শিরোনাম

ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ আটক করলো ডেনমার্ক

ইরানের পতাকাবাহী জাহাজ আটক করলো ডেনমার্ক
কনটেইনার জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের পতাকাবাহী একটি কন্টেইনার জাহাজ আটক করেছে ডেনমার্ক। রুশ সংবাদমাধ্যম তাস জানিয়েছে, জাহাজটি বর্তমানে জুটল্যান্ডের উত্তর অংশে আলবেকের পূর্বে নোঙর করা আছে।

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক বাজার অবকাঠামো এবং ডেটা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ–এর তথ্য অনুযায়ী, নোরা নামে পরিচিত জাহাজটি মূলত কোমোরোসের পতাকা ব্যবহার করছিল। তবে কোমোরোস ডেনমার্ককে জানিয়েছে, জাহাজটি তাদের রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত নয়। এই তথ্য রয়টার্সের পাঠানো ইমেলের মাধ্যমে ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

তারা জানিয়েছে, জাহাজটি কোন দেশের পতাকার অধীনে নিবন্ধিত তা প্রমাণ না করা পর্যন্ত আটক রাখা হবে। জাহাজটি মুক্তি পেতে হলে একটি বন্দর রাষ্ট্রীয় পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাহাজটিতে কোন নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা নেই।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে বর্তমানে ইরানের পতাকা উড়ছে। ডেনিশ সম্প্রচারমাধ্যম টিভিটু জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাহাজটি কোমোরোসের পরিবর্তে ইরানের পতাকা ধারণ করে।

এদিকে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার ছায়া নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত তেল ট্যাঙ্কারগুলির সম্ভাব্য জব্দের বিষয়ে তার ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। এটি মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতির ওপর চাপ আরও জোরদার করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি বাল্টিক ও নর্ডিক দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করার সন্দেহে জাহাজগুলো আটক করার জন্য সম্ভাব্য আইনি ও কার্যকরী বিকল্পগুলো খতিয়ে দেখতেই এ আলোচনা হয়েছে।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো ভেনেজুয়েলায় বা ভেনেজুয়েলায় পণ্য পরিবহনকারী তেল ট্যাঙ্কারগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত আগের মার্কিন অভিযানের আদলে হতে পারে। জানা গেছে, এসব পদক্ষেপের আলোচনায় মস্কো-সম্পৃক্ত জাহাজগুলোকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে নেওয়া এ উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কতটা সম্পৃক্ত হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে একটি সূত্র ব্লুমবার্গকে জানিয়েছে, অন্তত কিছু পর্যায়ে সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত জাহাজের পূর্ববর্তী বাধাগুলি মস্কোতে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও রাশিয়ান কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে ওয়াশিংটনকে এই ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সতর্কবার্তা দিলেও, রাশিয়া ‘মানবিক সহায়তা’র আড়ালে কিউবায় তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়।

/জেএইচ/