শিরোনাম

‘শহরের শিশু প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
‘শহরের শিশু প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে না’
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

খেলার মাঠ, উন্মুক্ত জায়গা কমে যাওয়ায় ঢাকার পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে জানিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)র সাবেক সভাপতি ড. আকতার মাহমুদ বলেছেন, এত এত শিশু তাদের শৈশব কাটিয়ে কৈশোরে যাচ্ছে, সেখান থেকে যুবক হয়ে তরুণ-তরুণীরা তাদের পরিণতি বয়সের দিকে চলে যাচ্ছে; অথচ তাদের সঙ্গে প্রকৃতির সম্পর্কটা একেবারেই নেই।

সম্প্রতি সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘শিশুদের খেলার সুযোগ থাকবে, আকাশ দেখার সুযোগ থাকবে, ছবি আঁকার সুযোগ থাকবে, গান গাওয়ার সুযোগ থাকবে। কিন্তু তারা তা পাচ্ছে না। শুধু একাডেমিক শিক্ষাটাই পাচ্ছে। কিন্তু অন্য যে এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটি অথবা খেলাধুলা করা– এগুলো খুবই সীমিত। তার কারণ হচ্ছে– প্রত্যেকটা স্কুলে খেলার মাঠ নাই।’

নগর পরিকল্পনার ছাত্র হিসেবে আমি বলতে পারি, ‘প্রত্যেকটা কমিউনিটিতে পার্ক থাকার কথা, একটা খেলার মাঠ থাকার কথা, যেন একটা শিশু হেঁটে স্কুলে বা মাঠে যেতে পারে, হেঁটে সে একটা পার্কে যেতে পারে। দু’ একটা এলাকা ছাড়া সেটা কিন্তু ঢাকা শহরের কোনো কমিউনিটিতে নেই। যে ছেলেমেয়েরা বড় হচ্ছে, তারা গাছের নাম জানে না, প্রকৃতির সঙ্গে তাদের পরিচয় হচ্ছে না। এটা বলতে পারি, তারা এক ধরনের ঘাটতি থেকে বড় হচ্ছে। প্রকৃতির সঙ্গে যারা বড় হয়, তাদের মানবিকতা যেমন গড়ে ওঠে, পরিপূর্ণ একজন মানুষ তৈরি হয়।’

ঢাকা কি সত্যি সত্যি ধীরে ধীরে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে– এমন প্রশ্নে সিজেডএন টোয়েন্টিফোরকে ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে যদি ঢাকার অবস্থান দেখি, তাহলে তো বলতেই হয় যে বিভিন্ন প্যারামিটারে ঢাকার যে বাসযোগ্যতা আছে, সেটা ক্রমশই কমে যাচ্ছে। বায়ুর মান– সেটা কমছে। জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং পরিবেশগত যেসব বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে, সেগুলো আমরা ঢাকা শহরে বাড়তে দেখেছি। সুতরাং এসব বিবেচনায় ঢাকা শহরের বাসযোগ্যতা ধীরে ধীরে কমছে।’

রাজধানীর মানুষের জীবনযাত্রায় শব্দ দূষণ,বায়ু দূষণ ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে জানিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, ‘প্রত্যেকটা দূষণই কোনো না কোনোভাবে মানবদেহে একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সব ধরনের দূষণই মানব শরীরে নেগেটিভ ইমপ্যাক্ট আনে। ঢাকার চারপাশে যে নদী- খাল-বিল আছে সেগুলোর পানির গুণগতমান মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত। এসব স্থানে অক্সিজেনের পরিমাণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।’

বিআইপির সাবেক সভাপতি ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আমার প্রথম দাবি থাকবে, পরিকল্পনা মাফিক যেন বাস্তবায়নটা হয়। পরিকল্পনা যদি আপনি মানেন, সেই অনুযায়ী যদি উন্নয়ন কার্যক্রম চলে, তাহলে দেখবেন আপনার জন্য জীবনযাত্রা অনেক সহজ হয়ে গেছে। শহরও পরিকল্পিতভাবে তৈরি হবে, শহরের জনদুর্ভোগ কমে আসবে।’

যানজট ও গণপরিবহন সংকট ঢাকার অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, কর্মসংস্থান সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রিক। মানুষ এই কারণে ঢাকাতে চলে আসে। বাংলাদেশের অ্যে যেসব জেলা শহর আছে, সেখানে যদি কর্মসংস্থান তৈরি হয়, এই মানুষগুলো কিন্তু ঢাকামুখী হবে না। বরং সে তার নিজের জেলা শহরে থাকতে পছন্দ করবে । সেবার সঙ্গে মানুষের সংখ্যার একটা ব্যাপার আছে। সেবাটা যে কয়জন মানুষের জন্য এটাকে আমরা বলি 'ডিজাইন পপুলেশন'। ডিজাইন পপুলেশন থেকে যদি মানুষ বেশি আসে, তাহলে আপনি সেবা দিয়ে পারবেন না।’

/এসআর/