শিরোনাম

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনের ২ হোটেলে মিললো পঁচা খাবার ও তেলাপোকা-মাছি

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনের ২ হোটেলে মিললো পঁচা খাবার ও তেলাপোকা-মাছি
জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট (বাঁয়ে) ও হোটেল আন্দাজ দিল্লি (ডানে)। ছবি: এনডিটিভি

ভারতের দিল্লির অ্যারোসিটির দুই বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেল আন্দাজ দিল্লি এবং জে ডব্লিউ ম্যারিয়টকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (এফএসএসএআই)। পরিদর্শনের সময় হোটেল দুটিতে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার মজুত এবং খাদ্য নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন চোখে পড়েছে। ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের অতিথিদের থাকার স্থান হিসেবে ব্রিকস বিজনেস ফোরামের ওয়েবসাইটে এ দুটি হোটেলের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরের এমন একটি হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানের ঠিক মুখে দুই অভিজাত হোটেলের এ কাণ্ডে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জুনিপার হোটেলস পরিচালিত ‘আন্দাজ দিল্লি’র কনফেকশনারি বিভাগ থেকে প্রায় ৮৭ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি জব্দ করে ঘটনাস্থলেই তা নষ্ট করা হয়। শুধু তাই নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ কেকের বেস, পাউরুটি এবং পেস্ট্রি সেকশনে মাছি ও তেলাপোকার ছড়াছড়ি দেখতে পান কর্মকর্তারা। নিরামিষ ও আমিষ খাবারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম নিয়মও মানা হচ্ছিল না। উভয় বিভাগের কাটিং বোর্ড ডুবিয়ে রাখা হতো একই জলের পাত্রে।

অন্যদিকে, আরিয়া হোটেলস পরিচালিত ‘জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট’-এর অবস্থা ছিল আরও আশঙ্কাজনক। প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই নিজস্ব ব্র্যান্ডের অধীনে খুচরো লেনদেন চালানোর পাশাপাশি পনির, খোয়া ও মশলার মতো প্যাক করা পণ্যে প্রস্তুতকারকের সঠিক ঠিকানা বা লাইসেন্স নম্বর ছিল না। পুরো হোটেল জুড়েই ধরা পড়েছে চরম স্যানিটেশন ঘাটতি। থালাবাসন ও রান্নার জায়গা ছিল নোংরা, পানীয় জলে ভাসছিল কণা, পুরো হোটেল প্রাঙ্গণজুড়ে তেলাপোকা ও মাছির উপদ্রব।

পরিদর্শনে ছত্রাক ধরা আপেল ও পচা টমেটোর মতো ব্যবহারের অনুপযোগী উপাদানও মেলে। ঢাকনাহীন বা ভাঙা পাত্রে খাবার রাখা, ভুল তাপমাত্রায় সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন খাবারের মধ্যে পারস্পরিক দূষণের ফলে এক খাবার থেকে অন্য খাবারে জীবাণু ছড়ানোর প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পরিদর্শনের নির্দিষ্ট তারিখ না জানালেও এফএসএসএআই জানিয়েছে, হোটেল দুটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ল্যাব টেস্টের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সূত্র: এনডিটিভি

/এমএকে/