শিরোনাম

ইরান যুদ্ধে নতুন মাত্রা, বেসামরিক প্রাণহানিতে বাড়ছে উদ্বেগ

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধে নতুন মাত্রা, বেসামরিক প্রাণহানিতে বাড়ছে উদ্বেগ
ইরানের সিরিক প্রদেশের কুহিসতিকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের কাছে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির চারপাশে ধ্বংসস্তূপ পড়ে আছে। ছবি: রয়টার্স

ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হামলায় আবারও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতের হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। নিহতদের মধ্যে হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় এলাকায় আয়োজিত একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা চারজনও রয়েছেন।

ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের আয়োজনে হামলা চালানো হলে চারজন প্রাণ হারানোর পাশাপাশি আরও ৬৭ জন মারাত্মকভাবে আহত হন। এর জবাবে বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে দেশটির দিকে আসা বেশ কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করেছে।

জুলাইয়ের পর কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও কূটনৈতিক আলোচনার ব্যর্থতায় সংঘাত আবার নতুন করে চড়াও হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান জোরদারের হুমকি দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এ যুদ্ধের জনপ্রিয়তা বেশ কম। সংঘাতের কারণে দেশটিতে পেট্রোল ও জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। সামনেই নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন, তাই সম্ভাব্য রাজনৈতিক ক্ষতি এড়াতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা আপাতত সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে তৎপর রয়েছেন। তবে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ নভেম্বরের ভোটের পরপরই সামরিক অভিযানের মাত্রা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও নিজেদের অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি তেহরান। এ অবস্থায় বেসামরিক প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিশেষ করে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সংঘাতে জড়িত সব পক্ষকে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংঘাতের সার্বিক চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ। স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ জানিয়েছে, ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এ যুদ্ধে ইরানে ৩ হাজার ৬৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জনই সাধারণ নাগরিক। অন্যদিকে পেন্টাগনের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং সাড়ে সাতশর বেশি সদস্য আহত হয়েছেন।

তবে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর অভিযোগ মানতে নারাজ ওয়াশিংটন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক ই-মেইলে জানিয়েছেন, ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত। তবে তার দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

রেড ক্রিসেন্টের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ এবং ছাদে বিশাল গর্ত দেখা গেছে। রয়টার্স উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে, ধসে পড়া ভবনটির ১৩৬ মিটারের মধ্যেই একটি যোগাযোগ টাওয়ার মাটিতে উপড়ে পড়েছে। এই ঘটনা যুদ্ধের শুরুর দিকে মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/