শিরোনাম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বৃহস্পতিবার

সিটিজেন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন বৃহস্পতিবার
বিধানসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাস্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যদের টহল। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯৪ আসনের বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এ ধাপে ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে।

জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান।

প্রথম দফার এসব আসনে মোট ১ হাজার ৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ১ হাজার ৫২৫টি। এর মধ্যে কোচবিহার দক্ষিণ ও ইটাহার আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন করে প্রার্থী লড়ছেন।

ভোটগ্রহণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটে কোনো ধরনের সহিংসতা, বুথ দখল বা জাল ভোটের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

ভোটকেন্দ্রে প্রবেশেও এবার কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ভোটারদের নির্ধারিত পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্লিপ সংগ্রহের পর কেন্দ্রে ঢুকতে হবে। দলীয় নেতা-কর্মীদের অবাধ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে আলাদা ক্যাম্প নির্ধারণ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন বীরভূমের ডালিম শেখ ও মুর্শিদাবাদের রাজু মণ্ডল।

নির্বাচন কমিশন আরও সতর্ক করে বলেছে, ভোটারদের ভয় দেখানো, বাধা দেওয়া, হামলা চালানো বা ভোট প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে; নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলাচল করতে হবে এবং রাতের বেলায় বাড়তি কড়াকড়ি থাকবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে একাধিক জনসভায় অংশ নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগ পর্যন্ত তিনি রাজ্যেই অবস্থান করবেন। রাতে তিনি নিউটাউনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর রাজ্য কার্যালয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম দফার প্রচার শেষের আগে ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিজেপিকে পরাজিত করে তৃণমূলকে আবার ক্ষমতায় আনুন। তৃণমূলই রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে সক্ষম।’

রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের আহ্বান জানিয়ে জানিয়েছেন, লোকভবনে একটি হেল্পলাইন ডেস্ক চালু করা হয়েছে, যেখানে ভোটসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুত জানানো যাবে।

নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে ২৯ মে। আর ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।

সূত্র: আল জাজিরা

/এমআর/