শিরোনাম

মাধ্যমিকেও মিড-ডে মিল, চূড়ান্ত হচ্ছে রোডম্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মাধ্যমিকেও মিড-ডে মিল, চূড়ান্ত হচ্ছে রোডম্যাপ
শিক্ষা ভবন। ছবি: সিজেডএন টোয়েন্টিফোর

প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও আনন্দময় করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা-মোজা, স্বাস্থ্য উপকরণ বিতরণ এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত কর্মসূচির পরিকল্পনা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তবে অতীতের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এবার প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে একটি কার্যকর ও টেকসই রোডম্যাপ তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক ড. মীর জাহীদা নাজনীন তার নিজ কার্যালয়ে সিজেডএন টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তাই আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ভালো একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রস্তাবনা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আজ অনুষ্ঠিত সভাতেও স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই পরিকল্পনাটি এমনভাবে করা হোক, যাতে বাস্তবায়নের সময় খাবারের মান, তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

প্রাথমিকভাবে দেশের প্রায় এক হাজার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মসূচিটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে প্রায় ২ লাখ শিক্ষার্থী উপকৃত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, ‘কমবাইন্ড স্টুডেন্টস ফ্যাসিলিটিস প্রোগ্রাম ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ শীর্ষক একটি স্কিমের আওতায় পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একাধিক সহায়তা দেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিকর দুপুরের খাবার, বছরে দুই সেট স্কুল ড্রেস, এক জোড়া জুতা ও মোজা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য উপকরণ, শিক্ষার্থীদের বিশ্রামের জন্য কমনরুম এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য শুধু শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, বরং বিদ্যালয়ে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, ঝরে পড়ার হার কমানো এবং একটি স্বাস্থ্যসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

/এফসি/