়, যেটিকে অস্থায়ী কারাগারে রূপান্তর করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেটা শিপিং কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তৈরি ছিল।
কনটেইনারের ভেতরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে অপমানজনক দেহ তল্লাশি, স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, যৌন হয়রানি এবং একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।
শুক্রবার প্যারিসে ফেরার পর ফরাসি অধিকারকর্মী মেরিয়েম হাদজাল সাংবাদিকদের জানান, তিনি ‘যৌন সহিংসতা ও শ্লীলতাহানির শিকার’ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে চড় মারা, পাঁজরে হাঁটু দিয়ে আঘাত করা এবং চুল ধরে টানা হয়েছিল। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম।’
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছে ব্রিটিশ আন্দোলনকর্মী রিচার্ড জোহান অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মারধর করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, আমরা তার সামান্যই স্বাদ পেলাম।’
ইতালীয় অধিকারকর্মী ইলারিয়া মানকোসু জানান, আটক অবস্থায় অনেকের হাত ও পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেজার গান ব্যবহারের কারণে অনেকের কান ও চোখে গুরুতর জখম পেয়েছে। এমনকি টানা দুদিন তাদের পানি পান করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রোমের প্রসিকিউটররা এই অপহরণ, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলোকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ফ্রান্সে ফিরে যাওয়া আহত নাগরিকদের কয়েকজন তুরস্কে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে।
এদিকে অধিকারকর্মীদের ওপর অত্যাচার ও যৌন নির্যাতনের দাবি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। এক বিবৃতিতে দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সকল বন্দী ও আটককৃতদের মৌলিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে এবং পেশাদার ও প্রশিক্ষিত কারা কর্মীদের তত্ত্বাবধানে আইন অনুযায়ী রাখা হয়।’
গত সপ্তাহে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (জিএসএফ) ৫০টিরও বেশি নৌকা তুরস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে, যার পরিকল্পনা ছিল গাজায় ইসরায়েলের সামুদ্রিক অবরোধ ভেঙে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
ইসরায়েলি সরকার এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের স্বার্থে একটি ‘জনসংযোগ কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়ে গত সোম ও মঙ্গলবার সাইপ্রাসের পশ্চিমে নৌকাগুলোতে কমান্ডোদের আরোহণের নির্দেশ দেয়।
আশদোদ বন্দরে পৌঁছানোর পর আটককৃত আন্দোলনকারীদের ইসরায়েলি জাহাজে তুলে একটি ইসরায়েলি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ৪১টি দেশের ৪২২ জন অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফিরেছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তাকে বন্দি কর্মীদের নিয়ে উপহাস করতে দেখা গেছে। এমনকি তাদের হাত বেধে মাথা মাটিতে রাখতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় শুরু হয়। দেশে দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে জবাব চাওয়া হয়।
সূত্র: বিবিসি

গত ৩ বছরের অধিক সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। এই অবরোধ ভেঙে উপত্যকাটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহরে যাত্রা করে আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীরা। তবে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর অমানবিক আচরণ করে। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় শুরু হয়। এবার আটক অবস্থায় আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের অমানবিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২২ মে) মুক্তি পাওয়া একাধিক কর্মী এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দি থাকাকালীন তারা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অন্তত ১৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অধিকারকর্মীরা, যার মধ্যে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও রয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, গাজায় যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩০ জন কর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে একটি ইসরায়েলি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়, যেটিকে অস্থায়ী কারাগারে রূপান্তর করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেটা শিপিং কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তৈরি ছিল।
কনটেইনারের ভেতরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে অপমানজনক দেহ তল্লাশি, স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, যৌন হয়রানি এবং একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।
শুক্রবার প্যারিসে ফেরার পর ফরাসি অধিকারকর্মী মেরিয়েম হাদজাল সাংবাদিকদের জানান, তিনি ‘যৌন সহিংসতা ও শ্লীলতাহানির শিকার’ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে চড় মারা, পাঁজরে হাঁটু দিয়ে আঘাত করা এবং চুল ধরে টানা হয়েছিল। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম।’
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছে ব্রিটিশ আন্দোলনকর্মী রিচার্ড জোহান অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মারধর করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, আমরা তার সামান্যই স্বাদ পেলাম।’
ইতালীয় অধিকারকর্মী ইলারিয়া মানকোসু জানান, আটক অবস্থায় অনেকের হাত ও পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেজার গান ব্যবহারের কারণে অনেকের কান ও চোখে গুরুতর জখম পেয়েছে। এমনকি টানা দুদিন তাদের পানি পান করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রোমের প্রসিকিউটররা এই অপহরণ, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলোকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ফ্রান্সে ফিরে যাওয়া আহত নাগরিকদের কয়েকজন তুরস্কে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে।
এদিকে অধিকারকর্মীদের ওপর অত্যাচার ও যৌন নির্যাতনের দাবি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। এক বিবৃতিতে দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সকল বন্দী ও আটককৃতদের মৌলিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে এবং পেশাদার ও প্রশিক্ষিত কারা কর্মীদের তত্ত্বাবধানে আইন অনুযায়ী রাখা হয়।’
গত সপ্তাহে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (জিএসএফ) ৫০টিরও বেশি নৌকা তুরস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে, যার পরিকল্পনা ছিল গাজায় ইসরায়েলের সামুদ্রিক অবরোধ ভেঙে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
ইসরায়েলি সরকার এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের স্বার্থে একটি ‘জনসংযোগ কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়ে গত সোম ও মঙ্গলবার সাইপ্রাসের পশ্চিমে নৌকাগুলোতে কমান্ডোদের আরোহণের নির্দেশ দেয়।
আশদোদ বন্দরে পৌঁছানোর পর আটককৃত আন্দোলনকারীদের ইসরায়েলি জাহাজে তুলে একটি ইসরায়েলি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ৪১টি দেশের ৪২২ জন অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফিরেছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তাকে বন্দি কর্মীদের নিয়ে উপহাস করতে দেখা গেছে। এমনকি তাদের হাত বেধে মাথা মাটিতে রাখতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় শুরু হয়। দেশে দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে জবাব চাওয়া হয়।
সূত্র: বিবিসি

ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ফ্লোটিলা কর্মীদের নির্যাতন-ধর্ষণের অভিযোগ
সিটিজেন ডেস্ক

গত ৩ বছরের অধিক সময় ধরে ফিলিস্তিনের গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে দখলদার ইসরায়েল। এই অবরোধ ভেঙে উপত্যকাটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহরে যাত্রা করে আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীরা। তবে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের ওপর অমানবিক আচরণ করে। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় শুরু হয়। এবার আটক অবস্থায় আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীদের অমানবিক নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২২ মে) মুক্তি পাওয়া একাধিক কর্মী এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দি থাকাকালীন তারা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অন্তত ১৫ জন যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অধিকারকর্মীরা, যার মধ্যে ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনাও রয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ জানিয়েছে, গাজায় যাওয়ার পথে গত মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে প্রায় ৪৩০ জন কর্মীকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে একটি ইসরায়েলি জাহাজে নিয়ে যাওয়া হয়, যেটিকে অস্থায়ী কারাগারে রূপান্তর করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেটা শিপিং কনটেইনার ও কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তৈরি ছিল।
কনটেইনারের ভেতরে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগী কর্মীরা অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে অপমানজনক দেহ তল্লাশি, স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত, যৌন হয়রানি এবং একাধিক ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।
শুক্রবার প্যারিসে ফেরার পর ফরাসি অধিকারকর্মী মেরিয়েম হাদজাল সাংবাদিকদের জানান, তিনি ‘যৌন সহিংসতা ও শ্লীলতাহানির শিকার’ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাকে চড় মারা, পাঁজরে হাঁটু দিয়ে আঘাত করা এবং চুল ধরে টানা হয়েছিল। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম।’
ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছে ব্রিটিশ আন্দোলনকর্মী রিচার্ড জোহান অ্যান্ডারসন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মারধর করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যায়, আমরা তার সামান্যই স্বাদ পেলাম।’
ইতালীয় অধিকারকর্মী ইলারিয়া মানকোসু জানান, আটক অবস্থায় অনেকের হাত ও পাঁজর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টেজার গান ব্যবহারের কারণে অনেকের কান ও চোখে গুরুতর জখম পেয়েছে। এমনকি টানা দুদিন তাদের পানি পান করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রোমের প্রসিকিউটররা এই অপহরণ, নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছেন। জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগগুলোকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং ফ্রান্সে ফিরে যাওয়া আহত নাগরিকদের কয়েকজন তুরস্কে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে।
এদিকে অধিকারকর্মীদের ওপর অত্যাচার ও যৌন নির্যাতনের দাবি অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। এক বিবৃতিতে দেশটির কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব অভিযোগ ‘মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সকল বন্দী ও আটককৃতদের মৌলিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করে এবং পেশাদার ও প্রশিক্ষিত কারা কর্মীদের তত্ত্বাবধানে আইন অনুযায়ী রাখা হয়।’
গত সপ্তাহে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার (জিএসএফ) ৫০টিরও বেশি নৌকা তুরস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে, যার পরিকল্পনা ছিল গাজায় ইসরায়েলের সামুদ্রিক অবরোধ ভেঙে খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
ইসরায়েলি সরকার এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের স্বার্থে একটি ‘জনসংযোগ কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়ে গত সোম ও মঙ্গলবার সাইপ্রাসের পশ্চিমে নৌকাগুলোতে কমান্ডোদের আরোহণের নির্দেশ দেয়।
আশদোদ বন্দরে পৌঁছানোর পর আটককৃত আন্দোলনকারীদের ইসরায়েলি জাহাজে তুলে একটি ইসরায়েলি কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ৪১টি দেশের ৪২২ জন অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই ইতোমধ্যে নিজ দেশে ফিরেছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে তাকে বন্দি কর্মীদের নিয়ে উপহাস করতে দেখা গেছে। এমনকি তাদের হাত বেধে মাথা মাটিতে রাখতে বাধ্য করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় শুরু হয়। দেশে দেশে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে জবাব চাওয়া হয়।
সূত্র: বিবিসি

ফ্লোটিলার শত শত অধিকারকর্মীকে ফেরত পাঠালো ইসরায়েল
গাজামুখী ফ্লোটিলার সব নৌকা জব্দ করেছে ইসরায়েল
সিরিয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ব্যাপক হামলা


