ধাক্কা খেলো অর্থনীতি, উৎপাদন ও নির্মাণে বড় বিপর্যয়

ধাক্কা খেলো অর্থনীতি, উৎপাদন ও নির্মাণে বড় বিপর্যয়
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

উৎপাদন ব্যয় ও বহুমুখী সংকটের তীব্র চাপে দেশের প্রধান দুই অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। মে মাসের ক্ষণস্থায়ী স্বস্তি কাটিয়ে জুন মাসে দেশের উৎপাদন ও নির্মাণ খাত আবারও আশঙ্কাজনক সংকোচনের মুখে পড়েছে। গ্যাস-জ্বালানির চড়া মূল্য, নতুন ভ্যাটের বোঝা এবং তীব্র চাহিদামন্দার কারণে সামগ্রিক অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি এক ধাক্কায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মে মাসের তুলনায় জুনে দেশের অগ্রগামী অর্থনৈতিক নির্দেশক ‘বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ (পিএমআই) সূচক এক লাফে ৯.৯ পয়েন্ট কমে ৫২.৯-এ নেমে এসেছে, যা দেশের শিল্প ও অবকাঠামো খাতের এক উদ্বেগজনক নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মেট্রপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে জুন মাসের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট-এর কারিগরি সহযোগিতায় তৈরি করা এই সূচক দেশের অর্থনীতির আকস্মিক পতনের চিত্র তুলে ধরেছে।
উৎপাদন ও নির্মাণে তীব্র সংকট
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উৎপাদন খাত টানা দুই মাস কোনোমতে টিকে থাকার পর জুনে এসে ধসে পড়েছে। নতুন অর্ডারের খরা, রপ্তানি হ্রাস, ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকোচন এবং সরবরাহকারীদের ডেলিভারি বিঘ্নিত হওয়ার কারণে এই খাত গভীর সংকটে পড়েছে। নতুন কাঁচামাল কেনা এবং কারখানার উৎপাদন ধীরগতিতে চললেও সমাপ্ত পণ্যের অবিক্রিত মজুত বৃদ্ধি এবং ইনপুট মূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি উৎপাদনকারীদের কোণঠাসা করে ফেলেছে।
আবাসন ও নির্মাণ খাতের চিত্র আরও হতাশাজনক। মে মাসের সাময়িক প্রবৃদ্ধির পর জুন মাসে এই খাতে নতুন কাজ এবং নির্মাণ কার্যক্রম দুটোই ব্যাপক হারে কমেছে। কাজের অভাবে কমেছে নতুন কর্মসংস্থানও। এর বিপরীতে নির্মাণ সামগ্রীর আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান অর্ডার ব্যাকলগ এই খাতটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
কৃষি ও পরিষেবাতেও মন্থরতার ছোঁয়া
অন্য দুই প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি ও পরিষেবা খাত কোনো রকমে নিজেদের ইতিবাচক ধারায় ধরে রাখতে পারলেও তাদের প্রবৃদ্ধির গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। টানা ১০ মাস সম্প্রসারণে থাকা কৃষি খাত জুনে এসে আবহাওয়াজনিত তীব্র অনিশ্চয়তা এবং অবিক্রিত অর্ডারের (অর্ডার ব্যাকলগ) সংকটে পড়েছে। অপরদিকে, সেবা বা পরিষেবা খাত টানা ২১ মাসের মতো ইতিবাচক থাকলেও দীর্ঘ ছুটি ও বাজার মন্দার কারণে নতুন ব্যবসার গতি হারিয়েছে এবং এই খাতেও কাজের ব্যাকলগ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ: কারণ যখন জ্বালানি ও ট্যাক্স
জরিপে অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘চ্যালেঞ্জিং’ এবং নেতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এলপিজি গ্যাস ও জ্বালানির দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি এবং বাড়তি শ্রম ব্যয়ের কারণে তাদের মুনাফা এখন শূন্যের কোঠায়। এছাড়া নতুন করে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটের তীব্র কোপ, মূলধনী সংকট এবং চলমান বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা ব্যবসাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, জুন মাসের পিএমআই সূচকের এই বড় পতন নির্দেশ করে যে সামষ্টিক অর্থনীতি সম্প্রসারণে থাকলেও ভেতরের খাতগুলোতে স্পষ্ট দুর্বলতা ও তীব্র বৈচিত্র্য দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ঈদুল-আযহার ছুটি, মৌসুমি বর্ষার ধকল এবং ঈদ-পরবর্তী তীব্র চাহিদামন্দা জুন মাসের ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে নেতিবাচক রূপ দিয়েছে।
সতর্ক আশাবাদে ভবিষ্যৎ
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নেতিবাচক হলেও ‘ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক’ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা সতর্ক আশাবাদ রয়েছে। তারা আশা করছেন, সরকার যদি অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করে এবং নতুন ট্যাক্স বা ভ্যাটের মতো বোঝা সহজ করে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করে, তবে আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একইসঙ্গে পিএমআই-এর নির্ভরযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রাখতে একটি কঠোর ও প্রতিনিধিত্বশীল উত্তরদাতা প্যানেল বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উৎপাদন ব্যয় ও বহুমুখী সংকটের তীব্র চাপে দেশের প্রধান দুই অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। মে মাসের ক্ষণস্থায়ী স্বস্তি কাটিয়ে জুন মাসে দেশের উৎপাদন ও নির্মাণ খাত আবারও আশঙ্কাজনক সংকোচনের মুখে পড়েছে। গ্যাস-জ্বালানির চড়া মূল্য, নতুন ভ্যাটের বোঝা এবং তীব্র চাহিদামন্দার কারণে সামগ্রিক অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি এক ধাক্কায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মে মাসের তুলনায় জুনে দেশের অগ্রগামী অর্থনৈতিক নির্দেশক ‘বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ (পিএমআই) সূচক এক লাফে ৯.৯ পয়েন্ট কমে ৫২.৯-এ নেমে এসেছে, যা দেশের শিল্প ও অবকাঠামো খাতের এক উদ্বেগজনক নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মেট্রপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে জুন মাসের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট-এর কারিগরি সহযোগিতায় তৈরি করা এই সূচক দেশের অর্থনীতির আকস্মিক পতনের চিত্র তুলে ধরেছে।
উৎপাদন ও নির্মাণে তীব্র সংকট
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উৎপাদন খাত টানা দুই মাস কোনোমতে টিকে থাকার পর জুনে এসে ধসে পড়েছে। নতুন অর্ডারের খরা, রপ্তানি হ্রাস, ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকোচন এবং সরবরাহকারীদের ডেলিভারি বিঘ্নিত হওয়ার কারণে এই খাত গভীর সংকটে পড়েছে। নতুন কাঁচামাল কেনা এবং কারখানার উৎপাদন ধীরগতিতে চললেও সমাপ্ত পণ্যের অবিক্রিত মজুত বৃদ্ধি এবং ইনপুট মূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি উৎপাদনকারীদের কোণঠাসা করে ফেলেছে।
আবাসন ও নির্মাণ খাতের চিত্র আরও হতাশাজনক। মে মাসের সাময়িক প্রবৃদ্ধির পর জুন মাসে এই খাতে নতুন কাজ এবং নির্মাণ কার্যক্রম দুটোই ব্যাপক হারে কমেছে। কাজের অভাবে কমেছে নতুন কর্মসংস্থানও। এর বিপরীতে নির্মাণ সামগ্রীর আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান অর্ডার ব্যাকলগ এই খাতটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
কৃষি ও পরিষেবাতেও মন্থরতার ছোঁয়া
অন্য দুই প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি ও পরিষেবা খাত কোনো রকমে নিজেদের ইতিবাচক ধারায় ধরে রাখতে পারলেও তাদের প্রবৃদ্ধির গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। টানা ১০ মাস সম্প্রসারণে থাকা কৃষি খাত জুনে এসে আবহাওয়াজনিত তীব্র অনিশ্চয়তা এবং অবিক্রিত অর্ডারের (অর্ডার ব্যাকলগ) সংকটে পড়েছে। অপরদিকে, সেবা বা পরিষেবা খাত টানা ২১ মাসের মতো ইতিবাচক থাকলেও দীর্ঘ ছুটি ও বাজার মন্দার কারণে নতুন ব্যবসার গতি হারিয়েছে এবং এই খাতেও কাজের ব্যাকলগ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ: কারণ যখন জ্বালানি ও ট্যাক্স
জরিপে অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘চ্যালেঞ্জিং’ এবং নেতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এলপিজি গ্যাস ও জ্বালানির দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি এবং বাড়তি শ্রম ব্যয়ের কারণে তাদের মুনাফা এখন শূন্যের কোঠায়। এছাড়া নতুন করে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটের তীব্র কোপ, মূলধনী সংকট এবং চলমান বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা ব্যবসাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, জুন মাসের পিএমআই সূচকের এই বড় পতন নির্দেশ করে যে সামষ্টিক অর্থনীতি সম্প্রসারণে থাকলেও ভেতরের খাতগুলোতে স্পষ্ট দুর্বলতা ও তীব্র বৈচিত্র্য দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ঈদুল-আযহার ছুটি, মৌসুমি বর্ষার ধকল এবং ঈদ-পরবর্তী তীব্র চাহিদামন্দা জুন মাসের ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে নেতিবাচক রূপ দিয়েছে।
সতর্ক আশাবাদে ভবিষ্যৎ
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নেতিবাচক হলেও ‘ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক’ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা সতর্ক আশাবাদ রয়েছে। তারা আশা করছেন, সরকার যদি অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করে এবং নতুন ট্যাক্স বা ভ্যাটের মতো বোঝা সহজ করে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করে, তবে আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একইসঙ্গে পিএমআই-এর নির্ভরযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রাখতে একটি কঠোর ও প্রতিনিধিত্বশীল উত্তরদাতা প্যানেল বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ধাক্কা খেলো অর্থনীতি, উৎপাদন ও নির্মাণে বড় বিপর্যয়
জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

উৎপাদন ব্যয় ও বহুমুখী সংকটের তীব্র চাপে দেশের প্রধান দুই অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। মে মাসের ক্ষণস্থায়ী স্বস্তি কাটিয়ে জুন মাসে দেশের উৎপাদন ও নির্মাণ খাত আবারও আশঙ্কাজনক সংকোচনের মুখে পড়েছে। গ্যাস-জ্বালানির চড়া মূল্য, নতুন ভ্যাটের বোঝা এবং তীব্র চাহিদামন্দার কারণে সামগ্রিক অর্থনীতির সম্প্রসারণের গতি এক ধাক্কায় প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। মে মাসের তুলনায় জুনে দেশের অগ্রগামী অর্থনৈতিক নির্দেশক ‘বাংলাদেশ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ (পিএমআই) সূচক এক লাফে ৯.৯ পয়েন্ট কমে ৫২.৯-এ নেমে এসেছে, যা দেশের শিল্প ও অবকাঠামো খাতের এক উদ্বেগজনক নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মেট্রপলিট্যান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই), ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ (পিইবি) যৌথভাবে জুন মাসের এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্য সরকারের সহায়তায় এবং সিঙ্গাপুর ইনস্টিটিউট অব পারচেজিং অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালস ম্যানেজমেন্ট-এর কারিগরি সহযোগিতায় তৈরি করা এই সূচক দেশের অর্থনীতির আকস্মিক পতনের চিত্র তুলে ধরেছে।
উৎপাদন ও নির্মাণে তীব্র সংকট
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের উৎপাদন খাত টানা দুই মাস কোনোমতে টিকে থাকার পর জুনে এসে ধসে পড়েছে। নতুন অর্ডারের খরা, রপ্তানি হ্রাস, ব্যাপক কর্মসংস্থান সংকোচন এবং সরবরাহকারীদের ডেলিভারি বিঘ্নিত হওয়ার কারণে এই খাত গভীর সংকটে পড়েছে। নতুন কাঁচামাল কেনা এবং কারখানার উৎপাদন ধীরগতিতে চললেও সমাপ্ত পণ্যের অবিক্রিত মজুত বৃদ্ধি এবং ইনপুট মূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি উৎপাদনকারীদের কোণঠাসা করে ফেলেছে।
আবাসন ও নির্মাণ খাতের চিত্র আরও হতাশাজনক। মে মাসের সাময়িক প্রবৃদ্ধির পর জুন মাসে এই খাতে নতুন কাজ এবং নির্মাণ কার্যক্রম দুটোই ব্যাপক হারে কমেছে। কাজের অভাবে কমেছে নতুন কর্মসংস্থানও। এর বিপরীতে নির্মাণ সামগ্রীর আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান অর্ডার ব্যাকলগ এই খাতটিকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে।
কৃষি ও পরিষেবাতেও মন্থরতার ছোঁয়া
অন্য দুই প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি ও পরিষেবা খাত কোনো রকমে নিজেদের ইতিবাচক ধারায় ধরে রাখতে পারলেও তাদের প্রবৃদ্ধির গতি ছিল অত্যন্ত মন্থর। টানা ১০ মাস সম্প্রসারণে থাকা কৃষি খাত জুনে এসে আবহাওয়াজনিত তীব্র অনিশ্চয়তা এবং অবিক্রিত অর্ডারের (অর্ডার ব্যাকলগ) সংকটে পড়েছে। অপরদিকে, সেবা বা পরিষেবা খাত টানা ২১ মাসের মতো ইতিবাচক থাকলেও দীর্ঘ ছুটি ও বাজার মন্দার কারণে নতুন ব্যবসার গতি হারিয়েছে এবং এই খাতেও কাজের ব্যাকলগ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ: কারণ যখন জ্বালানি ও ট্যাক্স
জরিপে অংশ নেওয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তারা বর্তমান ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ‘চ্যালেঞ্জিং’ এবং নেতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এলপিজি গ্যাস ও জ্বালানির দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধি, যাতায়াত খরচ বৃদ্ধি এবং বাড়তি শ্রম ব্যয়ের কারণে তাদের মুনাফা এখন শূন্যের কোঠায়। এছাড়া নতুন করে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাটের তীব্র কোপ, মূলধনী সংকট এবং চলমান বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ কাজের জন্য পণ্য পরিবহনে স্থবিরতা ব্যবসাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, জুন মাসের পিএমআই সূচকের এই বড় পতন নির্দেশ করে যে সামষ্টিক অর্থনীতি সম্প্রসারণে থাকলেও ভেতরের খাতগুলোতে স্পষ্ট দুর্বলতা ও তীব্র বৈচিত্র্য দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ ঈদুল-আযহার ছুটি, মৌসুমি বর্ষার ধকল এবং ঈদ-পরবর্তী তীব্র চাহিদামন্দা জুন মাসের ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে নেতিবাচক রূপ দিয়েছে।
সতর্ক আশাবাদে ভবিষ্যৎ
বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নেতিবাচক হলেও ‘ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সূচক’ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা সতর্ক আশাবাদ রয়েছে। তারা আশা করছেন, সরকার যদি অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করে এবং নতুন ট্যাক্স বা ভ্যাটের মতো বোঝা সহজ করে ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ করে, তবে আগামী মাসগুলোতে উৎপাদন খাত আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একইসঙ্গে পিএমআই-এর নির্ভরযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রাখতে একটি কঠোর ও প্রতিনিধিত্বশীল উত্তরদাতা প্যানেল বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বহুমুখী সংকটে পোশাক খাত, চাকরি হারিয়ে বিপাকে শ্রমিক


