শিরোনাম

সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু বেড়ে ৮

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
সীতাকুণ্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু বেড়ে ৮
উদ্ধার শ্রমিককে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে নিহত বেড়ে ৮ জন হয়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের স্টেশন রোড এলাকার ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড নামের একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া ৮ শ্রমিকের মধ্যে চারজনের নাম–পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন– সানি জলদাস, পলাশ জলদাস এবং দুই সহোদর মনসুর আলী ও নাসির উদ্দিন। তারা ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সকালে হঠাৎ করে কারখানার ভেতর থেকে মানুষের চিৎকার শুরু হয়। তারা কারখানায় গেলে দেখতে পান, অসুস্থ কিছু লোককে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর স্ক্র্যাপ জাহাজের ভেতরে কয়েকজন মৃত পড়ে রয়েছেন– এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কারখানার মালিকের প্রতিনিধি মো. মহিউদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, তিনি কারখানার বাইরে রয়েছেন। কারখানা থেকে তিনি জেনেছেন, জাহাজে থাকা ৬ থেকে ৮ জন কর্মী অসতর্কতায় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়েছেন। কারখানায় গিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাবেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ইশতিয়াক রহমান জানান, ওই কারখানা থেকে দুই দফায় ৭ জনকে হাসপাতালে আনা হয়। এর মধ্যে ছয়জনকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। অপরজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সকালে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড ও রিসাইক্লিং কারখানায় যে জাহাজ কাটা হচ্ছে, সেটি এলএনজি বহন করত। এ ধরনের জাহাজগুলো আগে গ্যাসমুক্ত করে তারপর কাটতে হয়। কিছু কিছু ট্যাংকে ফ্লোরিন, কার্বন মনোক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকতে পারে।

তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ ট্যাংক গ্যাসমুক্ত না করে কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

/এসআর/