শিরোনাম

ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১৭১৯, উদ্ধারে অসহযোগিতার অভিযোগ

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১৭১৯, উদ্ধারে অসহযোগিতার অভিযোগ
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভবনের সামনে বাসিন্দারা

ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৭১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। জীবিতদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে ভূমিকম্পের এক সপ্তাহেও অনেক এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধার হওয়া এখন অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছে। তবে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষের তালিকা ছোট করে আনার চেষ্টা করছে উদ্ধারকারীরা। এই ভয়াবহ প্রচেষ্টায় প্রাণের কিছু চিহ্ন মাঝে মাঝে স্বস্তি এনে দিচ্ছে।

এর আগে বুধবার (২৪ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ভেনেজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, প্রথম আঘাত হানা ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। এর কেন্দ্র ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে। এর ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প হয়, যার মাত্রা ছিল ৭.৫। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ভেনেজুয়েলার ইউমারে শহর থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটি ছিল গত ১২৫ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ভূমিকম্পে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪.৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা তাদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা। সেখানে শত শত ভবন ধসে পড়েছে।

দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানান, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে। এখনো জীবিত মানুষ উদ্ধারের সম্ভাবনা থাকায় অভিযান বন্ধ করা হচ্ছে না।

জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, দেশটির ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে ৭৭৪টি ভবন ধসে পড়েছে। এতে ১২,৭২১ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছালেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। সবশেষ সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের তেমন দেখা যায়নি।

কারাকাসের পশ্চিমে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর এক বাসিন্দারা বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে দেখা গেছে। কৃষক ও অন্যান্য বাসিন্দাদের সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই এখন দুর্গতদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সোমবার দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বলেন, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো বলেন, শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে বলে ধারণা করছন তিনি।

দেশটির বিরোধীদল-সমর্থিত একটি ওয়েবসাইটের দাবি করেছে, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আফটারশক অব্যাহত থাকায় উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

সূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা

/জেএইচ/