দুই বছর পর চালু ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা, প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন

দুই বছর পর চালু ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা, প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত। এতে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সোমবার (২৯ জুন) থেকে আবেদন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে।
ভিসা আবেদন জমা নেওয়ার প্রথম দিনে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাকে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নিয়মিত ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। এরপর জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হলেও এতদিন পর্যটন ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থার অবসান ঘটলো। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার আইভ্যাক কেন্দ্রে এই সেবা চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরেও এটি চালু করা হবে বলে জানা গেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার অন্তত এক দিন আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। পর্যটন ভিসার আবেদন দেশের পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা থেকে জমা দেওয়া যাবে।
ভারতের ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরমের সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিংয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার আগের কার্যদিবসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট আগের কার্যদিবসেই প্রকাশ করা হবে।
প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আবেদনকারীরা সাইন-আপ ও ওয়েবফাইল আপলোড করতে পারবেন। যারা সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, কেবল তারাই একই দিন বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন।
সাইন-আপের সময় ভিসা আবেদনপত্রে ব্যবহৃত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের পর একটি ওটিপি ই-মেইলে এবং আরেকটি মোবাইল ফোনে পাঠানো হবে। উভয় ওটিপি যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন শেষ করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইন-আপ সম্পন্ন না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
সাইন-আপের পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করলে মোবাইলে নতুন একটি ওটিপি যাবে। সেটি যাচাই করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজে প্রবেশ করা যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করতে হবে। আপলোড করা নথি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে।
সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট দেখাবে। প্রয়োজনে সেটি একবার পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং চার্জ পরিশোধ করতে হবে। আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। কোনো সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল গ্রহণ করা হবে না।
ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে হলে নিম্নোক্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে-
১. পাসপোর্ট: আবেদনের সময় কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদসম্পন্ন পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের প্রথম চার পৃষ্ঠার ফটোকপিসহ মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন থাকলে সেটিও সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আগের সব পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
২. ছবি: সাম্প্রতিক সময়ে তোলা (তিন মাসের বেশি পুরোনো নয়) পূর্ণ মুখাবয়ব দৃশ্যমান ২×২ ইঞ্চি আকারের রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
৩. জন্মতারিখের প্রমাণপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি।
৪. আবাসিক ঠিকানার প্রমাণ: সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল, যেমন—বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিল (ছয় মাসের বেশি পুরোনো নয়)।
৫. পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণ: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের কপি।
৬. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: কমপক্ষে ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণস্বরূপ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৭. অনলাইন আবেদনপত্র: রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ পূরণকৃত অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র।
৮. ডিজিটাল ছবি আপলোড: আবেদনপত্রের নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
৯. পুরোনো পাসপোর্ট: সকল পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। অন্যথায় আবেদন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না। তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইভ্যাকের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে সব ধরনের ভিসা আবেদনের জন্য এই চার্জ ১ হাজার ৫০০ টাকা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় অনলাইনে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভিসা সেন্টার থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।
দীর্ঘ বিরতির পর ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় চিকিৎসা, ভ্রমণ ও পারিবারিক প্রয়োজনে ভারতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়সূচি ও অনলাইন প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত। এতে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সোমবার (২৯ জুন) থেকে আবেদন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে।
ভিসা আবেদন জমা নেওয়ার প্রথম দিনে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাকে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নিয়মিত ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। এরপর জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হলেও এতদিন পর্যটন ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থার অবসান ঘটলো। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার আইভ্যাক কেন্দ্রে এই সেবা চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরেও এটি চালু করা হবে বলে জানা গেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার অন্তত এক দিন আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। পর্যটন ভিসার আবেদন দেশের পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা থেকে জমা দেওয়া যাবে।
ভারতের ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরমের সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিংয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার আগের কার্যদিবসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট আগের কার্যদিবসেই প্রকাশ করা হবে।
প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আবেদনকারীরা সাইন-আপ ও ওয়েবফাইল আপলোড করতে পারবেন। যারা সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, কেবল তারাই একই দিন বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন।
সাইন-আপের সময় ভিসা আবেদনপত্রে ব্যবহৃত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের পর একটি ওটিপি ই-মেইলে এবং আরেকটি মোবাইল ফোনে পাঠানো হবে। উভয় ওটিপি যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন শেষ করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইন-আপ সম্পন্ন না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
সাইন-আপের পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করলে মোবাইলে নতুন একটি ওটিপি যাবে। সেটি যাচাই করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজে প্রবেশ করা যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করতে হবে। আপলোড করা নথি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে।
সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট দেখাবে। প্রয়োজনে সেটি একবার পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং চার্জ পরিশোধ করতে হবে। আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। কোনো সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল গ্রহণ করা হবে না।
ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে হলে নিম্নোক্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে-
১. পাসপোর্ট: আবেদনের সময় কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদসম্পন্ন পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের প্রথম চার পৃষ্ঠার ফটোকপিসহ মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন থাকলে সেটিও সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আগের সব পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
২. ছবি: সাম্প্রতিক সময়ে তোলা (তিন মাসের বেশি পুরোনো নয়) পূর্ণ মুখাবয়ব দৃশ্যমান ২×২ ইঞ্চি আকারের রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
৩. জন্মতারিখের প্রমাণপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি।
৪. আবাসিক ঠিকানার প্রমাণ: সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল, যেমন—বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিল (ছয় মাসের বেশি পুরোনো নয়)।
৫. পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণ: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের কপি।
৬. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: কমপক্ষে ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণস্বরূপ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৭. অনলাইন আবেদনপত্র: রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ পূরণকৃত অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র।
৮. ডিজিটাল ছবি আপলোড: আবেদনপত্রের নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
৯. পুরোনো পাসপোর্ট: সকল পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। অন্যথায় আবেদন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না। তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইভ্যাকের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে সব ধরনের ভিসা আবেদনের জন্য এই চার্জ ১ হাজার ৫০০ টাকা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় অনলাইনে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভিসা সেন্টার থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।
দীর্ঘ বিরতির পর ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় চিকিৎসা, ভ্রমণ ও পারিবারিক প্রয়োজনে ভারতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়সূচি ও অনলাইন প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

দুই বছর পর চালু ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা, প্রথম দিনেই দীর্ঘ লাইন
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালু করেছে ভারত। এতে উভয় দেশের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। রবিবার (২৮ জুন) থেকে দেশের পাঁচটি ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) এই ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সোমবার (২৯ জুন) থেকে আবেদন জমা নেওয়া শুরু হয়েছে।
ভিসা আবেদন জমা নেওয়ার প্রথম দিনে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাকে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নিয়মিত ভিসা ইস্যু বন্ধ করে দিয়েছিল ভারত। এরপর জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে মেডিকেল, বিজনেস ও স্টুডেন্ট ভিসা দেওয়া হলেও এতদিন পর্যটন ভিসা পুরোপুরি বন্ধ ছিল।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দায়িত্ব নেওয়ার পর এই অচলাবস্থার অবসান ঘটলো। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনার আইভ্যাক কেন্দ্রে এই সেবা চালু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শহরেও এটি চালু করা হবে বলে জানা গেছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভিসা আবেদনকারীদের আবেদন জমা দেওয়ার অন্তত এক দিন আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। পর্যটন ভিসার আবেদন দেশের পাঁচটি ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)-ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা থেকে জমা দেওয়া যাবে।
ভারতের ভিসার জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন ফরমের সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর সেটি ডাউনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট বুকিংয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হবে।
ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার আগের কার্যদিবসে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে হবে। পরবর্তী কার্যদিবসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট আগের কার্যদিবসেই প্রকাশ করা হবে।
প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আবেদনকারীরা সাইন-আপ ও ওয়েবফাইল আপলোড করতে পারবেন। যারা সফলভাবে ওয়েবফাইল আপলোড করবেন, কেবল তারাই একই দিন বিকেল ৫টা থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সুযোগ পাবেন।
সাইন-আপের সময় ভিসা আবেদনপত্রে ব্যবহৃত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের পর একটি ওটিপি ই-মেইলে এবং আরেকটি মোবাইল ফোনে পাঠানো হবে। উভয় ওটিপি যাচাই সম্পন্ন হওয়ার পর ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন শেষ করতে হবে। বিকেল সাড়ে ৪টার আগে সাইন-আপ সম্পন্ন না করলে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা যাবে না।
সাইন-আপের পর মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। লগইন করলে মোবাইলে নতুন একটি ওটিপি যাবে। সেটি যাচাই করার পর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজে প্রবেশ করা যাবে। সেখানে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আপলোড করতে হবে। আপলোড করা নথি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় তথ্য সিস্টেমে যুক্ত হবে।
সন্ধ্যা ৬টায় অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট চালু হলে পুনরায় লগইন করতে হবে। তখন সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী দিনের একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লট দেখাবে। প্রয়োজনে সেটি একবার পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার পর অনলাইনে ভিসা প্রসেসিং চার্জ পরিশোধ করতে হবে। আপলোড করা ওয়েবফাইল অবশ্যই মূল ভিসা আবেদনপত্রের পিডিএফ হতে হবে এবং তা ৩০ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। কোনো সম্পাদিত বা বিকৃত ফাইল গ্রহণ করা হবে না।
ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে হলে নিম্নোক্ত নথিপত্র জমা দিতে হবে-
১. পাসপোর্ট: আবেদনের সময় কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদসম্পন্ন পাসপোর্ট থাকতে হবে এবং অন্তত দুটি খালি পৃষ্ঠা থাকতে হবে। পাসপোর্টের প্রথম চার পৃষ্ঠার ফটোকপিসহ মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন থাকলে সেটিও সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি আগের সব পাসপোর্ট জমা দিতে হবে।
২. ছবি: সাম্প্রতিক সময়ে তোলা (তিন মাসের বেশি পুরোনো নয়) পূর্ণ মুখাবয়ব দৃশ্যমান ২×২ ইঞ্চি আকারের রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
৩. জন্মতারিখের প্রমাণপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি।
৪. আবাসিক ঠিকানার প্রমাণ: সাম্প্রতিক ইউটিলিটি বিল, যেমন—বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিল (ছয় মাসের বেশি পুরোনো নয়)।
৫. পেশাগত পরিচয়ের প্রমাণ: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার প্রত্যয়নপত্র, শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের কপি।
৬. আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: কমপক্ষে ১৫০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের কপি অথবা পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণস্বরূপ হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
৭. অনলাইন আবেদনপত্র: রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ পূরণকৃত অনলাইন ভিসা আবেদনপত্র।
৮. ডিজিটাল ছবি আপলোড: আবেদনপত্রের নির্ধারিত স্থানে আবেদনকারীর ছবি স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
৯. পুরোনো পাসপোর্ট: সকল পুরোনো পাসপোর্ট জমা দিতে হবে। অন্যথায় আবেদন অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
ভারত সরকার ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য কোনো ভিসা ফি নেয় না। তবে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইভ্যাকের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে হয়। বর্তমানে সব ধরনের ভিসা আবেদনের জন্য এই চার্জ ১ হাজার ৫০০ টাকা। অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিংয়ের সময় অনলাইনে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে।
ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ভিসা সেন্টার থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করা যাবে।
দীর্ঘ বিরতির পর ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় চিকিৎসা, ভ্রমণ ও পারিবারিক প্রয়োজনে ভারতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনকারীদের নির্ধারিত সময়সূচি ও অনলাইন প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

আজ থেকে চালু হচ্ছে ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা
নীলফামারীতে ভিসা প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
বাংলাদেশিদের আজ থেকে ই-ভিসা দেবে ফিলিপাইন
দুই দিনে মিলবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা


