শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো আপস করবে না ইরান: গালিবাফ

সিটিজেন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কোনো আপস করবে না ইরান: গালিবাফ
ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: রয়টার্স

ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশ্বস্ত বা সৎ পক্ষ নয় এবং নিজেদের জাতীয় অধিকার রক্ষায় ইরান বিন্দুমাত্র আপস করবে না। শনিবার (২৩ মে) তেহরানে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বক্তব্যে তেহরানের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহের তীব্র সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের নেতৃত্বে এ আঞ্চলিক মধ্যস্থতা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি বেশিরভাগ জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতি এখনও থমথমে। তেহরান ছাড়ার আগে আসিম মুনির ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উপস্থিতিতে দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথেও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ইরান কর্তৃক প্রস্তাবিত একটি ১৪-দফা রূপরেখা এবং উভয় পক্ষের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া বার্তার ওপর ভিত্তি করেই এই সংলাপের মূল কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে।

মোহাম্মদ গালিবাফ বলেন, ইরান যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনীতি উভয় ফ্রন্টেই তার বৈধ অধিকার আদায়ে অনড় থাকবে। ওয়াশিংটনের অতীত রেকর্ডের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, বিন্দুমাত্র সততা নেই এমন কোনো পক্ষকে ইরান বিশ্বাস করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, চলতি যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র যদি নির্বোধের মতো পুনরায় যুদ্ধ শুরু করে, তবে এর পরিণতি হবে সংঘাতের শুরুর দিকের চেয়েও অনেক বেশি জোরালো ও তিক্ত।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার (২২ মে) দাবি করেছেন, একটি চুক্তির দিকে দুই পক্ষ কিছুটা অগ্রগতি লাভ করেছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ দাবিকে একপ্রকার নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে, উভয়পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো এখনও অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। মার্কিন ও ইসরায়েলি পক্ষ থেকে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত শক্তি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের তীব্র লড়াই সত্ত্বেও তেহরান তার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আঞ্চলিক প্রক্সি সক্ষমতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে।

সূত্র:

/এমএকে/