আগামী সপ্তাহেই ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী: এনডিটিভি

আগামী সপ্তাহেই ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী: এনডিটিভি
সিজেডএন ডেস্ক

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে, আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যেতে পারেন। সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ আগস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।
এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায় নরেন্দ্র মোদির সরকার। এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার (কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা প্রাপ্ত) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।
নতুন কৌশল নির্ধারণ
এনডিটিভি লিখেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
তবে গত নির্বাচনের পর থেকে দিল্লি ও ঢাকা দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে; তবে সেজন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘বড় ইস্যু’
এনডিটিভি লিখেছে, ভারত সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে।
পানি বণ্টনও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষর হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও জরুরি। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সফরটি সব বিরোধের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে– এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তবে তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বৈঠক দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমাধানের নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে, আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যেতে পারেন। সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ আগস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।
এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায় নরেন্দ্র মোদির সরকার। এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার (কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা প্রাপ্ত) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।
নতুন কৌশল নির্ধারণ
এনডিটিভি লিখেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
তবে গত নির্বাচনের পর থেকে দিল্লি ও ঢাকা দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে; তবে সেজন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘বড় ইস্যু’
এনডিটিভি লিখেছে, ভারত সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে।
পানি বণ্টনও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষর হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও জরুরি। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সফরটি সব বিরোধের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে– এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তবে তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বৈঠক দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমাধানের নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগামী সপ্তাহেই ভারত যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী: এনডিটিভি
সিজেডএন ডেস্ক

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে, আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যেতে পারেন। সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লিতে প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ আগস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।
এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানায় নরেন্দ্র মোদির সরকার। এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার (কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা প্রাপ্ত) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।
নতুন কৌশল নির্ধারণ
এনডিটিভি লিখেছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
তবে গত নির্বাচনের পর থেকে দিল্লি ও ঢাকা দুই পক্ষ থেকেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে; তবে সেজন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘বড় ইস্যু’
এনডিটিভি লিখেছে, ভারত সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে।
পানি বণ্টনও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষর হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও জরুরি। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সফরটি সব বিরোধের তাৎক্ষণিক সমাধান করবে– এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে না। তবে তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদির সরাসরি বৈঠক দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও সমাধানের নতুন পথ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক
শেখ হাসিনার বক্তব্যকে সমর্থন করে না ভারত: জয়সওয়াল 






