শিরোনাম

ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে সেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প

সিটিজেন ডেস্ক
ইরানের ইউরেনিয়াম দখলে সেনা পাঠানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: টাইম ম্যাগাজিন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো– ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ধরনের অভিযান হলে তা কয়েক দিন ধরে চলতে পারে এবং এতে বিপজ্জনক পারমাণবিক উপাদান নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ জড়িত থাকবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন মিশন অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা ৬০ শতাংশ বা তার বেশি মাত্রায় সমৃদ্ধ। এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম অল্প সময়ের মধ্যেই অস্ত্র-যোগ্য মাত্রায় উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, ইরান যেন এই পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করে এবং তাদের কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করে।

তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে না। ফলে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা ও মতবিরোধ চলছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করে দেয়, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তবে এর মানে এই নয় যে কোনো অভিযান অনুমোদিত হয়েছে।

গত সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন রয়েছে। ছবি: ইউএস মেরিন কর্পস
গত সপ্তাহে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে, যার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ মেরিন রয়েছে। ছবি: ইউএস মেরিন কর্পস

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তথ্য অনুযায়ী, ইরানের অধিকাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইসফাহান ও নাতাঞ্জ অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব স্থাপনা অতীতেও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল বলে জানা যায়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হাজার হাজার মার্কিন সেনা ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে মেরিন ও অন্যান্য বিশেষ বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অপারেশনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।

ট্রাম্প সম্প্রতি আরও মন্তব্য করেছেন, ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের কৌশলগত জ্বালানি কেন্দ্র দখলের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

চলমান সংঘাতের মধ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদে বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সংকট সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করতে চায়।

অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার কথা বললেও বাস্তবে সামরিক পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। দেশটির সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ দাবি করেছেন, এসব কূটনৈতিক বার্তা আসলে আড়ালে আক্রমণের প্রস্তুতির অংশ।

এ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও। তেলের দাম বেড়েছে, জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

/এসএ/