শিরোনাম

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘সেরা জয়’ যেভাবে এলো

সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
সিজেডএন স্পোর্টস ডেস্ক
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘সেরা জয়’ যেভাবে এলো
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জয় উদযাপন

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে টেস্টে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এই জয় অবিশ্বাস্য, অতুলনীয়। এই জয়ের মাহত্ম্য বোঝাতে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচের পর বলেই দিলেন, ‘যেকোনো সংস্করণে এটাই বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তৃতীয় টেস্ট, দ্বিতীয় সফর। সেটাও ২৩ বছর পর। অস্ট্রেলিয়া সেরা দল নিয়েই নেমেছিল ডারউইনে। আর বাংলাদেশের এই দলের কোনো ক্রিকেটারেরই আগে অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। অস্ট্রেলিয়ার একাদশে থাকা চারজন ক্রিকেটারের টেস্ট উইকেট সংখ্যা ৩০০’র উপরে। স্টিভ স্মিথের টেস্ট রান ১০ হাজারের বেশি। বর্তমানে টেস্ট ব্যাটিং র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে ট্রাভিস হেড। কিন্তু কোনো কিছুতেই বা কোনো পরিসংখ্যানই কাজে আসলো না।

চারদিনে ১১ সেশন খেলা হয়েছে। প্রতিটি সেশনে দাপট দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে শেষ কবে কোনো দল হারিয়েছে তা জানতে ঘাটতে হবে ইতিহাস। একটা ছোট পরিসংখ্যানে নজর দেওয়া যাক- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম টেস্ট খেলে অস্ট্রলিয়ার মাটিতে জিতলো বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে ভারত প্রথম জয় পেয়েছিল ১২তম টেস্টে, পাকিস্তান সপ্তম টেস্টে, শ্রীলঙ্কা ১৫ টেস্ট খেলে জয় পায়নি। বাংলাদেশ তৃতীয় টেস্টেই পেলো অস্ট্রেলিয়ার মটিতে টেস্ট জয়ের স্বাদ। আফগানিস্তান এখনো অস্ট্রেলিয়ায় কোনো টেস্ট খেলার সুযোগ পায়নি।

বাংলাদেশ দলের ডারউইন ইতিহাসের বেশির ভাগটা লেখা হয়ে গিয়েছিল টেস্টের প্রথম তিন দিনেই। ডারউইনের মারার স্টেডিয়ামে টস জেতে অস্ট্রেলিয়া। এরপর পুরো ম্যাচে স্বাগতিক দর্শকরা নিজ দেশের জন্য হাততালি দিতে পেরেছেন মোটে দুবার। একবার যখন দ্বিতীয় ইনিংসে লিড নিয়ে ইনিংস হারের শঙ্কা এড়ায় অস্ট্রেলিয়া, এরপর ক্যামেরুন গ্রিনের সেঞ্চুরিতে।

টেস্টের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের পেসাররা বুলডোজার চালায় অস্ট্রেলিয়ার ওপর। স্বাগতিকরা প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ১৯৮ রানে। হাসান মাহমুদ নেন ৬ উইকেট। জবাব দিতে নেমে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি করেন তানজিদ হাসান তামিম (১০১), নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ রান, মেহেদী হাসান মিরাজ খেলেন ৬৫ রানের ইনিংস। বাংলাদেশের লিড ছিল ২২৮ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে আগের চেয়ে ভালো ব্যাটিং করলো অস্ট্রেলিয়া। এবার তারা অলআউট হলো ২৮৪ রানে। এবার ৫ উইকেট নিলেন মিরাজ। হাসান মাহমুদ নিলেন ৩টি। তাতে বাংলাদেশের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪.২ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ দল।

ডারউইনে ম্যাচের আগে অধিনায়ক শান্ত জানিয়েছিলেন, ৫ দিন ভালো খেলার কথা। তবে চারদিনেই টেস্ট জিতলো তারা।

বাংলাদেশ ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে দুটি টেস্ট খেলে। দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল দল। গেল ২৩ বছরে বদলেছে অনেক কিছু। ২০১৭ সালে মিরপুরে স্পিন পিচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট হারের স্বাদ দেওয়া গেছে।

তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে ১১ সেশনই দাপট দেখাবে বাংলাদেশ সেটি হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেননি। তাই তো ম্যাচ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দেখা গেছে, নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছি না!

বিশ্বাস না হলে নিজেকে চিমটি কাটুন। ইতিহাস লেখা হয়ে গেছে। বাংলাদেশ জিতেছে ডারউইন টেস্ট। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজে এখন ১-০ তে এগিয়ে বাংলাদেশ।

/টিই/