শিরোনাম

মার্কিন ৭ প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা

সিজেডএন ডেস্ক
সিজেডএন ডেস্ক
মার্কিন ৭ প্রতিষ্ঠানের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক শুল্ক আরোপ ও বিধিনিষেধের জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বেইজিং। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কোনো চীনা নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত মার্কিন ফার্মগুলোর সঙ্গে ব্যবসা বা কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না।

আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বহুল আলোচিত বৈঠকের কথা রয়েছে। হাই-প্রোফাইল সফরের ঠিক আগমুহূর্তে দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত যুদ্ধকে নতুন করে উসকে দিল।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নেওয়া একপেশে পদক্ষেপের মুখে এটি তাদের আত্মরক্ষামূলক জবাব। নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে আমেরিকার একটি বায়োটেক ও একটি রিসোর্স অ্যানালিটিক্স ফার্মসহ মোট সাতটি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন, ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও সম্পর্কিত প্রযুক্তি রপ্তানির নিয়মেও কঠোরতা বাড়িয়েছে বেইজিং। মূলত উইঘুরসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে গত সপ্তাহে ৪৩টি চীনা কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন।তারই পাল্টা জবাব হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে চীন।

শুধু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানেই থামেনি বেইজিং, সরকারি কাজে ব্যবহৃত বিদেশি সফটওয়্যারযুক্ত যন্ত্রপাতির ওপর নিরাপত্তা তদন্তও শুরু করেছে তারা। একই সঙ্গে কারখানার উৎপাদন ও ট্র্যাকিং নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলতে থাকা যৌথ পরিদর্শন কাজ স্থগিত করা হয়েছে।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বেইজিংয়ের সামনে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। ওয়াশিংটনকে ভুল পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানান তিনি। মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দেন, আমেরিকা নতুন করে আক্রমণাত্মক হলে চীন আরও কঠোর হতে বাধ্য হবে।

ট্রাম্প প্রশাসনও বেইজিংয়ের ওপর চাপ বাড়াতে পিছপা হচ্ছে না। জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি তারা চীনা পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসিয়েছে। পাশাপাশি ইরানি জ্বালানি পরিবহনের অভিযোগে চীনা শিপিং কোম্পানির ওপর কড়াকড়ি এবং পেন্টাগনের কালো তালিকায় চীনের শীর্ষ দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যুক্ত করেছে ওয়াশিংটন। এমনকি চীনা এআই ফার্মগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকিও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তি ও অর্থনীতির ময়দানে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে দুই পরাশক্তি এখন মুখোমুখি লড়াইয়ে।

সূত্র: সিএনএন

/এমএকে/