শিরোনাম

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান, যা জানা জরুরি

সিটিজেন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থল অভিযান, যা জানা জরুরি
দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রাম।

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান ও বিমান হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের আগ্রাসন উল্লেখভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এতে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলা পরিস্থিতি সম্পর্কে সর্বশেষ যা জানা গেলো:

লিতানি নদী অতিক্রম

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েলি স্থলবাহিনী ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার (২০ মাইল) উত্তরে লিতানি নদী অতিক্রম করেছে। এটি ইসরায়েলি আগ্রাসনের একটি উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ।

ব্যাপক বিমান হামলা

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর স্থল অভিযানের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের আব্বাসিয়েহ, দেইর কানুন এন-নাহর এবং টায়ার শহরের নিকটবর্তী এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এছাড়া আরও নতুন নতুন এলাকায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যার ফলে বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।

জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের জোরপূর্বক স্থানচ্যুতি অভিযান সম্প্রসারিত করেছে। দক্ষিণ লেবাননের আরও সাতটি শহর থেকে জনগণকে অবিলম্বে পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি অমান্য

ইসরায়েল এমন এক সময়ে লেবাননে বড় ধরনের সামরিক হামলা শুরু করেছে, যখন দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান রয়েছে। গত ২ মার্চ থেকে চলা এই সংঘাত অবসানে ১৭ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলি ও লেবানিজ কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনার পর ১৭ মে তা ৪৫ দিনের জন্য বৃদ্ধি করা হয়।

‘বাফার জোন’ তৈরি

প্রত্যক্ষ তদন্ত এবং স্যাটেলাইট ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের পুরো সীমান্ত এলাকাগুলো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর মধ্যে দক্ষিণ লেবাননের একাধিক অঞ্চল দখল করে সেখানে তথাকথিত একটি ‘হলুদ রেখা’ স্থাপন করেছে দখলদার সেনাবাহিনী। হামলার ধরণ দেখে এপ্রিলের শেষের দিকে আইন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, ইসরায়েলি অভিযানটির লক্ষ্য লেবাননের ইসরায়েল সীমান্তে স্থায়ীভাবে জনশূন্য একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা।

মানবিক সংকট

গত ২ মার্চ ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে লাখ লাখ লেবানিজ বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪০টি হাসপাতাল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাওয়ায় তাদের এই অঞ্চল থেকে সরে যেতে হতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা

/জেএইচ/