শিরোনাম

তীব্র গরমে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

সিজেডএন  ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
তীব্র গরমে পুড়ছে ইউরোপ, ফ্রান্সে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু
তীব্র গরমে ফ্রান্সের আইফেল টাওয়ারের সামনে লেকে গোসলে দর্শনার্থীরা

উচ্চ চাপ বলয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে। দাবদাহে গত ২১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রান্সে ১ হাজার জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থা প্রকাশিত প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যেসব অঞ্চলে কয়েক দিন ধরে সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি ছিল, সেখানে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের পর রোববার ফ্রান্সের বেশিরভাগ অঞ্চল রেড অ্যালার্টমুক্ত হলেও তীব্র গরম পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে।

ইউরোপজুড়ে বাড়ছে প্রাণহানি

europe (2)

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, ২১ জুন থেকে ইউরোপজুড়ে ১৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে। ৮৫ শতাংশ মৃত্যুই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী। তবে সব বয়সী মানুষের মধ্যেই মৃত্যুর হার দেখা গেছে। এগুলো প্রাথমিক তথ্য। প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে ইউরোপের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করছে।

road

তাপপ্রবাহে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে ফ্রান্স ও স্পেনে। স্পেনের স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার (২১ জুন) থেকে এখন পর্যন্ত দাবদাহে স্পেনে ৩২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে জুন মাসে রেকর্ড তাপমাত্রা দেখা গেছে। ১৯৫০ সাল থেকে করা স্পেনের জাতীয় তাপমাত্রার রেকর্ড অনুসারে, ২৩ জুন ছিল এযাবৎকালের উষ্ণতম দিন, ২২ জুন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

জলবায়ু পরিবর্তনই মূল কারণ

বিজ্ঞানীদের মতে, পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এই তাপপ্রবাহ জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্টি হয়েছে। এটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) গবেষণায় বলা হয়েছে, ৫০ বছর আগে এ ধরনের তাপপ্রবাহ প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে গত দুই দশকে এমন ঘটনার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়েই তাপমাত্রা বাড়ছে বলে জানিয়েছে কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস। তবে ইউরোপে এর গতি সবচেয়ে বেশি। এটি বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ দ্রুত গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে।

দেশে দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি

তাপপ্রবাহের কারণে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। ফ্রান্সে প্রাইড উৎসব ও সলিডেজ মিউজিক ফেস্টিভ্যালের মতো কয়েকটি বড় আয়োজন স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি কিছু স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

europe

জার্মানির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা বার্লিন, বন, ফ্রাঙ্কফুর্ট এবং কোলোনসহ বিভিন্ন স্থানে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা, বাসেল এবং জুরিখে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

এদিকে সুইজারল্যান্ডের হিমবাহ গবেষণা দল সতর্ক করেছে, তীব্র গরমের কারণে সোমবার থেকেই হিমবাহগুলো গলতে শুরু করবে। এটা সাধারণত আগস্টে ঘটে থাকে। ২০২২ সালের পর এবারই হিমবাহ গলে যাওয়ার গতি সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

সূত্র: পলিটিকো, এবিসি নিউজ, ইউরোনিউজ, বিবিসি, আনাদোলু

/জেএইচ/