শিরোনাম

নরওয়ের জনপ্রিয় রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড আর নেই

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
নরওয়ের জনপ্রিয় রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড আর নেই
রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড

দীর্ঘ ৩৫ বছরের শাসনকালের ইতি টেনে বিদায় নিলেন নরওয়ের জনপ্রিয় ও সংস্কারমুখী শাসক রাজা পঞ্চম হ্যারাল্ড। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে অসলো ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। অসলো রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর পরই রাজপ্রাসাদের ছাদে রাজকীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়। বিরল রক্তজনিত ব্যাধি ‘হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়ায়’ আক্রান্ত হয়ে গত সপ্তাহে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এ রোগে লোহিত রক্তকণিকা দ্রুত কমে যাওয়ায় শরীরে মারাত্মক ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকেরা জানান, জীবনের শেষ ২৪ ঘণ্টায় রাজপরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে তার পাশে ছিলেন। অন্যদিকে প্রিয় রাজাকে শেষ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রাসাদের বাইরে ফুল হাতে ভিড় জমান সর্বস্তরের মানুষ।

রাজা হ্যারাল্ডের প্রয়াণে নরওয়ের রাজসিংহাসনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন ৫৩ বছর বয়সী ছেলে ক্রাউন প্রিন্স হাকন। ক্ষমতা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুক্রবারই সরকারের সঙ্গে একটি বিশেষ ‘কাউন্সিল অব স্টেট’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চতুর্দশ শতাব্দীর পর রাজা হ্যারাল্ডই ছিলেন নরওয়ের প্রথম শাসক, যিনি নিজ ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের কড়া প্রথা ভেঙে একজন সাধারণ পরিবারের নারীকে বিয়ে করে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। সাড়ে তিন দশকের শাসনামলে আধুনিক চিন্তা ও উদার মনোভাবের জন্য সবার মন জয় করে নিয়েছিলেন। সংকটময় মুহূর্তগুলোতে দেশবাসীকে একসূত্রে বাঁধার অসামান্য ক্ষমতার কারণে জনগণ তাকে ‘জনতার রাজা’ ও ‘দাদার মতো অভিভাবক’ হিসেবে দেখত। এর আগে তার পিতা রাজা ওলাভ পঞ্চমও এমন সম্মান পেয়েছিলেন।

জাতির প্রতিটি কঠিন সময়ে তিনি ছিলেন সাহস ও ঐক্যের প্রতীক। ২০১১ সালে অসলো ও উতোইয়া দ্বীপে ভয়াবহ বোমা ও বন্দুক হামলায় দেশ যখন শোকে ও আতঙ্কে স্তব্ধ, তখন পুরো জাতিকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘ভয়কে কখনো জয়ী হতে দেবেন না’।

সূত্র: বিবিসি

/এমএকে/