ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড় বিনিয়োগ

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড় বিনিয়োগ
সিজেডএন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের আগে কয়েক হাজার কোটি ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আহ্বানের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষাশিল্প ফোরামের এক অনুষ্ঠানে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে এ উদ্যোগগুলোর ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের একে একে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং বড় পর্দায় বিভিন্ন চুক্তির আর্থিক মূল্য তুলে ধরা হয়।
মার্ক রুতে বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে জোটভুক্ত দেশগুলো আরও কার্যকরভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। তিনি জানান, ন্যাটোর সদস্যরা নতুন বহুজাতিক ক্রয় জোটে যুক্ত হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত ও সহজভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সম্মেলনের অন্যতম চমক ছিল এই অস্ত্র চুক্তি, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যানের কাছ থেকে আধুনিক নজরদারি ড্রোন এবং সুইডেনের প্রতিরক্ষা কোম্পানি সাবের কাছ থেকে সামরিক উড়োজাহাজ কিনবে।
এ ছাড়া ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়ে জার্মানি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ন্যাটোর মহাসচিব আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন প্রতিরোধী সক্ষমতা বাড়াতে সদস্য দেশগুলো ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করে আসছে ন্যাটো। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই ইউরোপীয় দেশগুলোর কম প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছেন। মার্ক রুতে বলেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকি এবং ট্রাম্পের চাপ—দুইয়ের প্রভাবেই ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশ ও কানাডা অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয় করেছে। ফলে মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে ৫৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে পারে তুরস্ক
শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, এই বৈঠকে তুরস্ককে আবারও এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে এ কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ন্যাটোর অভ্যন্তরেও বাড়ছে মতপার্থক্য
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক হামলার পর ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশের সমালোচনা করেছিলেন।
অবশ্য ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, হামলা নিয়ে আগাম আলোচনা না হলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। তবে ওই সংঘাত ইউরোপের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে ইউরোপ থেকে সেনা কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এর পাশাপাশি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মতবিরোধ ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো চলতি বছর ইউক্রেনের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
এরই মধ্যে সোমবার কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের আগে কয়েক হাজার কোটি ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আহ্বানের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষাশিল্প ফোরামের এক অনুষ্ঠানে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে এ উদ্যোগগুলোর ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের একে একে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং বড় পর্দায় বিভিন্ন চুক্তির আর্থিক মূল্য তুলে ধরা হয়।
মার্ক রুতে বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে জোটভুক্ত দেশগুলো আরও কার্যকরভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। তিনি জানান, ন্যাটোর সদস্যরা নতুন বহুজাতিক ক্রয় জোটে যুক্ত হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত ও সহজভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সম্মেলনের অন্যতম চমক ছিল এই অস্ত্র চুক্তি, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যানের কাছ থেকে আধুনিক নজরদারি ড্রোন এবং সুইডেনের প্রতিরক্ষা কোম্পানি সাবের কাছ থেকে সামরিক উড়োজাহাজ কিনবে।
এ ছাড়া ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়ে জার্মানি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ন্যাটোর মহাসচিব আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন প্রতিরোধী সক্ষমতা বাড়াতে সদস্য দেশগুলো ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করে আসছে ন্যাটো। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই ইউরোপীয় দেশগুলোর কম প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছেন। মার্ক রুতে বলেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকি এবং ট্রাম্পের চাপ—দুইয়ের প্রভাবেই ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশ ও কানাডা অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয় করেছে। ফলে মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে ৫৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে পারে তুরস্ক
শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, এই বৈঠকে তুরস্ককে আবারও এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে এ কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ন্যাটোর অভ্যন্তরেও বাড়ছে মতপার্থক্য
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক হামলার পর ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশের সমালোচনা করেছিলেন।
অবশ্য ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, হামলা নিয়ে আগাম আলোচনা না হলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। তবে ওই সংঘাত ইউরোপের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে ইউরোপ থেকে সেনা কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এর পাশাপাশি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মতবিরোধ ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো চলতি বছর ইউক্রেনের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
এরই মধ্যে সোমবার কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ে বড় বিনিয়োগ
সিজেডএন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আসন্ন শীর্ষ বৈঠকের আগে কয়েক হাজার কোটি ডলারের নতুন অস্ত্র ক্রয় ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের আহ্বানের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত প্রতিরক্ষাশিল্প ফোরামের এক অনুষ্ঠানে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে এ উদ্যোগগুলোর ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের একে একে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং বড় পর্দায় বিভিন্ন চুক্তির আর্থিক মূল্য তুলে ধরা হয়।
মার্ক রুতে বলেন, একসঙ্গে কাজ করলে জোটভুক্ত দেশগুলো আরও কার্যকরভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারবে। তিনি জানান, ন্যাটোর সদস্যরা নতুন বহুজাতিক ক্রয় জোটে যুক্ত হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম দ্রুত ও সহজভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
সম্মেলনের অন্যতম চমক ছিল এই অস্ত্র চুক্তি, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নর্থরপ গ্রুম্যানের কাছ থেকে আধুনিক নজরদারি ড্রোন এবং সুইডেনের প্রতিরক্ষা কোম্পানি সাবের কাছ থেকে সামরিক উড়োজাহাজ কিনবে।
এ ছাড়া ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের কারণে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ইউরোপে যৌথভাবে উৎপাদনের বিষয়ে জার্মানি ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ন্যাটোর মহাসচিব আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন প্রতিরোধী সক্ষমতা বাড়াতে সদস্য দেশগুলো ৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় থেকে ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করে আসছে ন্যাটো। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বরাবরই ইউরোপীয় দেশগুলোর কম প্রতিরক্ষা ব্যয়ের সমালোচনা করে আসছেন। মার্ক রুতে বলেন, রাশিয়ার নিরাপত্তা হুমকি এবং ট্রাম্পের চাপ—দুইয়ের প্রভাবেই ইউরোপীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্য দেশ ও কানাডা অতিরিক্ত ৯০ বিলিয়ন ডলার প্রতিরক্ষা ব্যয় করেছে। ফলে মোট প্রতিরক্ষা ব্যয় বেড়ে ৫৭০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে পারে তুরস্ক
শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, এই বৈঠকে তুরস্ককে আবারও এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে ২০১৯ সালে তুরস্ককে এ কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ন্যাটোর অভ্যন্তরেও বাড়ছে মতপার্থক্য
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে সামরিক হামলার পর ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। ওই অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় ট্রাম্প কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশের সমালোচনা করেছিলেন।
অবশ্য ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, হামলা নিয়ে আগাম আলোচনা না হলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সহযোগিতা করেছে। তবে ওই সংঘাত ইউরোপের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে ইউরোপ থেকে সেনা কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এর পাশাপাশি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক মতবিরোধ ইউরোপীয় মিত্রদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
আসন্ন ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো চলতি বছর ইউক্রেনের জন্য প্রায় ৭০ বিলিয়ন ইউরো, অর্থাৎ প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।
এরই মধ্যে সোমবার কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এই হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত সামরিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।




