শিরোনাম

যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগ, বেরোবিতে সেই শিক্ষক এখন ডিন

বেরোবি সংবাদদাতা
বেরোবি সংবাদদাতা
যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগ, বেরোবিতে সেই শিক্ষক এখন ডিন
অভিযুক্ত ড. এমদাদুল হক

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করেই এক শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মো. এমদাদুল হক নামের ওই শিক্ষক বর্তমানে অধ্যাপক পদে উন্নীত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইউজিসি জানান, গত বছরের ১৬ ও ১৭ নভেম্বর ইউজিসির বাজেট অ্যাসেসমেন্ট টিমের অডিটে শিক্ষক মো. এমদাদুল হকের নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক পদে আবেদনের জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ ৩.৫০ অথবা সমমানের প্রথম শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়।

তবে মো. এমদাদুল হকের স্নাতক পর্যায়ের সিজিপিএ ৩.২৬ এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সিজিপিএ ৩.৩৯। উভয় ক্ষেত্রেই তার ফলাফল নির্ধারিত ন্যূনতম যোগ্যতার চেয়ে কম। এরপরও তাকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা নিয়োগ নীতিমালার ব্যত্যয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে ওই নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে আপত্তি নিষ্পত্তি করে প্রয়োজনীয় অর্থ আদায় এবং বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়।

এ ছাড়া, ওই নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে চলতি বছর ইউজিসি এমদাদুল হকের বেতন বাবদ কোনো বাজেট বরাদ্দ রাখেনি। এ ধরনের নিয়োগের ফলে সৃষ্ট আর্থিক দায় কমিশন বর্তমানে বা ভবিষ্যতে বহন করবে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার সূত্র জানায়, ড. এমদাদুল হক ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

এদিকে, নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ড. এমদাদুল হক। তিনি বলেন, ‘আমি যে সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলাম, তখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিজিপিএ দেওয়া হতো না। বরং সমমানের গ্রেড তথা ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড ক্লাস এভাবে ফল প্রকাশ করা হতো। আমার রেজাল্টের কপিসহ সব কাগজপত্র এখনো দেওয়া আছে। আমি মনে করি, ইউজিসির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে, সেখানে আমি যে শর্ত পূরণ করে চাকরি করছি, সে বিষয়টি উঠে আসবে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ‘ইউজিসির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। যদিও ইউজিসি নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিন্ডিকেট এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’

/এফআর/