শিরোনাম

রাখাইনে বিমান হামলা, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে টহল জোরদার

কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার প্রতিনিধি
রাখাইনে বিমান হামলা, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টেকনাফ সীমান্তে টহল জোরদার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদীতে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বিজিবি

মিয়ানমারের সংঘাতপ্রবণ রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা শুরু করেছে দেশটির সরকারি জান্তা বাহিনী। আরাকান আর্মির আস্তানা লক্ষ্য করে রাতভর যুদ্ধবিমান থেকে বোমা নিক্ষেপ ও গোলাবর্ষণের শব্দে টেকনাফ ও উখিয়ার সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় নতুন করে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকাগুলোকে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ, হ্নীলা, হোয়াইক্যং ও নেটংপাড়া সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যের রাজধানী আকিয়াব থেকে যুদ্ধবিমান উড়ে এসে মংডুতে আরাকান আর্মির অবস্থানে হামলা চালিয়ে ফিরে যাচ্ছে। প্রতিবার একসঙ্গে পাঁচ থেকে ছয়টি শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

সূত্রগুলো জানায়, বুধবার (১ জুলাই) রাত সোয়া ৯টার দিকে মংডু টাউনশিপে বিমান হামলা শুরু করে জান্তা বাহিনী। রাত সোয়া ১১টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় দুটি যুদ্ধবিমান অন্তত ২৭ বার হামলা চালায়। আরাকান আর্মিও পাল্টা হামলা চালায়।

উখিয়া-৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার রাতে রাখাইনে বিমান হামলার শব্দ শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে অতিরিক্ত টহল দেওয়া হচ্ছে।

সবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, সংঘাত আরও বাড়লে নতুন করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করতে পারে।

উখিয়ার একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের নেতা মো. জুবায়েরের দাবি, হামলায় বহু ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাস্তচ্যুত হয়েছে। একই সময়ে স্থলপথে আরাকান আর্মির সঙ্গে তিনটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘর্ষও চলছে। এতে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।

২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর টানা ১১ মাসের যুদ্ধের পর আরাকান আর্মি মংডু, বুথিডং ও রাথেডংসহ রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। বর্তমানে রাজধানী সিত্তে সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিমান হামলাগুলো সেখান থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।

মিয়ানমারভিত্তিক কয়েকটি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বুথিডং টাউনশিপের একটি মুসলিম গ্রামে বিমান হামলায় হতাহতের পাশাপাশি ১০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ১৭ ও ২৪ জুন মংডু ও কিয়াউকতাও এলাকায় বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নাফ নদী ও সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

/বিবি/