শিরোনাম

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমানের চুক্তি স্বাক্ষর

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমানের চুক্তি স্বাক্ষর
হরমুজ প্রণালি

বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি কৌশলগত চুক্তিতে পৌঁছেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি ও বাধার মুখে টানা ৩ সপ্তাহ আলোচনার দুই দেশ নতুন রুট বা মানচিত্র চূড়ান্ত করেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) ইরানি সংবাদমাধ্যম দেফা প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।

বাঘাই জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে এ আলোচনায় যুক্ত ছিল ইরানি প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ বিষয়ক শীর্ষ কর্তৃপক্ষও। কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক চেষ্টায় ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও কয়েকটি বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত আলোচনা বাকি রয়েছে। সে কারণেই দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো যৌথ ঘোষণা দেয়নি। অমীমাংসিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি হওয়া মাত্রই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। মজার বিষয় হলো, নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানকে সামরিকভাবে হারিয়ে হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে দখলের ঘোষণা দেওয়ার পরদিনই ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কথা সামনে আনল ইরান।

ওমান উপসাগর ও পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করা এ প্রণালিটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব জ্বালানির প্রায় ২০ শতাংশই এ জলপথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে মার্কিন সামরিক হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটির স্বাভাবিক কার্যক্রম থমকে যায়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই হরমুজে অবরোধ দেয় ইরান, জবাবে এপ্রিলে ইরানি বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে ওয়াশিংটন। ১৭ জুন ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তির পর কিছুটা শিথিলতা এলেও জুলাইয়ের শুরুতে আইআরজিসি জাহাজে হামলা চালালে আবারও তা ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে ১৩ জুলাই চুক্তি থেকে সরে এসে তেহরান আবারও অবরোধ দিলে ওয়াশিংটন পাল্টা কড়াকড়ি আরোপ করে।

ইরানি মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুই উপকূলীয় স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা দিতেই তেহরান ও মাসকাট এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। তবে এ চুক্তি বাস্তবে কতটা আলো দেখবে, তা নিয়ে এখনো কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে। বাঘাই স্বীকার করেছেন, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে মার্কিন নৌ-অবরোধ ও সামরিক হুমকি তুলে নেওয়ার ওপর।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

/এমএকে/