শিরোনাম

লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙা ২ ইসরায়েলি সেনার শাস্তি

সিটিজেন ডেস্ক
লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙা ২ ইসরায়েলি সেনার শাস্তি
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের ক্রুশবিদ্ধ মূর্তি ভাঙচুরের অভিযোগে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দুই সদস্যকে ৩০ দিনের জন্য সামরিক হেফাজতে হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এই শাস্তির কথা জানানো হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, এক ইসরায়েলি সেনা কুঠার দিয়ে একটি ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি ধ্বংস করছেন এবং অন্য এক সেনা সেই দৃশ্যের ছবি তুলছেন। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনুস তিরাউই প্রথম এই ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় তোলে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে সামরিক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তারা স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় মূর্তিটি পুনরায় স্থাপনের কাজ করছে। এ ঘটনার সময় আরও ৬ জন সেনা উপস্থিত থাকলেও তারা একে বাধা দেয়নি বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ইসরায়েলের চিফ অব স্টাফ আইয়াল জামির এ ঘটনাকে নৈতিক বিপর্যয় ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর নিন্দা জানিয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে এ ধরনের শাস্তির ঘটনা অত্যন্ত বিরল, কারণ গাজা ও পশ্চিম তীরে সেনাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রায় ৮৮ শতাংশই কোনো সমাধান ছাড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি দক্ষিণ লেবাননের দেবেল গ্রামে ঘটেছে, যা বর্তমানে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রামগুলোর একটি। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে শিয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও দেবেলের মতো খ্রিস্টান প্রধান গ্রামগুলোতে এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে লেবাননের আইনপ্রণেতারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েলি সেনাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্প্রতি মার্কিন মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও এ ধরনের ঘটনাগুলো নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স

/এমএকে/