শিরোনাম

পর্বতের চূড়ায় পালিত হলো সাদা পোশাকের আধ্যাত্মিক উৎসব

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
পর্বতের চূড়ায় পালিত হলো সাদা পোশাকের আধ্যাত্মিক উৎসব
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পিটার ডিউনভ এ উৎসবের সূচনা করেন করেন

বুলগেরিয়ার রিলা পর্বতমালার উঁচুতে হাজার হাজার মানুষের নীরব কিন্তু বর্ণিল উপস্থিতি। ধবধবে সাদা পোশাক পরে শান্ত ভঙ্গিতে সুরের তালে পা মেলাচ্ছেন নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা। ‘ইউনিভার্সাল হোয়াইট ব্রাদারহুড’ নামের এক আধ্যাত্মিক গোষ্ঠীর অনুসারীরা তাদের নতুন আধ্যাত্মিক বর্ষ উদযাপন করতে পাহাড়ের চূড়ায় সমবেত হয়েছেন। বিশ্বজুড়ে অন্যতম বিরল ও দৃষ্টিনন্দন আধ্যাত্মিক উৎসব হিসেবে পরিচিত এই আয়োজন ১৯ আগস্ট মূল আচারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

এ আধ্যাত্মিক ধারাটির পথচলা শুরু হয়েছিল আজ থেকে এক শতকেরও বেশি আগে, ১৮৯৭ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ও বোস্টনে পড়ালেখা শেষ করে দেশে ফিরে বুলগেরীয় ধর্মতত্ত্ববিদ পিটার ডিউনভ বুলগেরীয় জনগণের ধর্মীয় চেতনার উন্নয়নের জন্য সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিউনভ একজন প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং তার এই চিন্তাধারা রূপ নেয় এক বৈশ্বিক আন্দোলনে।

পুরো আগস্ট মাসজুড়েই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,১০০ মিটার উঁচুতে রিলা পর্বতের একটি মালভূমিতে জড়ো হতে থাকেন অনুসারীরা। প্রতিদিন সকালে খোলা আকাশের নিচে অনুসারীরা এক বা একাধিক গোল বৃত্ত তৈরি করে দাঁড়ান। বৃত্তের ঠিক মাঝে থাকেন সংগীতশিল্পীরা, যাদের প্রধান বাদ্যযন্ত্র বেহালা। সুরের তালে তালে সুনির্দিষ্ট শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তারা ‘প্যানিউরিথমি’ নামে একটি বিশেষ প্রার্থনারীতি সম্পন্ন করেন। শারীরিক ও মানসিক এই চর্চাকে অনেকে ‘বুলগেরীয় তাই চি’ বলেও ডেকে থাকেন। প্রতিষ্ঠাতা ডিউনভের বিশ্বাস ছিল, বছরের ১৯ আগস্ট প্রকৃতিতে ‘মহাজাগতিক শক্তির’ উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি থাকে, আর তাই এই দিনে মূল অনুষ্ঠানটি সবচেয়ে বড় পরিসরে উদযাপিত হয়।

দলের নাম শুনে অনেকের মনেই বর্ণগত বিভাজনের ভাবনা আসতে পারে, তবে সংগঠনের বর্তমান প্রতিনিধিরা তা নাকচ করেন। তারা জানান, ‘শ্বেত’ বা সাদা শব্দটির পেছনে কোনো বর্ণবাদী অর্থ নেই। বরং এটি আধ্যাত্মিক বিশুদ্ধতা, সাদা আলো এবং পৃথিবীর সব রঙের একীভূত হওয়াকে প্রকাশ করে। এখানকার বেশিরভাগ অনুসারী নিজেদের সক্রিয় খ্রিস্টান মনে করলেও বুলগেরীয় অর্থোডক্স চার্চ কখনোই আন্দোলনটিকে খুব সুনজরে দেখেনি। এমনকি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত ফরাসি সরকারের এক নথিতে ফ্রান্সে সক্রিয় থাকা এই দলের জনাবিশেক সদস্যের কথা তুলে ধরে আন্দোলনটিকে একটি পৃথক সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

পাহাড়ের কনকনে বাতাসের মধ্যে বেহালার মধুর সুর আর সুসংবদ্ধ শারীরিক কসরতের প্রার্থনা শেষ হতে না হতেই শুরু হয় আরেক দৃশ্য। দীর্ঘ অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা পরম মমতায় একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। আর এর মাধ্যমেই শেষ হয় প্রকৃতির কোলে আয়োজিত অনন্য এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলা।

/এমএকে/